ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার হাজার হাজার ভবন ধ্বংস করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে সরে আসার পরই গাজাজুড়ে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস করা শুরু করে তারা। যেখানে এক সময় লাখো মানুষের বসতি ছিল, সেখানে এখন ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই নেই। খবর বিবিসি।

স্যাটেলাইট থেকে নেয়া এক সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তথাকথিত 'অপারেশনাল কন্ট্রোলে' থাকা কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানো হয়েছে। পরিকল্পিত এ ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশাপাশি প্রায় অক্ষত ভবনও মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিবিসির যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিতভাবে টাওয়ার ব্লক, স্কুল এবং অন্য অবকাঠামো ধ্বংস করার সময় ধুলো ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।

একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছেন, জেনেভা কনভেনশনে দখলদার শক্তির দ্বারা অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই এমন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল সম্ভবত যুদ্ধাপরাধ করেছে।

gaza 1

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক মুখপাত্র জানান, তারা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কাজ করছেন। হামাস বেসামরিক এলাকায় 'সামরিক সম্পদ' লুকিয়ে রেখেছে। অপরিহার্য সামরিক প্রয়োজনীয়তা থাকলেই কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাফাহর ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি 'মানবিক শহর' প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান। সেখানে প্রাথমিকভাবে ৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে রাখা হবে বলেও জানান তিনি। তার এই পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট বিবিসিকে বলেছেন, প্রস্তাবটি এক ধরনের 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' স্থাপনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

স্যাটেলাইট থেকে নেয়া ছবিতে আরো দেখা গেছে যে, ওই এলাকার বিশাল অংশ ইসরায়েলি বোমা ও আর্টিলারির গোলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এরপরও অনেকগুলো ভবন সেখানে টিকে ছিল। কিন্তু ১৩ জুলাইয়ের দিকে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ আরো তীব্র হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাকি অংশও ধ্বংস করা হয়।

একটি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাফাহর এক রাস্তা ধরে একটি ট্যাঙ্ক এগিয়ে যাচ্ছে, আর রাস্তার পাশে একটি খননযন্ত্র কাজ করছে।

এ ধ্বংসযজ্ঞ গাজার অন্য অংশেও দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলগুলো আগের বোমাবর্ষণে তেমন বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।