গত ২৭ জুলাই প্যারিসের প্রাণকেন্দ্রে সিন নদীতে নৌ প্যারেডে ব্যতিক্রমী এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাত্রা ৩৩তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের। আজ ১৬তম দিন পর্দা নামছে এ আসরের। সন্ধ্যায় শেষ ইভেন্টে স্বর্ণের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের নারী বাস্কেটবল দল। এরপর স্তাদ দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে প্যারিসের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে অলিম্পিক গেমসকে বিদায় জানাবে প্যারিস। অলিম্পিক মশাল তুলে দেয়া হবে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের মেয়র কারেন ব্যাসের হাতে। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে যাবে ২০২৮ অলিম্পিকের অপেক্ষা।
শুরুতেই তাক লাগিয়ে দেয় প্যারিস। ইতিহাসে এই প্রথমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে মূল স্টেডিয়ামের বাইরে। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরেছে আয়োজকরা। সিন নদীতে ছোট-বড় নৌকা ও বার্জে চড়ে প্যারেডে অংশ নেন হাজার হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা। পাশাপাশি চলছিল লেডি গাগা, সেলিন ডিওন, মায়া নাকামুরাসহ বিশ্বখ্যাত সব সংগীতশিল্পীর পারফরম্যান্স। আরো নানা আয়োজনে মুগ্ধতা ছড়ায় সেদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
তবে পরিপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্ষুধা যেন থেকেই যায় কিছুটা। সেটি মাথায় রেখেই সমাপনী অনুষ্ঠান দিয়ে পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন আয়োজকরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতোই আর্টিস্টিক ডিরেক্টর টমাস জলি থাকছেন সমাপনী অনুষ্ঠানের নেপথ্যে। তিনি জানিয়েছে, নামিদামি শিল্পীদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে নানাভাবে, নানা আঙ্গিকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতো ‘ম্যাড়মেড়ে’ যেন কেউ না ভাবেন, সেই ইঙ্গিত তিনি দিয়ে রেখেছেন। প্রায় ১০০ পারফরমার, অ্যাক্রোব্যাট, ড্যান্সার ও সার্কাস আর্টিস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানে রঙ ছড়াবেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের বড় একটি অংশ থাকবে আকাশে। দর্শনীয় লাইটিং ও লেজার শো দিয়ে রঙিন করা হবে অনুষ্ঠানটি। জলি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অ্যাথলিটদের বিদায় রঙিন করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। সমাপনী শোটি হবে খুবই মনোমুগ্ধকর, থাকবে কোরিওগ্রাফিতে ভরা।’
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজকে শুরু থেকেই বিভিন্ন ভেনুতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলিটদের উৎসাহ দিতে। গুঞ্জন রয়েছে, আজ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করতে পারেন।
এবারের অলিম্পিকে আলো ছড়িয়েছেন যারা তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো—ফ্রান্সের লিওঁ মারশাঁ, যুক্তরাষ্ট্রের সিমোন বাইলস, কেটি লেডেকি, কানাডার সামার ম্যাকিনটশ। এরই প্রত্যেকেই ইতিহাস ও নতুন নতুন রেকর্ড গড়েছেন। নবমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়ে ছেলেদের পোলভল্টের স্বর্ণ জিতেছেন সুইডেনের আরমান্ড ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিস। আসরকে জমজমাট করেছেন, আরো আছে কত কত নাম। সব উত্তেজনা, উন্মাদনার শেষ হতে চলল আজ।










