নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় বেলা তিনটা থেকে এ বৈঠক শুরু হয়েছে, যা চলবে রাত আটটা পর্যন্ত। এরই
মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি সরকারের
কাছে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকের আমন্ত্রণ পেয়েছে জিএম কাদেরের
নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এছাড়াও মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, লিবারেল
ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশ জাসদ, ১২ দলীয় জোট ও
গণফোরাম। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার চার দিনের মাথায় ১২ ও ১৩
আগস্ট বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী, কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) কয়েকটি
দল ও জোটের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকের কার্যক্রম তুলে ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা
মুহাম্মদ মামুনুল হক গণমাধ্যমকে জানান, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি
উপস্থাপন করেছি। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিহতসহ সম্প্রতি
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি
করেছি। ৫ মে ও পরবর্তী সময়ে হেফাজতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে দেয়া
মামলাগুলো এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান
জানিয়েছেন উল্লেখ করে মামুনুল বলেন, আমরা সহযোগিতা করার প্রত্যয় জানিয়েছি। নির্বাচন
ও প্রশাসনসহ সব খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার দাবি
জানিয়েছি।
সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে লিখিত আকারে যে দাবিগুলো
প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হলো—
১. প্রয়োজনীয়
সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
ক. নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের
সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সেজন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের
বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের
ব্যবস্থা করা।
খ. নির্বাচনবিধি সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার
পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার
ব্যবস্থা করা। যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।
২. সাংবিধানিক
সংস্কার
ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের
জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।
খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা
বন্ধ করা।
গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।
ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।
৩. বিচারব্যবস্থা
ক. বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার
বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল
কাউন্সিল গঠন করা।
৪. শিক্ষাব্যবস্থা
শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ
দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।
৫. পুলিশ ও
প্রশাসন
পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে
তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।
৬. ধর্মীয়
আইন
কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন ও নীতি প্রণয়ন না করা।










