অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরির সুযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণ স্নাতকদের জন্য সিঙ্গাপুর সরকার একটি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং গত রোববার (১৭ আগস্ট) জাতীয় দিবসের ভাষণে এই ঘোষণা দেন। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়া।
এই কর্মসূচির আওতায় ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল এডুকেশন (আইটিই), পলিটেকনিক ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা স্নাতকরা সরকার অর্থায়িত ট্রেইনিশিপে অংশ নিতে পারবেন। শুরুতে এটি সীমিত আকারে চালু হবে। তবে অর্থনীতি খারাপ হলে কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। সুনির্দিষ্ট তথ্য শিগগিরই সিঙ্গাপুর ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স টাস্কফোর্স জানাবে।
লরেন্স ওং তার ভাষণে মনে করিয়ে দেন, কভিড-১৯ মহামারির সময় বহু প্রতিষ্ঠান পূর্ণকালীন নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহী ছিল ট্রেইনিশিপ দিতে। এতে স্নাতকরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভাতা পেত এবং দক্ষতা ধরে রাখতে পারত। পরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে তারা ভালো চাকরি পেতে সক্ষম হয়।

জাতীয় দিবসের ভাষণে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। ছবি- সিএনএ
২০২০ সালে চালু হওয়া এসজি ইউনাইটেড ট্রেইনিশিপস প্রোগ্রাম-এর অধীনে প্রশিক্ষণ ভাতার ৮০ শতাংশ বহন করেছিল সরকার, বাকিটা প্রতিষ্ঠান দিত। দুই বছর পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হওয়ায় অংশগ্রহণ কমে গেলে এ কর্মসূচি বন্ধ করা হয়।
রোববারের ভাষণে ওং বলেন, সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক কৌশলে চাকরি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এজন্য আরো কর্মমেলা আয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজেই নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে।
চাকরির পাশাপাশি সরকার তরুণদের জন্য আবাসন ও অভিভাবকত্ব বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, গত এক বছরে আরো বেশি অনুদানসহ নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ, তরুণ অভিভাবকদের জন্য ছুটি বৃদ্ধি ও খরচে সহায়তার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ওং তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি জানি বড় হওয়া সহজ নয়। পৃথিবীকে অনেক সময় জটিল মনে হতে পারে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত লাগতে পারে। কিন্তু ভয় পাবেন না—আপনারা একা নন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, প্রতিটি ধাপে একসঙ্গে হাঁটব।‘










