জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রামের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিঠি প্রত্যাহার এবং শিক্ষা কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে চলমান রাখার দাবিতে ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিলেও অন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সমাধনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর লুৎফর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেন ও ডিন প্রফেসর ড. মো. আবুদ্দারদা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৪-২৫ সেশনে অন ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি সার্কুলারের ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উপরন্তু শিক্ষার্থী ও অনার্সের তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি সার্কুলারের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত চিঠি প্রত্যাহারের ব্যাপারে দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাই অবিলম্বে আন্দোলনরতদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।










