দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ঘুষ, সুপারিশ কিংবা দালালের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শুধুমাত্র আবেদন ফির মাধ্যমে চাকরি পেয়ে আনন্দে কাঁদলেন তরুণ-তরুণীরা। তাদের স্বজনরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এমন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশে চাকরি পেয়ে তারা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত :
লক্ষ্মীপুর : শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ৩২ তরুণ-তরুণী। গতকাল রোববার রাতে জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জেলা পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তালিকা প্রকাশের পরপরই উত্তীর্ণরা ও তাদের স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এমন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশে চাকরি পেয়ে তারা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে যারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মাত্র ১০১ টাকা খরচ হয়েছে। উত্তীর্ণদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকের মধ্যে ধারণা আছে পুলিশে চাকরি মানেই ঘুষ ও তদবিরের জোর লাগে। আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে নতুন করে দেশ গড়তে হবে। আশা করি, যারা এখন চাকরি পেয়েছেন তারা সততার সঙ্গে দেশের সেবায় কাজ করবেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইদুর রহমান, ফেনী জেলা; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা।
নেত্রকোনা : ১২০ টাকা আবেদন ফিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন নেত্রকোনার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দুজনসহ ৪২ জন তরুণ-তরুণী। শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে গতকাল রাত ১১টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম উত্তীর্ণদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “তোমরা ১২০ টাকায় চাকরি পেয়েছ, এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণে। আমরা চাই আগামী ছয় মাসের ট্রেনিং শেষে তোমরা যখন মাঠে ফিরবে, জনগণ যেন তোমাদের কাছে নিপীড়নের শিকার না হয়ে প্রকৃত সেবা পায়।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মাহফুজা খাতুন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার প্রমুখ।
পটুয়াখালী : বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন পটুয়াখালী জেলার ২৯ জন তরুণ-তরুণী। অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মেধা কোটার চারজন পুরুষ প্রার্থী। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১৮ মে) সকালে পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে নবনিযুক্ত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় জেলা পুলিশ প্রশাসন।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বিপিএম।
পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ (বিপিএম) বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। কোনো ধরনের তদবির, অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা দেশের সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২১ জন তরুণ-তরুণী।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় ডিস চ্যানেল, পত্রিকা, মাইকিং ও ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের বারবার সচেতন করা হয়। চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতারক ও দালালদের শরণাপন্ন না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ করতে সরকারি ফি বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আতিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোসফেকুর রহমান এবং ঝিনাইদহসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।










