জাপানে অবৈধ রফতানির ভুল অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শিজু ও আইশিমার কবরে দেশটির পুলিশ ও মামলার প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। এ ঘটনায় একটি ভুলের কারণে একজন মানুষের জীবনে কত বড় ক্ষতি হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে। খবর বিবিসি।
আইশিমাসহ তার কোম্পানির তিন উচ্চপদস্থ সহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০২০ সালের মার্চে। অভিযোগ ছিল, তারা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সংবেদনশীল শিল্পযন্ত্র রফতানি করেছেন। যন্ত্রটি ছিল ওহকাওয়ারা কাকোহকি কোম্পানির এক ধরনের স্প্রে-ড্রায়ার, যা তরল পদার্থকে গুঁড়োতে রূপান্তর করতে পারে।
পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইশিমা পাকস্থলীর ক্যান্সারে মারা যান। এর ঠিক পাঁচ মাস পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। গত সোমবার এই ভুলের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা করতে ইয়োকোহামায় তার কবরের পাশে হাজির হন দেশটির কর্তৃপক্ষ। সেখানে ছিলেন আইশিমার পরিবারও। তবে তার স্ত্রী বলেন, এই ভুলের জন্য দায়ীদের আমি কখনো ক্ষমা করতে পারব না।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আইশিমার কোম্পানি টোকিও আদালতে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করেন। আদালত রায়ে অভিযোগগুলো বেআইনি বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ১ কোটি ৬৬ লাখ ইয়েন (প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং টোকিও জেলা প্রসিকিউটর অফিস রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। এই রায় চূড়ান্ত হয় ১১ জুন।
প্রসিকিউটর হিরোশি ইচিকাওয়া বলেন, আইশিমাকে অবৈধভাবে আটক, মামলার কারণে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জামিন প্রত্যাখ্যানের ফলে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আইশিমা মোট আটবার জামিনের আবেদন করেছিলেন। প্রতিবারই আবেদন খারিজ করা হয়।
আদালত ভুল অভিযোগের কারণও তদন্ত করে। তবে অভিযুক্তদের পরিবার অভিযোগ করেছেন, আসল কারণ যথাযথভাবে উদঘাটন হয়নি এবং কর্মকর্তাদের জন্য সুপারিশকৃত শাস্তি খুবই কম।
এই ঘটনা জাপান ও আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, গুরুতর অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার সতর্কতা ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম।










