চলমান পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পসহ বাংলাদেশের
সকল শিল্প কারখানা স্বাভাবিক নিয়মে চালু রাখতে উদ্যোক্তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন
তা সমাধানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ীরা। আজ রোববার (১১ আগস্ট) বিজিএমইএর
উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিএমইএ দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যবসায়ীদের
পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। আর নবম পদাতিক
বিভাগের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল
আলম, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি জাভেদ আখতার,
বিটিএমএ সভাপতি (ইনচার্জ) মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল
উদ্দিনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত
আইজিপি মো. মাহাবুবুর রহমান, সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্স কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ
মহিউদ্দিন এবং বিজিবি ও র্যাব প্রতিনিধিরা।
বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল
ইসলাম বলেন, জাতীয় জীবনের সাম্প্রতিক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধৈর্য্য ও বিচক্ষণতা
সহকারে যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ
সহযোগিতায় আজকের মধ্যে গাজীপুর এলাকার ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ কারখানা, সাভার-আশুলিয়া এবং
ধামরাই এলাকায় ৯৯ দশমিক ৫১ শতাংশ কারখানা, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ১০০ শতাংশ কারখানা, ডিএমপি
এলাকায় ১০০ শতাংশ কারখানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ১০০ শতাংশ পোশাক কারখানা খুলে গেছে।
বৈঠকে দেশের শিল্প কারখানাগুলোর বিভিন্ন
আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনায় বলা হয়, পোশাক শিল্প অধ্যুষিত
শিল্পাঞ্চলগুলোতে গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসের ঘটনা
ঘটছে। ঝুট সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গড়ে উঠেছে একাধিক সন্ত্রাসী
দল, যারা ওইসব এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরি করে এলাকার পরিবেশ অশান্ত রাখছে, মালিক পক্ষ
ও শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। পোশাক শিল্প এদের হাতে জিম্মি।
শিল্পকে এদের হাত হতে মুক্ত করার জন্য পোশাক
ব্যবসায়রা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে
রপ্তানিসহ সকল শিল্পের পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তার জন্যও অনুরোধ জানান। তারা উদ্বেগ
প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ
করা হয়, যার মাশুল দিতে হয় ব্যবসায়ীদের, এতে করে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতাও কমছে। একইভাবে ঢাকা বিমানবন্দরেও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা
ঘটে। ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য লোডিং
ও আনলোডিং দ্রুততর করা এবং ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে পণ্য খালাস দ্রুততর করার ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য সেনাহিনীর নবম পদাতিক বিভাগকে অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীরা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গঠিত জয়েন্ট
টাস্ক ফোর্সকে সাম্প্রতিক সময়ে ভাংচুর করা কারখানাগুলো পরিদর্শন করে উদ্যোক্তা ও শ্রমিক
ভাইবোনদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যও অনুরোধ
জানান।
বৈঠকে মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, এ
মুহূর্তে সেনাবাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে শিল্প যাতে
ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা নিশ্চিত করা। শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় টাস্কফোর্স গঠনের
মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্স রেই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
ঝুট ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে
যেসব সন্ত্রাসীরা মাঠে তৎপর রয়েছে, তাদের বৃত্তান্ত দেয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে
অনুরোধ জানান মেজর জেনারেল মো. মঈন খান। তিনি বলেন, আর একটিও কারখানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত
না হয়, তা শিল্প পুলিশ দেখবে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য লোডিং ও আনলোডিং আরো
দ্রুততর করার জন্য তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান। ঢাকা
বিমানবন্দরে আনলোডিং পরিষেবা দ্রুততর করা জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলবেন
বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।










