গত এক বছরে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে গুণগত কী পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন, কিংবা আপনারা কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

আমাদের অর্থনীতিতে যে ক্ষয় হয়েছিল, তার ফলে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার আনপেইড থেকে যায়। মুদ্রার মান দ্রুত কমছিল, চলতি ও আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) প্রায় ২৫-৩০ শতাংশে পৌঁছে একটি মারাত্মক অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে ঠিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কিছু জটিল ও কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়। এসব কারণে মুদ্রাস্ফীতি এখন এক অংকে নেমেছে, চলতি হিসাব উদ্বৃত্তে এসেছে এবং আর্থিক হিসাবও অল্প হলেও উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে। রিজার্ভেও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। তবে সুদ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এখনো নেয়া যায়নি, কারণ মুদ্রাস্ফীতি সে পর্যায়ে নামেনি।

এ পরিস্থিতি কেবল বিগত সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা বা দুর্বৃত্তায়নের কারণে হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর আকস্মিকভাবে কয়েক দফা বন্যাও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে বিনিয়োগের উপযোগী পর্যায়ে আসতে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময় বৈশ্বিক উত্তেজনা বা মার্কিন ট্যারিফের মতো সংরক্ষণবাদী নীতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কখনো সহায়ক, কখনো অসহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

সামগ্রিকভাবে বলতে পারি, সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের চেষ্টা করেছে। পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দৃশ্যমানতা ও জবাবদিহিতার জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আগে কখনো কল্পনা করা যেত না। তবে এগুলো যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের প্রধান প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, জমিসংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যাংক খাতের মারাত্মক বিপর্যয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি দেখেছি, আগে উদ্যোক্তারা ব্যাংকে বসেই ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন। সে ব্যাংককেন্দ্রিক আড্ডা এখন আর হয় না, কারণ উদ্যোক্তাদের জায়গা দখল করেছে দুর্বৃত্তরা, যারা ব্যাংকগুলোকে লুট করেছে। যখন এ সংস্কৃতি ফিরবে, তখনই আমরা দেখব মানুষ ঋণ নিচ্ছে, নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগ করছে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এখনো আমরা সেখানে পৌঁছাইনি, তবে আসার পথে এবং যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি বলে মনে করি।

ব্যবসা-বিনিয়োগের বিকাশে এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেত, কিন্তু নেয়া হয়নি বলে আপনি মনে করেন?

অনেক পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল, কিন্তু নেয়া যায়নি। তবে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় সে পরিস্থিতির কারণে কিছু উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম চার-পাঁচ মাস কেটেছে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা প্রচেষ্টার মোকাবেলায়। আমি একসময় ব্যবসা করতাম, এখন নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে আছি। বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকলেও সরকারি কর্মকাণ্ডের পদ্ধতিগত অভিজ্ঞতা তখনো অর্জন করিনি। সে অভিজ্ঞতা নিতে গিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। তার পরও যতটা সম্ভব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি মিল উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে লিজ দেয়া হয়েছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারকে (জেডিপিসি) কাজে লাগাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখানে প্রায় ১ হাজার ৬ জন নিবন্ধিত উদ্যোক্তা আছেন, যাদের কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাটের ব্যাগ কেনা হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে আশা করছি। সবই ওপেন টেন্ডার মেথডে হচ্ছে, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সক্ষম হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যে টিসিবির ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে নয় ধরনের পাটের ব্যাগ বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার পলিথিনের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।

ডব্লিউটিওর সহায়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে যে শিল্পগুলো লিজ দেয়া হয়েছে, সেখানে হাজারো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেয়ার সময় আশপাশের সুযোগ-সুবিধাগুলো কাজে লাগানোর দিকটি বিবেচনা করা হচ্ছে। আগের নিয়ম ছিল, পাট শিল্প নিতে হলে কেবল পাট শিল্প করতে হবে। এখন পাট শিল্পে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বটে, তবে প্রয়োজনে অন্য শিল্পের জন্যও জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

এত পদক্ষেপের পরেও স্থানীয় উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তারা জুলাইয়ের পরিবর্তনের কোনো সুফল পাননি, বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর শিল্পগুলো জাতীয়করণ হয়, লাইসেন্স-পারমিটভিত্তিক সংকীর্ণ ব্যবসা পরিবেশেও উদ্যোক্তারা উদ্যোগী সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। তার তুলনায় বর্তমান প্রতিবন্ধকতা অনেক কম। তবে ব্যাংক খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ নন-পারফর্মিং লোন আছে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। ফলে ব্যাংকগুলো এখন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। সরকারও ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে ব্যাংকগুলোকে বিনা পরিশ্রমে লাভ করার সুযোগ দিচ্ছে।

যখন এ মুদ্রা ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে, তখন বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। কারণ শুধু ব্যক্তিপুঁজি দিয়ে বিনিয়োগ করলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরি হয় না, ব্যাংকের সহায়তা অপরিহার্য। কিন্তু ব্যাংকও এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এখন পুঁজি বিনিয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত। এ পরিস্থিতি কেটে গেলেই পরিবর্তন আসবে। তবে শুধু একটি নির্বাচিত সরকার এলেই সমাধান হবে, এমন নয়। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় যদি প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকে, তবে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আমি মনে করি, সে প্রস্তুতির কাজ এখনই চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকের পুঁজি পুনর্গঠন এবং খেলাপি ঋণ মোকাবেলায় কাজ করছে। এরই মধ্যে ব্যাংকগুলো প্রচুর সম্পত্তি নিলাম করছে। এতে অর্থনীতিতে ন্যায়বোধ ফিরে আসবে। দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ব্যাংকগুলো মর্টগেজ দিয়েও অনুমোদন দিয়েছে—এখন সেটি শোধরানো হচ্ছে। ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে একক সত্তায় আসছে, যা সবার জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।

গত আমলের দুর্বৃত্তায়ন কতটা দূর করতে পেরেছেন?

প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্র থেকে চুরি হয়ে গেছে—এটা তো এ দেশের জনগণের টাকা। এ বিপুল অর্থমাত্র কয়েকজনের হাতে চলে গেছে। এর যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ না হলে দুর্বৃত্তায়ন থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। যখন ২৫০ বিলিয়ন ডলার চুরি হয়, তখন আমি সেটি পূরণের জন্য ১ ডলার ব্যয় করলে, আমার ১ ডলার যোগ হয়, আর চোরদের ২৫০ থেকে ১ ডলার কমে যায়। এটাই এক জটিল লড়াই, এবং সরকার সে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে ক্ষত পূরণ হচ্ছে। ক্ষত পূরণ না হলে চলতি হিসাব বা আর্থিক হিসাব উদ্বৃত্ত হতো না, কিংবা রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিও ঘটত না। অবশ্যই এর পেছনে ব্যবসায়ী, রফতানিকারক ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর অবদান রয়েছে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আপনি কী বার্তা দেবেন?

আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রায় শেষ পর্যায়ে আছি, এরই মধ্যে প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ সুবিধা পেয়েছি। পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বহু দেশের সঙ্গে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরেও প্রেফারেনশিয়াল মার্কেট অ্যাকসেস বজায় থাকবে।

বাংলাদেশ পৃথিবীর কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে প্রায় ১০ কোটি শ্রমশক্তি রয়েছে, যা প্রশিক্ষণযোগ্য। তবে কাঁচামালের ঘাটতির কারণে আমরা শিল্প খাতে আমদানিনির্ভর। মধ্যবর্তী শিল্পপণ্যও বাইরে থেকে আনতে হয়।

আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ লজিস্টিকস, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি। সরকার আন্তরিকভাবে এগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। গত দুই মাসে গ্যাস পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছে। যদি আরেকটি এফএসআরইউ ইউনিট স্থাপন করা যায়, সরবরাহ আরো উন্নত হবে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহার করেও বিদ্যুতের একটি বড় অংশ পূরণ সম্ভব, যা এখন অর্থনৈতিকভাবেও কার্যকর।

এখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ অনেক। আমাদের বিশাল শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব। উল্লেখযোগ্য হলো ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাদের কারখানায় হামলা বা অরাজকতা ঘটেনি। বরং এক বড় বিনিয়োগকারী আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমশক্তি অত্যন্ত সক্ষম। তাই তারা আমাদের শ্রমশক্তি, জ্বালানি খাত ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন, দেশও লাভবান হবে। এর বাইরেও বিভিন্ন খাতে তাদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত।

আপনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়ে আর কোনো বার্তা দিতে চান?

আমাদের এয়ারলাইনস খাতে কিছু সমস্যা আছে। উদাহরণস্বরূপ, টিকিট সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়, যা দুর্বৃত্তায়নের একটি রূপ। ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১৩টি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। আমরা এখন আইনগত সংস্কার শুরু করছি, যাতে সমস্যা চিরতরে দূর হয়। বর্তমানে বিমানের বহরে আন্তর্জাতিক রুটে মাত্র ১০-১২টি আর দেশীয় রুটে আট-নয়টি প্লেন আছে। অথচ বছরে যাত্রী সংখ্যা ১ কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে আমরা বহন করতে পারি মাত্র ২০ শতাংশ, বাকি ৮০ শতাংশ বহন করে বিদেশী ক্যারিয়াররা। দুর্বৃত্তায়ন রোধ করে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বিমানের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো সম্ভব হবে। আমি মন্ত্রণালয়ের সবাইকে নিয়ে কাজ করছি, আশা করি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও জোরদার করা দরকার। যেমন প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান হওয়া উচিত, যাতে ভোক্তারা ন্যায্য সুবিধা পান। একইভাবে টিসিবির কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। স্বচ্ছতা আনার ফলে এরই মধ্যে ৩-৪ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তবে এখনো কিছু দুর্বৃত্তের প্রভাব রয়েছে। এজন্য আমরা অটোমেটেড সেন্ট্রাল সার্ভারের মাধ্যমে ভোক্তা কার্ড সিস্টেম চালু করেছি। যদিও কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে, যেমন গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, দুর্বল নেটওয়ার্ক বা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় ওটিপি না পাওয়ায় ভেরিভিকেশন সমস্যা, তবু ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

সরকারি মালিকানাধীন টেক্সটাইল ও জুট মিলগুলো বেসরকারি খাতে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি, এতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। প্রায় নয় লাখ তাঁতির সঙ্গে আমরা যুক্ত আছি। আগে এখানে ব্যাপক দুর্নীতি ছিল—বিনা শুল্কে সুতা ও রঙ আমদানি হতো। এখন আমরা স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে জোর দিচ্ছি।

পাট খাতে দীর্ঘদিন ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি চললেও এখন স্থানীয় পাট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্যাকেজিং আইন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চালের প্যাকেজিং দিয়ে। কাঁচা পাট রফতানি সীমিত করা হয়েছে এবং অনুমোদনসাপেক্ষে করা হচ্ছে। পাটপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারত সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু কাঁচা পাট রফতানি উন্মুক্ত রেখেছে। তবে আমরা পাটজাত শিল্পপণ্য রফতানি করতে চাই। কাঁচা পাট রফতানি করতে চাই না। এ কারণে আমরা এ শিল্প প্রসারের উদ্দেশ্যে কাঁচা পাট রফতানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। এভাবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি আনার চেষ্টা করছি।

আমাদের প্রতিটি প্রচেষ্টার ফল পেতে সময় দরকার। পাট, বাণিজ্য ও বিমান—তিন খাতেই আমরা সমানভাবে কাজ করছি। এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট প্রায় শেষ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছি, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। লেবার ফোর্স, জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিল্পায়ন নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনগত সংস্কার করছি। এভাবেই বিদেশী বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে বলা যায়, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই কাজ করছি।