সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত ত্বকের রোগ, যা মূলত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে ত্বকে লালচে, পুরু ও খসখসে দাগ দেখা যায়, যার ওপর সাদা বা রুপালি আঁশের মতো আবরণ থাকতে পারে। যে কারো সোরিয়াসিস হতে পারে, তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি
যাদের পরিবারে সোরিয়াসিসের ইতিহাস রয়েছে : বাবা-মা, ভাইবোন বা নিকটাত্মীয়ের সোরিয়াসিস থাকলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে বংশে রোগটি থাকলেই যে আক্রান্ত হতে হবে, এমন নয়।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি : শিশুদেরও সোরিয়াসিস হতে পারে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগটি বেশি দেখা যায়। যেকোনো বয়সেই প্রথমবার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন যারা : স্থূলতা সোরিয়াসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া যাদের রোগটি আগে থেকেই রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তুলতে পারে।
ধূমপান করেন যারা : ধূমপান সোরিয়াসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যাদের রোগটি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ধূমপান উপসর্গের তীব্রতা বাড়ানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
দীর্ঘদিন মানসিক চাপে রয়েছেন যারা : অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সোরিয়াসিসের উপসর্গ প্রথমবার দেখা দেয়া বা পুরনো উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তবে মানসিক চাপে থাকা প্রত্যেকেরই এ রোগ হবে, এমন নয়।
নির্দিষ্ট সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তি : বিশেষ করে স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াজনিত গলাব্যথার পর কিছু মানুষের সোরিয়াসিস দেখা দিতে বা উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। এইচআইভি সংক্রমণও এ রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করছেন যারা : কিছু ওষুধ, যেমন নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ সোরিয়াসিসের উপসর্গ শুরু করতে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত না।
কী করবেন?
কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক বা শরীরের অন্য অংশে লালচে ও পুরু খসখসে দাগ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে
ত্বকে শুষ্কতা ও চুলকানি থাকলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
ধূমপান এড়িয়ে চলুন, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন এবং নিজের উপসর্গ বাড়ায় এমন কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা
মনে রাখতে হবে, সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এ রোগ ছড়ায় না।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ও ন্যাশনাল সোরিয়াসিস ফাউন্ডেশন










