খুলনার মোট উৎপাদিত তরমুজের ৬০-৬৫ শতাংশই চাষ হয় উপকূলীয় জনপদ দাকোপে। এখানকার নোনামাটির সুস্বাদু তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কম জমিতে ফলটি আবাদ হলেও দাম বেশি পাওয়ায় খুশি কৃষক। এবার ২৮৩ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বাণিজ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম মাকসুদুন্নবী বলেন, ‘২০২০ সালে দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। পরের বছর দ্বিগুণের বেশি ৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ওই বছর ভালো দাম পাওয়ায় ২০২২ সালে জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টরে। তবে গত বছর হঠাৎ দরপতন, তার ওপর ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ব্যাপক মার খান চাষীরা। যে কারণে চলতি বছর ৬ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে ফলন কম ও আকার ছোট হলেও কৃষক দাম পেয়েছেন ভালো।’ 

উপজেলা এ কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘গড় হিসাব অনুযায়ী এবার ২০ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার কেজি তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। গড়ে ১৪ টাকা কেজি ধরা হলে ২৮৩ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার আর বিঘাপ্রতি ৬৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হবে।’

উপজেলার কৈলাসগঞ্জ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সিন্ধু রায় জানান, এবার তিনি নয় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বীজে অতিরিক্ত ভেজালের কারণে তরমুজের আকার অনেক ছোট হয়েছে। তার পরও দামে খুশি তিনি। এরই মধ্যে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় দালাল, ফড়িয়া, পরিবহন সিন্ডিকেট, ফেরিঘাটে যানজটে ট্রাকের দীর্ঘ লাইন এবং ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় না হলে আরো দাম পাওয়া যেত বলে জানান তিনি।