প্রকাশ হয়েছে নীল বিদ্রোহের ইতিহাসের ওপর অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদের গবেষণাগ্রস্থ ‘মেমোরিজ অব ইন্ডিগো রেবেলিয়ন: রিটেইনড, ইরেজড, ট্রান্সমিউটেড’। এ উপলক্ষে আজ সকালে ইউপিএলের গ্রিনরোডের প্রধান কার্যালয়ে প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচক ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নিয়াজ জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী এবং বইটির লেখক, গবেষক ও নাট্যনির্দেশক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালযয়ের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ার, ইংরেজি ও আধুনিক ভাষা বিভাগ এবং ডেইলি স্টার বুকস অ্যান্ড লিটারেচারের সম্পাদক অধ্যাপক নাজিয়া মনজুর।

আলোচকরা বলেন, জনস্মৃতিতে নীল বিদ্রোহ নিয়ে বই ‘মেমোরিজ অব ইন্ডিগো রেবেলিয়ন’। ঔপনিবেশিক বাংলার অন্যতম ঐতিহাসিক অধ্যায় ‘নীল বিদ্রোহ’ (১৮৫৯-১৮৬২)-এর প্রভাব ও বর্তমান সমাজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে।

syed_jamil_ahmed2

অধ্যাপক ও গবেষক সৈয়দ জামিল আহমেদের বাংলাদেশের ১৪টি জেলায় চালানো মাঠপর্যায়ের গবেষণা, পুরোনো নথিপত্র এবং জনস্মৃতির ওপর ভিত্তি করে বিশদ আলোচনা স্থান পেয়েছে মেমোরিজ অব ইন্ডিগো রেবেলিয়ন বইয়ে। ঐতিহাসিক এ বিদ্রোহ আমাদের স্থানীয় সমাজ কীভাবে মনে রেখেছে, কী কী ভুলে গেছে এবং কীভাবে নতুন করে এর মূল্যায়ন করছে—তা এই গ্রন্থে ওঠে এসেছে।

বইটির মূল বিষয়বস্তু স্মৃতি ও বর্তমান, নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ, মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে নীল বিদ্রোহ কীভাবে আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন আলোচকরা। আলোচনায় বিস্মৃতি ও নতুন ব্যাখ্যায় তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকে নীল বিদ্রোহ কীভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর নতুন তাৎপর্য কী, তা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে এই বইটি একটি অনন্য সংযোজন। ইতিহাস কীভাবে আমাদের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরিতে ভূমিকা রাখে এবং স্মৃতির পেছনে কী ধরনের রাজনীতি কাজ করে—তা গবেষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে।