চিন্তার ব্যবধান থাকতেই পারে, তবে মানুষের কল্যাণে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে এক বাক্সে ভোট পড়বে বলেও আশা করেছে দল দুটির শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের বরিশালের বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। দল দুটোর শীর্ষ নেতা এ সময় কুশল বিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশীদের মর্যাদা নেই। কারণ হিসেবে তিনি দেশের দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে দায়ী করেন। ইসলামী দল হিসেবে আলাদা হলেও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব না থাকার কথা জানান জামায়াতের আমীর।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে কাটাতারের বেড়া দিয়ে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে সংস্থার প্রয়োজন তা আগে হোক। তারা সংস্কারের পরে জাতীয় নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।

এ সময় চরমোনাই পীর বলেন, গত ৫৩ বছরে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইসলামের পক্ষে কাজ করার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা ইসলামী দলগুলো কাজে লাগাতে না পারলে মানুষের অকল্যাণ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একযোগে কাজ করতে পারলে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলামী দলই থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মাসুদ সাঈদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ এসহাক, মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মামুনুর রশীদ ইউসুফী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর প্রমুখ।

দুপুরে চরমোনাই মাদ্রাসায় সফর শেষে বিকালে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন জামায়াতের আমির।