অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে চান। তবে চলমান যুদ্ধবিরতির শেষদিন আজ বুধবার পর্যন্ত পরিষ্কার নয়, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল এ সিদ্ধান্তে সম্মত হবে কি-না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ‘ইরানের ওপর আমাদের হামলা স্থগিত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র, যতক্ষণ না তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেন এবং আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি যাই হোক না কেন।’

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখবে মার্কিন নৌবাহিনী। কিন্তু বিষয়টিকে ‘যুদ্ধের সমতুল্য’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেহরান।

আজ ভোর পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেহরান থেকে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলোয় এ মন্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

CIA behind strike at Venezuelan dock that Trump claims was used by drug smugglers, AP sources say

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেনি এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভাঙার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের প্রধান আলোচকের উপদেষ্টা এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কলিবফের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না এবং এটি একটি কৌশলও হতে পারে।

যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্পের বক্তব্যে তীব্র ওঠানামা দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’, আবার কখনো সহিংসতা ও বাজারের অস্থিরতা থামানোর আগ্রহও দেখিয়েছেন।

এ ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে বোমা হামলার হুমকি থেকেও সরে এলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অনেকে এসব হুমকাকে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা নিষিদ্ধ।

সূত্র: রয়টার্স