চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে এক গণ-আন্দোলন। জুলাই অভ্যুত্থান নামে পরিচিতি পাওয়া এ গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রক্তক্ষয়ী এ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকার। বিগত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতির নীতি প্রণয়নে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের বিষয়টি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আয়ের উৎস না বাড়িয়ে ক্রমাগত টেনে লম্বা করা হয়েছে বাজেটের আকার। অনিয়ম-দুর্নীতি আর অপব্যয়ের চাপে বড় হয়েছে বাজেট ঘাটতি। ঋণনির্ভরতার কারণে সরকারের ঘাড়ে চেপেছে প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকার দেশী-বিদেশী ঋণের বোঝা।
রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের বেড়াজালসহ নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের প্রথম বাজেটে জনগণের প্রত্যাশাও বিপুল। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটের তুলনায় যা ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাজেটের আকার কমিয়ে আনার প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে আইএমএফ। আর নতুন বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য ধরা হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ২ জুন, সোমবার বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাখা হচ্ছে না বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প। এক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হতে পারে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপির আকার ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছিল। যদিও অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ আকার বড় কাটছাঁট করার প্রস্তুতি চলছে। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দেয়া হচ্ছে। এজন্য বাড়তি নজর দেয়া হচ্ছে রাস্তাঘাট নির্মাণ, সংস্কারসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে। বাড়ানো হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতা। সীমিত সাধ্যের মধ্যে বাড়ানো হবে ভাতাভোগীর সংখ্যাও। প্রায় তিন বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে ৯-১১ শতাংশের ঘরে। জনগণকে স্বস্তি দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা থাকতে পারে। আর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে এসে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিনিয়োগ খরা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া সত্ত্বেও সরকারকে স্বস্তি দিচ্ছে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির ধারায় আছে দেশের রফতানি খাতও। পাশাপাশি বিপুল বিদেশী বিনিয়োগের প্রত্যাশায়ও আছে সরকার। রিজার্ভ স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি চাপ কমে এসেছে ডলারের ওপর। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথা রাষ্ট্রের ব্যালান্স অব পেমেন্টের (বিওপি) ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও সরকার এ মুহূর্তে স্বস্তিতে আছে। তার পরও শঙ্কা জাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকে দেয়া বাণিজ্যযুদ্ধ। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এ প্রেক্ষাপটে প্রণীত বাজেটে অংশীজনদের প্রত্যাশাও বিপুল। সরকারের কাছে গণ-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতেই বণিক বার্তার এ আয়োজন...





