গণ-অভ্যুত্থানে পতনের পর ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত নির্দেশ দিলে ফেরত চাইবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ কথা জানান।

‘শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলে দিতে হবে’—গণমাধ্যমে এমন সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফেরত চাইলে দিতে হবে, আমি সেটি বুঝাইনি। আমি বলেছি, যদি লিগ্যাল প্রশ্ন আসে আমরা তো ফেরত চাইতেই পারি। যদি আইন-আদালত আমাদের বলে তাকে ফেরত আনার জন্য, তখন সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা থাকবে।’

দিতেই হবে এমন কোনো বিষয় আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভারত ফেরত দেবে কিনা সেটা তাদের বিষয়। চুক্তি আছে আমাদের। চাইলে দিতে পারার কথা। এখানে লিগ্যাল প্রসেস থাকে। আমি জানি না সেটা কীভাবে হবে। যদি লিগ্যাল সিস্টেম চায় তাকে ফেরত আনতে হবে তাহলে অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব।’

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের স্ট্যাটাসটা কী, তিনি কী হিসেবে থাকছেন? জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা বরং ভারতীয়দের জিজ্ঞেস করুন। লাল পাসপোর্ট অটোমেটিক্যালি বাতিল হয়েছে। এটা ভারতীয়দের জিজ্ঞেস করুন কী স্ট্যাটাসে তিনি সেখানে আছেন।’ 

আমাদের এখানে ভারতের যেসব প্রকল্প ছিল সেগুলো এখন পড়ে আছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেকোনো বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পর কিন্তু একটু ক্যাওয়াজ থাকতেই পারে। আমাদের এখানে তো আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে একটু সমস্যা ছিল, সেটা অস্বীকার করে লাভ নেই। সেটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পেরেছি। আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সবকিছু নরমাল হলে তারা নিরাপত্তা বোধ করবেন ও আসবেন। কারণ চলমান প্রকল্পগুলো তো আমাদের শেষ করতে হবে।’ 

এক ধরনের ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। যারা এখানে কাজ করেন তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন এমন প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, ‘এক ধরনের ভীতির মধ্যে আছেন সেটি বলি, আতঙ্ক না বলি। সে ভীতি থেকে আশা করি তারা বেরিয়ে আসতে পারবেন।’

ভারতের সঙ্গে সর্বশেষ এমওইউ বর্তমান সরকার পুনর্বিবেচনা করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমওইউ চূড়ান্ত চুক্তি নয়। কাজেই এখানে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কিনা, সেটি তো আমরা দেখতেই পারি। সে অনুযায়ী স্বার্থ রক্ষা করে যা করা দরকার আমরা করব।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো সেটেলমেন্ট হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে তো অভ্যন্তরীণ সেটলমেন্টই হচ্ছে না, সেখানে আমরা এখনই কেন প্রত্যাশা করব।’