মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের একটি পণ্য মিনিস্টার-মাইওয়ান রেফ্রিজারেটর। বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও প্রতিনিয়ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এ ফ্রিজকে এনে দিয়েছে বাজার খ্যাতি ও বিশেষ সুনাম। বণিক বার্তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রেফ্রিজারেটর শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানে করণীয়সহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেন মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুল
মিনিস্টার ফ্রিজ ও ফ্রিজারের উৎপাদন ও বিক্রি শুরু হয়েছিল কবে?
২০০২ সালে টিভির উৎপাদন দিয়ে শুরু করি। প্রথমে সাদা-কালো টিভি, এরপর রঙিন। এখন তো বেসিক এলইডি, স্মার্ট এবং ফোর-কে টিভি উৎপাদন করছি। আমরা ২০০৫ সালে ফ্রিজ অ্যাসেম্বলিং শুরু করি। এরপর ২০১৩ সাল থেকে নিজেরাই উৎপাদন করছি। এসি উৎপাদন করছি ২০১৭ সাল থেকে। এছাড়া উৎপাদন করছি বিভিন্ন ধরনের হালকা ও মাঝারি হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য। গরমের মৌসুমে প্রায় ২৫-৩০ হাজার ফ্রিজ উৎপাদনসহ বার্ষিক অন্তত চার লাখেরও বেশি ফ্রিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করি আমরা। এছাড়া বার্ষিক ৫০ হাজারেরও বেশি টিভি এবং ২০ হাজারেরও বেশি এসি আমরা উৎপাদন ও বাজারজাত করি। মিনিস্টারই প্রথম ফ্রিজ এবং নির্দিষ্ট মডেলের এসিতে ১২ বছর কম্প্রেসার গ্যারেন্টি এবং নির্দিষ্ট মডেলের টিভিতে প্যানাল ও পার্টসে পাঁচ বছর গ্যারান্টিসহ সার্ভিসে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। দেশের সব জেলায় নিজস্ব শোরুম এবং ডিলার ফ্র্যাঞ্চাইজিং শোরুম রয়েছে এক হাজারের বেশি। ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে বাজারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এখন মিনিস্টার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে ফ্রিজের ও ফ্রিজারের চাহিদা কেমন? আপনাদের অবস্থান কী?
দেশে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্র এখন বিদ্যুতের ছোঁয়া। এতে সহজ হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা। বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী। এর মধ্যে মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। ছোট-বড় সব পরিবারেই ফ্রিজ একটি অতিপ্রয়োজনীয় যন্ত্র। এর ফলে দেশে ফ্রিজের চাহিদাও বেড়েছে। দেশের ফ্রিজের বাজার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বর্তমানে দেশে প্রতি বছর ৩০-৩৫ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে, যা টাকার অংকে প্রায় ৮০ কোটি ডলার। জনসাধারণের কাছে ফ্রিজের চাহিদা বিস্তৃত হয়েছে, ফলে পণ্যটি ব্যবহারের হার শহরের চেয়ে গ্রাম ও উপশহরগুলোয় এখন অনেক বেশি হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের রেফ্রিজারেটর বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ দখল করে রেখেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যতম ব্র্যান্ড মিনিস্টার গ্রুপ, যা দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয়। আগামীতে এ হার আরো বাড়ানোর জন্য আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
ফ্রিজ শিল্পে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে? এ বাজারে বাংলাদেশের বৈশ্বিক সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
দেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্বে ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানির পরিকল্পনা করেছি আমরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বাজার, পুঁজি, কারিগরি দক্ষতাসহ আনুষঙ্গিক সব সুবিধাই বিদ্যমান। সারা বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতির যে জোয়ার বইছে তাতে শামিল হতে হবে আমাদেরও। ফলে এ শিল্পকে আরো চাঙ্গা রাখতে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনসহ এসব পণ্যের দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্পে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য রফতানি হচ্ছে। দেশীয় ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য খাতের বিকাশের ফলে বিপুল পরিমাণ পণ্যের আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। এ শিল্প হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় রফতানি খাত।
আপনাদের পণ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
একটা দক্ষ টিম রয়েছে আমাদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ফ্রিজের উন্নয়নে নতুন নতুন সব আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে নতুন সব ফ্রিজে। ফলে সঠিক তাপমাত্রায় হিমায়িত খাবারে ভিটামিন বজায় থাকে এবং দীর্ঘ সময় খাবার সংরক্ষণ করার জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় থাকে। আবার সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব এবং ৬৬ শতাংশ এনার্জি সেভিং কম্প্রেসার ব্যবহার করার ফলে গ্রাহকদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা করছে না, আমাদের ফ্রিজ একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও করছে। বর্তমানে আমরা আইওটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি শিগগিরই আমরা আরো উন্নতমানের ফ্রিজ বাজারে নিয়ে আসতে পারব।
ভবিষ্যতে আপনার কোম্পানিকে কোথায় দেখতে চান?
‘লক্ষ্য এবার বিশ্বজয়’—এ স্লোগানকে লালন করে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপ দেশের অন্যতম সেরা রেফ্রিজারেটর উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের প্রতিটা দেশে পৌঁছে দিতে চাই মেড ইন বাংলাদেশ। তখন মিনিস্টারের পণ্যই হবে আমাদের দেশের অ্যাম্বাসেডর।
আপনাদের কারখানা কোথায়? মোট কতজন কর্মী আছে?
গাজীপুরের ধীরাশ্রমে ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুবিশাল পরিসরে মিনিস্টার গ্রুপের দুটি কারখানা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় রয়েছে মিনিস্টারের করপোরেট অফিস। এসব মিলিয়ে পাঁচ হাজারেরও অধিক কর্মী রয়েছে মিনিস্টার গ্রুপে।
আপনাদের বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন। সেটায় গ্রাহক সন্তুষ্টি কত শতাংশ বলে আপনি মনে করেন?
ইলেকট্রনিকস কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তার বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা। আমরা বিক্রয়োত্তর সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর সেই লক্ষ্যে দেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলায় মিনিস্টার-মাইওয়ানের নিজস্ব শোরুম ছাড়াও রয়েছে সার্ভিসিং সেন্টার। গ্রাহকদের সেবায় আমাদের বিক্রয়োত্তর সেবা অনলাইন ও অফলাইনে ২৪/৭ খোলা থাকে, যাতে গ্রাহকরা আমাদের সার্ভিস পয়েন্ট থেকে দ্রুত সার্ভিস নিতে পারেন। এছাড়া আমাদের ০৯৬০৬৭০০৭০০ নম্বরে কল করে বা ministerbd.com থেকেও যেকোনো অফার ও যেকোনো পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও সেবা নিতে পারেন।
কোরবানির ঈদ ঘিরে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
আসন্ন কোরবানি ঈদে ক্রেতাদের জন্য”কোটি কোটি টাকার ঈদ সালামি অফার নিয়ে এসেছে মিনিস্টার গ্রুপ। একজন ক্রেতা মিনিস্টার গ্রুপের যেকোনো মডেলের ফ্রিজ, এলইডি টিভি এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য কিনলেই পাবেন একটি স্ক্র্যাচ কার্ড। কার্ড ঘষে পাওয়া যাবে ক্যাশ ভাউচার, ইনস্ট্যান্ট গিফট, ১০০% পর্যন্ত ফ্রি, নগদ মূল্যছাড়সহ আকর্ষণীয় সব উপহার।
এছাড়া সকল প্রকার (ফ্রিজ, এলইডি টিভি ও এসি) এক্সচেঞ্জ (পুরনো দিলে নতুন মেলে) অফারগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলমান থাকবে। রয়েছে শূন্য শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুযোগ এবং ৩৬ মাসের সহজ কিস্তি সুবিধা।
ফ্রিজের ক্ষেত্রে দৈনিক কিস্তি মাত্র ১০০ টাকা। আর ১৬৫ লিটারের ফ্রিজ মাত্র ২৩,৯০০ টাকায়। ১২ বছরের কম্প্রেসার গ্যারান্টি সহকারে ১০০ শতাংশ বিটিইউর এসি, যা পাওয়া যাবে মাত্র ২০০০ টাকা মাসিক কিস্তিতে। এক্সচেঞ্জ অফারে রয়েছে ৩০ শতাংশ মূল্য ছাড়। আমরাই টিভিতে দিচ্ছি সাত বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি ও চার বছরের প্যানেল গ্যারান্টিসহ ২৪ ইঞ্চির এলইডি টিভি মাত্র ৯৯৯৯ টাকায়। যেকোনো মডেলের ওয়াশিং মেশিনে ক্রেতা নগদ ও কিস্তি যেকোনো পদ্ধতিতেই পাবেন ৩০০০ টাকার ক্যাশ ভাউচার। বিভিন্ন ধরনের মিনিস্টার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রাইসকুকার ও মশা মারার ব্যাট পাবে একদম ফ্রি। লাক্সারিয়াস সিলিং ফ্যান কিনলে পাবেন ৩০০ টাকা ডিসকাউন্ট অথবা কোটি টাকার সালামি অফারের স্ক্র্যাচ কার্ড। আমাদের সব পণ্য পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।





