মেসার্স সুপ্রভ মিলাঞ্জ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও জনতা ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুদকের উপসহকারী পরিচালক এ এম তাহের মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— মেসার্স সুপ্রভ মিলাঞ্জ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন (৮১), পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিক (৫৫), জনতা ব্যাংকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের সাবেক এসইও বর্তমানে বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্প ঋণ বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামীম হোসেন (৪৮), জনতা ব্যাংকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রশীদ (৬৬) ও একই বিভাগের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (পরবর্তীতে মহাব্যবস্থাপক) মো. মাহফুজুর রহমান (৬২)।
দুদকের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সুপ্রভ মিলাঞ্জ স্পিনিং লিমিটেডের উদ্যোক্তাদের আর্থিক সঙ্গতি অর্থাৎ ব্যবসার পুঁজির সংস্থান না থাকা সত্ত্বেও যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে মর্টগেজকৃত জমির অতিমূল্যায়ন করে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার জমিকে ২৯১.৫৪০ মিলিয়ন টাকায় প্রাক্কলিত মূল্য নিরূপণ করেছেন। সুপ্রভ মিলাঞ্জ স্পিনিং লিমিটেড প্রকল্পের অনুকূলে জনতা ব্যাংক করপোরেট শাখার ১১৫ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেছেন। যা ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুদসহ স্থিতি ২৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এসব টাকা তারা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের এহাজারে বলা হয়েছে, মামলা তদন্তকালে আরো কোনো বিষয় বা অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আইনামলে আনা হবে। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঋণের টাকা বিতরণ করা হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ২০১৬ সালের ১ জুন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তখনকার উপপরিচালক মো. সামছুল আলমকে অনুসন্ধান এবং পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় কমিশন। এর মধ্যে মেসার্স সুপ্রভ মিলাঞ্জ স্পিনিং লিমিটেডের নামও ছিল।













