পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন ৩৫ বছর বয়সী রাশিদা বেগম। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শরণাপন্ন হন তিনি। গত মঙ্গলবার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ থেকে এসে সরাসরি ভর্তি হন হাসপাতালটিতে। গুরুতর অসুস্থ এ রোগীর অপারেশনের তারিখও দেয়া হয়েছিল। যদিও চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঝুলে পড়েছে তার অপারেশন।
শুধু রাশিদা নয়, এ রকম অপারেশনের রোগী রয়েছেন অর্ধশতাধিক। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একজন চিকিৎসকের দেয়া তথ্যমতে, রোববার দুজনকে অপারেশন থিয়েটার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচজনের অপারেশনের তারিখ বাতিল হয়েছে। সোমবার আরো চার-পাঁচজনের অপারেশন ছিল। তাদেরও অপারেশন হয়নি।
জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ চার দফা দাবিতে দেশের সব চিকিৎসক ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা দেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। পরে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করে ১ সেপ্টেম্বর রাতে শর্তসাপেক্ষে কাজে যোগ দেন চিকিৎসকরা। শর্ত অনুযায়ী, এ রাতে কেবল জরুরি বিভাগের সেবা দেয়া হয়। সে হিসেবে রোববার দিনভর হাসপাতালের রুটিন অস্ত্রোপচার ও বহির্বিভাগ বন্ধই ছিল।
গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ। রোগীরা বাইরে অপেক্ষা করছেন কখন খুলবে কাউন্টার। অনেকে সেবা বন্ধ আছে জানতে পেরে চলে যাচ্ছেন। বহির্বিভাগের তথ্য কেন্দ্রে থাকা কর্মচারীরা জানান, বহির্বিভাগে কোনো ডাক্তার বসেনি,৷ তাই টিকিট কাউন্টার বন্ধ। তবে ইমার্জেন্সি সেবা চালু রয়েছে। এদিকে ইমার্জেন্সি বিভাগে কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা যায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।
গতকাল বিকালে কর্মসূচি নিয়ে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে বলা হয়, গতকাল (রোববার) সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের সব হাসপাতালে আমাদের ইমার্জেন্সি সেবা চালু রেখেছি, সেটা চলমান রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে চলমান থাকবে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে আগামীকাল (আজ) থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সীমিত পরিসরে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দেশের সব হাসপাতালে আউটডোর সেবা চালু থাকবে এবং দেশের সব হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ইনডোর সেবা ও রুটিন ওয়ার্ক পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।” রোগীদের স্বার্থে প্রাইভেট চেম্বারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার সুযোগ দেয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে দুই দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—প্রথমত, এখনো যে সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হয়নি অতিদ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অতি দ্রুত চিকিৎসক ও রোগীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন এবং হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্বাস্থ্য পুলিশ নিয়োগের খসড়া প্রণয়ন করা।”










