ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার, আন্দোলন দমনে হয়রানিমূলক মামলা, দেশে বিদ্যমান মামলাজট কমাতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শপথ নেয়ার পর গতকাল মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইন উপদেষ্টার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে। মন্ত্রণালয়ে গতকাল সভার শুরুতেই ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তৃতায় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এত বড় গণ-আন্দোলন আর কখনো হয়নি। এ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিজয় হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রকৃত চেহারা।’ শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করেন তিনি।

সভায় মামলাজট কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন দমন করার জন্য যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনকে দমন করতে যেসব ফৌজদারি মামলা হয়েছে, সেগুলো আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রত্যাহার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে যেসব শিশু-কিশোর মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আটক রয়েছে, তাদের আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সন্ত্রাস দমন আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা করা হবে। আইন ও বিচার বিভাগের ১৬৪৩০ নম্বরে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ভিকটিম সাপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এরপর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন আইন উপদেষ্টা। সেখানেও বৈষম্য ও শোষণহীন দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে দ্রুত কাজ করার মিশনে নামতে হবে।’