এজন্য জ্বালানি তেলের মজুদ ৬০ দিন থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শুধু তা-ই নয়, সরকার জ্বালানি তেলের পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এরই মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি তেলের পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। সরকার জ্বালানির আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়নের জন্য জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমান সরকার গ্যাস খাতের স্থানীয় উৎস সম্প্রসারণে অনুসন্ধান, কূপ খনন ও অফশোর অনুসন্ধানে বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে ২৯টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো অনেকগুলো কূপের কার্যক্রম চলমান। এছাড়া নতুন সম্ভাব্য গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে ব্যাপক ভূকম্পীয় (সিসমিক) জরিপও পরিচালিত হচ্ছে। দুটি ব্লকে দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে।
শুধু দেশের স্থলভাগেই নয়, সমুদ্রভাগে (অফশোর) অনুসন্ধানের জন্য সরকার ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশী কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বাপেক্সের রিগ ক্রয়, বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা, বৈদেশিক প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতের অগ্রগতির পাশাপাশি সরকার বিদ্যুৎ খাতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক ১%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এর সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হারে কর রেয়াত প্রদান করা হয়েছে।
সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করে দেশের জন্য উপযুক্ত ও টেকসই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।





