এ কে আব্দুল মোমেন 

মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের মধ্যেও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য রফতানির মাইলফলক অর্জন করেছে। এ অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী রফতানি নীতির ফলেই সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন এবং এর ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হয়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ২৪ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা আমাদের রফতানি আয় বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃঢ় ভিত্তি নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির পাঁচটি বিষয় সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি: ১. রফতানিযোগ্য পণ্যের ও রফতানি পণ্যের গন্তব্যের বহুমুখীকরণ; ২. বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগের বহুমুখীকরণ; ৩. দেশে-বিদেশে মানবসম্পদের লাভজনক কর্মসংস্থান; ৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ৫. বিদেশে অবস্থিত সব বাংলাদেশ মিশনে প্রবাসী ও বিদেশীদের সেবার মান বৃদ্ধি। এ পাঁচটি বিষয় সামনে রেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তার অধীনে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলো নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের ৮১টি শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর নেটওয়ার্ক কাজ লাগিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের উদ্যোগগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রতিনিয়ত তুলে ধরছে। বিশ্বের ২৩টি দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং অনেকগুলো দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও রফতানি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে আয়োজিত বাণিজ্য মেলা ও রোড-শোতেও আমরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি।

এছাড়া গত জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ আয়োজন করা হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশের অর্জনগুলো বিদেশে তুলে ধরা হচ্ছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমি আশা করি, আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে এবং সবার অংশগ্রহণে আমরা সরকারের রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হব।