নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তাৎক্ষণিক ছয়টি ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় ১৩টি প্রাক-প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত গতকাল ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে কী চাই?’ শিরোনামে একটি মতবিনিময় সভায় প্রাক-প্রস্তাব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

প্রাক-প্রস্তাব সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের মূল দাবি একটাই। সরকারের ঘাড়টা জনগণের দিকে ফেরাতে হবে। তাহলে সব দাবি পালিত হবে। সংবিধানে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ এ সংবিধানের অধীনে যে কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখন তিন দিক থেকে ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, যারা ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে, তারা স্বৈরতন্ত্রের সুবিধাভোগী। তাদের দিক থেকে একটি ঝুঁকি রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ডিজিএফআই, ডিবির মতো সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির দিক থেকে ঝুঁকি আসতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জায়গা থেকে ঝুঁকি আসতে পারে। স্বৈরতন্ত্র তাদের জন্য সুবিধাজনক। এই তিন দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রাক-প্রস্তাবে অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে তা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জুলাইয়ে যে গণহত্যা ও নৃশংসতা তার বিচারের জন্য সরকারকে আবেদন করতে হবে।’

প্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জনের প্রস্তাব ও প্রশ্ন গ্রহণ করে সংগঠনটি।

অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করণীয় ছয়টি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা; বিভিন্ন উপাসনালয় ও স্থাপনায় হামলা ঠেকানো এবং বিচার করা; জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ জনগণের ওপর জুলুমের জন্য দায়ীদের জাতিসংঘের সহযোগিতায় তদন্ত কমিটি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তদন্ত ও বিচার শুরু করা; কোটা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং নিহতের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা; সাম্প্রতিক সময়ের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আটকদের মুক্তি দেয়া এবং শিল্প-কলকারখানা খুলে দিয়ে সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।

প্রাক-প্রস্তাব মতবিনিময় সভায় আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন উপস্থিত ছিলেন। প্রাক-প্রস্তাব মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা।