মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ব্যবসায় বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কী?
দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি তথা গ্যাসের সরবরাহ সমস্যা। বিদ্যমান শিল্পে যেমন গ্যাসের স্বল্প চাপ সমস্যা রয়েছে তেমনি নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন করেও গ্যাসের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য সমস্যা হলো, ব্যাংক প্রদত্ত ঋণের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট, ট্যাক্স স্ট্রাকচারের ঘন ঘন পরিবর্তন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। এসব সমস্যার কারণে স্থানীয় বিনিয়োগ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
২০২০ সাল থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বহু ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। করোনা মহামারীর সময়ে মানুষের চলাচল সীমিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি, শিল্প-কারখানায় উৎপাদন পরিচালনা ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু মেঘনা গ্রুপ ঝুঁকি নিয়ে সে সময় উৎপাদন, সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, সব কর্মচারীর বেতন-ভাতা নিয়মিত প্রদান করেছে, কোনো কর্মচারী ছাঁটাই করেনি। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কাঁচামালের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় মূল্য ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ডলারের দুষ্প্রাপ্যতা এলসি খোলার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে পড়ে। সর্বোপরি গ্যাসের সরবরাহ সমস্যার কারণে মিলগুলো পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে মেঘনা গ্রুপ সাধারণ লোকজনের দুর্দশা লাঘবের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী মনোভাব পরিত্যাগ করে ব্যবসাকে জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব বিবেচনা করেছে।
মেঘনা গ্রুপ দেশে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এজন্য তিনটি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং আরো দুটি জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। মেঘনা গ্রুপের সাফল্য বিবেচনা করে আমাদের ইকোনমিক জোনে ও জোনের বাইরের প্রকল্পগুলোয় বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, এইচএসবিসিসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থায়ন করেছে।
সম্প্রতি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন, অর্থাৎ প্রায় ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রায় তিন লাখ টন সয়াবিনবীজ আমদানির একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এর বাইরে দেশটির এলপিজি, ভুট্টা, তুলা রফতানিকারকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এ আমদানি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, আমরা অবদান রাখতে চেষ্টা করেছি।
বহুমুখী খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে মেঘনা গ্রুপ সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার ক্ষেত্রে সরকার যেভাবে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছে এবং দেশের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে, একইভাবে কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ না করে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন। সুতরাং বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ সমস্যার সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লাইসেন্স, অনুমতি গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তরে বিনিয়োগবান্ধব কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ, কিছু ক্ষেত্রে একই বিষয়ে অনেকগুলো দপ্তর থেকে তদারকি সমন্বয় করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রবর্তন করার জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছি। এছাড়া শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি ক্রয় ও নামজারি তথা ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলোর সমাধান প্রয়োজন।
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনায় নীতিগত স্থিতিশীলতা কতটা জরুরি, বিশেষ করে কনগ্লোমারেট পর্যায়ে?
সব পর্যায়েই নীতিগত স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আমদানির বিকল্প পণ্য উৎপাদনের জন্য নিয়মিত শিল্পায়ন করছি তারা সবাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা, ভ্যাট, ট্যাক্স ও ট্যারিফ স্ট্রাকচার দেখে, প্রিফিজিবিলিটি, ফিজিবিলিটি স্টাডি করার পর বিনিয়োগ করি। কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের পর নীতিমালায় পরিবর্তন হলে আমাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। সুতরাং বিনিয়োগের জন্য দেশী বা বিদেশী সব ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।
শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ ও লজিস্টিকস খাতে অবকাঠামো সংস্কার—বহু খাত পরিচালনায় মেঘনা গ্রুপকে কীভাবে সহায়তা করছে?
অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত হলে বিনিয়োগের পরিবেশও সৃষ্টি হয়। বর্তমানে যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো শিল্প-কারখানা, বিনিয়োগকারীরা ভোগ করতে পারেননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মন্থরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলায় কুমিল্লা ইকোনমিক জোনের উন্নয়নকাজ শেষ করে জিটিসিএলের অফটেক ও সিজিএস নির্মাণ, তিতাস গ্যাস কোম্পানির টিবিএস ও আরএমএস, পাইপলাইন নির্মাণ ও পিজিসিবির সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য তাদের চাহিদা মোতাবেক জমি ক্রয় ও নির্মাণ ব্যয় বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেও গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছি। সুতরাং সরকারের সব সংস্কার দ্রুত সমাপ্ত করে স্টেকহোল্ডারদের কাছে তার সুফল পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন।
আমাদের ইকোনমিক জোন ও নিজস্ব শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আমরা মেঘনা ইকোনমিক জোন লিমিটেডে (এমইজেডএল) ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণের জন্য আরইবি ও পিজিসিবির সঙ্গে মেঘনা ইকোনমিক জোনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছি যা আমাদের ইকোনমিক জোনের বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পুরো প্রকল্পটি চালু হয়ে গেলে এর ফলে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের গতি বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে ভূমিকা রাখবে।
দেশের বন্দর ও শিপিং অবকাঠামো উন্নয়ন হলে আপনার রফতানিমুখী শিল্পগুলো কতটা লাভবান হতে পারে?
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। তবে আমরা বন্দরটির সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে পারছি না। গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় বড় জাহাজ সরাসরি এখানে ভিড়তে পারে না। এছাড়া কনটেইনার খালাসে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘসময় লেগে যাওয়ায় বিদেশী জাহাজও এখানে আসার ব্যাপারে কিছুটা নিরুৎসাহিত থাকে। বিশ্বব্যাংকের কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স ইনডেক্স ২০২৩ অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০৫টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৩৭। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আমরা সার্বিকভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারব না।
আমরা মেঘনা গ্রুপের পক্ষ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে কাঁচামাল দ্রুত খালাস ও শিল্প-কারখানায় পৌঁছানো, বিদেশ থেকে এলপিজি এনে স্টোরেজ করে সারা দেশে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য মাতারবাড়ীতে আমাদেরকে কিছু প্লট বরাদ্দের জন্য অনেক দিন থেকে আবেদন জানিয়ে আসছি। আমাদেরকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হলে বিদেশী পণ্য আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণে গতিশীলতা আসতে পারে।
বিভিন্ন খাতে মেঘনা গ্রুপ বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করেছে—সাম্প্রতিক শ্রমবাজার সংস্কার কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে?
বর্তমানে এমজিআইয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান রয়েছে। পরোক্ষ কর্মসংস্থান বিবেচনা করলে এ সংখ্যা হবে কয়েক লাখ। এমজিআইয়ের নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উৎপাদন শুরু হলে আরো বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আমরা আশাবাদী। তাই স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন শ্রমবাজার সংস্কারের দিকে আমরা লক্ষ রাখছি। শ্রম আইন সংস্কার যেন বাস্তবসম্মত হয়, সেটিই আমার প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছতে হবে বলে আমি মনে করি।
মেঘনা গ্রুপের রয়েছে একাধিক ইকোনমিক জোন। এ জোনগুলোয় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনাগুলো কেমন?
বর্তমানে এমজিআইয়ের তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এগুলো হচ্ছে মেঘনা ইকোনমিক জোন (এমইজেড), মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) এবং কুমিল্লা ইকোনমিক জোন (সিইজেড)। মেঘনা ইকোনমিক জোন ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ চলছে। তবে কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চাহিদা মোতাবেক স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ফি প্রদান ও জমি প্রদান সত্ত্বেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এ তিন ইকোনমিক জোনের বাইরে চতুর্থ অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘তিতাস ইকোনমিক জোন’-এর প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স আমরা এরই মধ্যে পেয়েছি এবং জোনের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলেই ইটিপি, কনভেনশন হল, হেলিপ্যাডসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারা দেশের সঙ্গেই রয়েছে পণ্য পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমজিআইয়ের নিজস্ব শিল্প-কারখানার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় তাই বিভিন্ন বিদেশী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। এরই মধ্যে এমআইইজেডের অভ্যন্তরে ১৩টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জার্মানি, জাপান, চীন, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এমআইইজেড ও সিইজেডে এমজিআইয়ের নিজস্ব বিনিয়োগের পাশাপাশি আরো বিদেশী বিনিয়োগের অবকাঠামো গঠনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন বিনিয়োগের ফলে সৃষ্ট শিল্প-কারখানায় সৃষ্টি হবে আরো নতুন নতুন কর্মসংস্থান। আর এর মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা অবদান রাখতে চাই।










