স্মার্ট কিচেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ফ্রিজ। এ ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ না করলে যেমন নষ্ট হয়ে যাবে, তেমনই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে যদি খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না যায়। তাই ফ্রিজে অবশ্যই খাবার রাখতে হবে সঠিকভাবে।

কোন খাবার কতদিন

রান্না করা খাবার সাধারণত ফ্রিজে চারদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এরপর সেগুলো না খাওয়াই ভালো। বাইরে থেকে কেনা হট ডগ, পিৎজা, চিকেন প্যাটিস বা বার্গার জাতীয় খাবার খোলা অবস্থায় এক সপ্তাহ, না খোলা অবস্থায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা যায়।

কাঁচা মাংস নরমাল ফ্রিজে রাখলে তিন থেকে পাঁচদিন ভালো থাকে। তবে মুরগির মাংস না কেটে পরিষ্কার করে ডিপ ফ্রিজে রাখলে প্রায় এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে কেটে রাখা হলে সেটা পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে রান্না করে ফেলাই ভালো। স্যুপজাতীয় কোনো খাবার সাধারণত ফ্রিজে তিন-চারদিন ভালো থাকে। রান্না করা মুরগির মাংস, মাছ বা ডিমের কোনো খাবার তিন-চারদিন পর্যন্ত রাখতে পারেন ফ্রিজে। 

কোন খাবার ফ্রিজের কোন অংশে?

ফ্রিজের একেকটি অংশে একেক জিনিস রাখতে হয়। নির্ধারিত জায়গায় জিনিসপত্র রাখলে সেটা ভালো থাকবে দীর্ঘদিন। সাধারণত কাঁচা মাছ ও মাংস রাখার জন্য ফ্রিজের ডিপ অংশ ব্যবহার করা উচিত। কাঁচা মাছ, মাংস অবশ্যই ১ ডিগ্রির কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। কাঁচা মাছ, মাংস মোটেও রান্না করা খাবারের সঙ্গে রাখা যাবে না। কারণ অনেক সময় এগুলো থেকে পানি বের হয়। আর এ পানি বাকি খাবারে মিশে বিষক্রিয়া হতে পারে। ফ্রিজে মাংস রাখার আগে সেগুলো ভালো করে ধুয়ে একদম পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। তাহলে মাংসে বাজে গন্ধ হবে না এবং অনেকদিন পর্যন্ত সতেজ থাকবে, স্বাদও থাকবে অক্ষুণ্ণ। ফ্রিজে রাখা মাত্র বিশেষ কিছু ফল যেমন কলা, জাম, নাশপাতি ও টমেটোর শরীর থেকে ইথিলিন গ্যাস বের হয়, যা অন্য টাটকা সবজিও তাড়াতাড়ি নষ্ট করে দিতে পারে। সেজন্য এসব ফল ফ্রিজে না রাখাই ভালো। একইভাবে কিছু সবজি যেমন ব্রকলি, গাজর, শসা, বেগুন, মটরশুঁটি, লেটুস থেকেও ইথিলিন গ্যাস বের হয়। কোনো রকমের তাজা ফলমূল বা সবজি ফ্রিজের গায়ের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা ঠিক না। সবজি কাগজের প্যাকেটে কিংবা খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখতে পারেন, তাহলে অনেকদিন ভালো থাকবে। 

মরিচের বোঁটা ফেলে কাচের বয়ামের মধ্যে রাখলে তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া শাক কেটে ও ধনেপাতা গোড়াসহ রাখলে ভালো থাকে। সংরক্ষণ উপযোগী মৌসুমি সবজি সেদ্ধ করার পর বিভিন্ন বক্সে করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সবজির গুণগতমান ভালো থাকবে, আবার মৌসুম শেষেও সেগুলো রান্না করে খাওয়া যাবে।

ফ্রিজের দরজার একেবারে নিচের তাকে ফলের রস, জ্যাম, সস, পানি ও ইনসুলিন জাতীয় ওষুধ রাখতে পারেন। কাটা পেঁয়াজ একটি এয়ার টাইট বক্সে নিয়ে সামান্য লবণ ছিটিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। বাটা মসলাও ফ্রিজে রাখুন বক্সে করে।

বেশির ভাগ ফ্রিজেই ডিম রাখার জন্য আলাদা জায়গা থাকে। ফ্রিজে ডিম রাখার সময় মোটা অংশটি নিচের দিকে ও সরু অংশটি ওপরে রাখা ভালো। ডিম হাতলে না রেখে বাটিতে করে ফ্রিজের ভেতরে রাখলে বেশি ভালো থাকবে। রোল, শিঙাড়া, সমুচা, পিঠা ইত্যাদি ফ্রিজে রাখার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। এগুলো ফ্রিজের ডিপ অংশে রাখা যায়। তবে তাপমাত্রা সামান্য হেরফের হলে এ খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা দরকার।

রান্না করা খাবার ফ্রিজের নরমাল অংশের ওপরের তাকে রাখা যাবে। রান্না করা গরু, খাসি বা মুরগির মাংস, মাছ ও সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখা হলে তিন-চারদিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। মনে রাখতে হবে রান্না করা খাবার কখনই চারদিনের বেশি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়।

অনেকদিন ভালো রাখার জন্য ঘি ও মাখন ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দুটি খাবারই একদম এয়ার টাইট পাত্রে রাখা দরকার।