যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেছেন, পরবর্তী অর্থবছর থেকে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কেনার জন্য ঋণ সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে এ সুবিধা পেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় নতুন এ সুবিধা যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
আজ রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে তিনি এসব তথ্য জানান । নাগরিক প্লাটফর্ম আয়োজিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
সংলাপে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর দাবি জানান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, শিক্ষা খাতকে ব্যয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে পিছিয়ে থাকায় ডিজিটাল বৈষম্য বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপ কেনায় সরকারি ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের ঋণ দেয়া হচ্ছে। ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা রয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কেনার জন্য আলাদা ঋণ চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার শর্ত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন।
সংলাপে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিনিধি মোনালিসা বলেন, শুধু শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে হবে। অন্যথায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আরো বাড়বে। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ব্যয় ও ভ্যাটের চাপ নিয়েও উদ্বেগ জানান।
আলোচনায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ক্ষুদ্রঋণের ওপর কর আরোপ নারীদের উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্যে কর বৃদ্ধি ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। বক্তারা জনমুখী বাজেট, দক্ষতা উন্নয়ন, বেকার ভাতা এবং তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।










