দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমশক্তি রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে জনসংখ্যা হ্রাস ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে আসার কারণে ভবিষ্যতে চীনকেই বিদেশী শ্রমিক নিয়োগের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে। যদিও এ পরিবর্তন এখনই আসছে না, জনমিতিক পরিস্থিতি দেশটির শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।
চীনের গ্রামীণ অভিবাসী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ বয়স্ক হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে তরুণদের অনেকে কম বেতনের, শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য ও অনিশ্চিত কাজ করতে আগ্রহী নন। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে এ সংকটের কিছুটা মোকাবেলা সম্ভব হলেও পরিচর্যা, নির্মাণ ও সেবার মতো সব খাতে মানুষের বিকল্প তৈরি করা কঠিন। এ পরিস্থিতিতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে চীনও নির্দিষ্ট খাতে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ শুরু করতে পারে।
তবে ভাষাগত বাধা, স্থায়ী বসবাসের সীমিত সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বিদেশী শ্রমিকদের আকৃষ্ট করার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। চীন বড় পরিসরে শ্রমিক নিয়োগ শুরু করলে এশিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মী পাঠানো দেশগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ ও অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে যে চীন একসময় বিপুল শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রভাব বিস্তার করেছে, ভবিষ্যতে সেই দেশই শ্রমশক্তি আমদানির মাধ্যমে এশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে]
জুয়ান ফার্নান্দো হেরেরা রামোস: সাংবাদিক










