পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, গির্জা ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন আতঙ্কিত মানুষ। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ অনুভব করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, ভূমিকম্পের প্রভাব ব্যাপক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৩টার (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) ঠিক আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-মধ্য পানামার পিতালোযা আরিবা শহর থেকে প্রায় ৬ দশমিক ২ মাইল (১০ কিলোমিটার) দূরে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১২ কিলোমিটার। সাধারণত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল যত অগভীর হয়, ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব তত বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে পেনোনোমে ও সোনা শহরের কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করতে দেখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের বাসিন্দা রিকার্দো ব্রাউন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, লাস মিনাস এলাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ভয় পেয়েছি। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ আছি। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এটি আমাদের ওপর ভেঙে পড়তে পারে—এ নিয়ে আমরা ভয় পাচ্ছি।

ভূমিকম্পে মোট কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মূল ভূমিকম্পের পর কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের রাজধানী পানামা সিটিতেও ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেককে রাস্তায় ও আশপাশের পার্কে অবস্থান করতে দেখা গেছে। কম্পন থামার পরও তারা কিছু সময় ঘরের বাইরেই ছিলেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেছেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় পুরো সরকার ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তিনি বলেন, যা ঘটেছে, তা নিয়ে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়।

ভূমিকম্পের পর পানামার প্রতিবেশী ১১টি দেশের উপকূলে প্রাথমিকভাবে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানায়, সুনামির কোনো হুমকি নেই। এছাড়া আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খালও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। খালের নৌযান চলাচল তদারককারী কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।