পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই হচ্ছে স্থায়ী সমাধান। আমি উন্নয়নের জন্য আপনার ওপর নির্ভর করছি, আর আপনি আমার ওপর নির্ভর করছেন। এ নির্ভরশীলতাই একটি পরিবার তৈরি করে। আমরা এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চাই। অন্য বিষয়গুলো নিজেদের মতো করে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাবে।

যখন অর্থনীতি রাজনীতির আগে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও তার পেছনে পেছনে এগিয়ে যায়। অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হবে মানুষের উন্নয়ন। যখন মানুষ মনে করবে, এ সম্পর্ক আমাদের সবার জন্য ভালো, তখন রাজনীতিও সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলছি না যে একটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আরেকটি কম। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু আসল কথা হলো আমরা কী চাইছি? সাধারণ মানুষের খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। তারা ন্যূনতম কিছু চায়। আর সবচেয়ে বেশি চায় শান্তি। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘শান্তি ও সমৃদ্ধি’। শান্তি থাকলেই সমৃদ্ধি আসবে। আর দুই দেশেরই দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে শান্তি ও সমৃদ্ধি উপহার দেয়া।

আজ যদি আমরা দুই দেশের জনমিতির দিকে তাকাই, দেখতে পাব, উভয় দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ

প্রজন্ম। আমরা যা-ই করি না কেন, তাদের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনেরও প্রয়োজন আছে। আপনারা পোশাক খাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন। আমরা জিপার সরবরাহ করতে পারি, যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে পারি, বোতাম সরবরাহ করতে পারি। এভাবেই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন প্রয়োজন। এমনকি সীমান্ত পর্যায়েও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। উৎপাদন হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত কিংবা ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে।

আমেরিকায় যখন যাই, কোনো শার্ট বা টি-শার্ট কিনি, তখন লেবেলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখি। খুব ভালো লাগে যে আমাদের একটি প্রতিবেশী দেশের পোশাক শিল্প সেখানে এত বড় পরিসরে উপস্থিত রয়েছে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিতে পারি।

মূল বিষয় হলো আসুন ব্যবসা থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো বাড়াই। রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের যে চাওয়া, তা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। আগামী দিনগুলো যে অনেক ইতিবাচক হবে, এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়গুলোকে নিজেদের মতো করে সময় নিতে দিতে হবে। আর আমাদের একে অন্যের মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত, সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ। ভারতও তাই। কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়। সবাই সমান। আমাদের সেই সমতার ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে।

(গত ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তার উত্তর)