স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল করুণ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় শূন্য। অধিকাংশ শিল্প-কারখানা যুদ্ধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বন্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি তখন পুরোপুরি নির্ভর করত কৃষি, বৈদেশিক ঋণ ও বিদেশী সহায়তার ওপর। কিন্তু এভাবে নতুন দেশ এগোতে পারে না। অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হলে শিল্পায়নই ছিল একমাত্র পথ। সেখান থেকেই বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ইপিজেডের ধারণা ও বেপজার জন্ম।

দেশে তখন বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ছাড়া বিনিয়োগ আকর্ষণের আর কিছুই ছিল না। শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল বিদেশী ও দেশী উদ্যোক্তা এবং তাদের আকৃষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত পরিবেশ। বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য কী কী করা যেতে পারে এ ভাবনার মধ্যেই ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে আসে ইপিজেড স্থাপনের ধারণা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে প্রণীত হয় বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ আইন এবং ১৯৮১ সালে গঠিত হয় বেপজা। ১৯৮৩ সালে চালু হয় দেশের প্রথম ইপিজেড—চট্টগ্রাম ইপিজেড।

শুরুর পরবর্তী দুই বছরের মধ্যেই দেখা গেল চট্টগ্রামে বিদেশী বিনিয়োগকারী বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছেন। এখান থেকেই তৈরি পোশাক খাতের আসল যাত্রা শুরু হয়, যা এখন বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রধান স্তম্ভ।

চট্টগ্রামের সাফল্যের পর ১৯৯৩ সালে সাভারের আশুলিয়ায় দেশের দ্বিতীয় ইপিজেড-ঢাকা ইপিজেডের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় সাভার-আশুলিয়া ছিল অনুন্নত ও নীরব একটা এলাকা। ইপিজেড চালুর পর দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের বিস্তার ঘটে।

এরপর ১৯৯৮-২০০৬ সালের মধ্যে মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, উত্তরা, কর্ণফুলী ও আদমজী ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে শুরু হয় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, যেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে আটটি ইপিজেড ও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে বেপজার অধীন পরিচালিত জোনগুলোর মোট জমি মাত্র ১৩ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের আয়তনের মাত্র দশমিক শূন্য শূন্য ১ শতাংশ।

১৯৮৩ থেকে বেপজাধীন জোনগুলোয় এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। প্রশ্ন আসতে পারে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ৪৫ বছরে ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ কতটা বড় অর্জন? একভাবে দেখলে সংখ্যাটা হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু আরেক দিক থেকে দেখলে চিত্র ভিন্ন। ১৯৭১ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট এফডিআই হয়েছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বেপজার জোনগুলোতে বিনিয়োগ ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে এফডিআই ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ দেশের মোট এফডিআইয়ের ছয় ভাগের এক ভাগ এসেছে মাত্র দশমিক শূন্য শূন্য ১ শতাংশ জমিতে। এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে ক্ষুদ্র আয়তনেও বেপজার অবদান কতটা বড়।

বাংলাদেশের ছোট ভূখণ্ডে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ বা কাঁচামাল নেই। অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তাই অন্য দেশের সঙ্গে সরাসরি তুলনা সংগত নয়। যেখানে অনেক দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ নিজস্বভাবে পূরণ হয়, সেখানে বাংলাদেশকে প্রায় সব কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ সীমাবদ্ধতা নিয়েই যে বিনিয়োগ এসেছে, এটাই বেপজার জন্য এক বড় সাফল্য। প্রতি একরে বছরে সাড়ে ১০ কোটি টাকার অবদান রাখছে বেপজা।

অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়, সরকার জমি কিনে উন্নয়ন করল, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এসে উৎপাদন করল, রফতানি থেকে আয় করল, সেটা তারা নিয়ে চলে যাচ্ছে। তাহলে ইপিজেড থেকে দেশের লাভ কী? এটিকে দুভাবে দেখা যায়—আর্থিক লাভ ও অর্থনৈতিক লাভ।

বাস্তবে দেখা যায়, কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আটটি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত আছেন। প্রতি পরিবার গড়ে চারজন ধরলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের জীবিকার একটা বন্দোবস্ত হচ্ছে। এ আয় সরাসরি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। এটা একটা বড় অবদান।

ইপিজেডকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল আকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী চেইন গড়ে উঠেছে, যা অর্থনীতির চাকাকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। বিবিসির এক জরিপের উদাহরণ দেয়া যায়। দেখা গেছে, নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড চালুর ফলে আট বছরে ওই এলাকার দারিদ্র্যের হার ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

এ থেকে আর্থিক লাভও কম হয় না। ‌বিনিয়োগকারীদের লাভের একটি বড় অংশ কর্মীদের বেতন হিসেবে যায়। অন্য অংশ দিয়ে তারা স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ কেনে। ইপিজেডগুলোর ক্ষুদ্র আয়তন থেকে এভাবে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি অর্থনীতিতে (জিএনপি) যোগ হচ্ছে। এছাড়া প্রতি বছর বেপজা জমি ভাড়ার আয়ের ওপর ট্যাক্স দিচ্ছে; ৪৫ বছরে বেপজা ১ হাজার ৩২১ কোটি টাকার বেশি প্রত্যক্ষ কর দিয়েছে এবং সরকারি তহবিলে জমা করেছে ১ হাজার ৩২৪ কোটির বেশি। ইপিজেডের প্রতি একর জমি থেকে বছরে গড়ে সাড়ে ১০ কোটি টাকা আমাদের অর্থনীতিতে যোগ হয়। এর সঙ্গে হয় ব্র্যান্ডিং।

ইপিজেড শুধু বিনিয়োগ নয়, দেশের ব্র্যান্ডিংও করছে। ‌গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন জাপানি টয়োটা বা ইলেকট্রনিকসে সনির নাম শোনা যায়, তেমনি অ্যাপারেলসে ‘‌মেড ইন বাংলাদেশ’ এখন একটি স্বীকৃত ব্র্যান্ড। এ সার্থকতার প্রথম দাবিদার ইপিজেড। বৈদেশিক মুদ্রাও আনছে ইপিজেড।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। এ নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে বেপজা। বর্তমানে ইপিজেডে ৪৫০টি চালু কারখানার মধ্যে ৫২ শতাংশ পোশাকসংশ্লিষ্ট, বাকিগুলোয় তৈরি হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ক্যামেরা লেন্স, প্রিন্টারের টোনার, বাইসাইকেল, চশমার ফ্রেম, উইগ, জুতা এমনকি কফিনও।

এছাড়া, বেপজার ইকোনমিক জোনে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ড্রোন কারখানা গড়ে উঠছে। অলিম্পিকে ব্যবহৃত বাইসাইকেল, বিশ্ব আর্চারি প্রতিযোগিতার তীর, আর্মির অ্যান্টি–রেডিয়েশন ইউনিফর্ম তৈরি হচ্ছে ইপিজেডে।

তবে এর মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বর্তমানে এআইয়ের যুগ। বায়াররা শুধু পণ্যের মানই নয়, আরো কিছু বিষয় বিবেচনা করেন। আধুনিক প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, সেটিও খোঁজেন। তাই বেপজা প্যারাডাইম শিফট করছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অটোমেশনেও জোর দেয়া হচ্ছে, যাতে প্রযুক্তি এলে আমাদের মানুষ সেটি শিখতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে দক্ষ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়। ‌কয়েকদিন আগে চাইনিজ কোম্পানি হান্ডা গার্মেন্টসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হাই-টেক, অটোমেটেড শিল্প। তারা ম্যান–মেড ফাইবার থেকে হাইএন্ড পণ্য তৈরি করবে এবং ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। জানুয়ারিতে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় জায়গা নিতে চায়। কিন্তু তখন একটি চ্যালেঞ্জ সামনে আসে পানি সরবরাহ। এখন পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় তৎক্ষণাৎ পানি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া যায়নি।

সে সময় তারা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। পরে বিডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট করা হয়, হান্ডার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। বেপজা প্রস্তাব দিয়েছিল গার্মেন্টস ইউনিট মিরসরাইয়ে করা হোক, আর টেক্সটাইল অন্য কোথাও যেখানে পানির সহজলভ্যতা আছে। এতে বিনিয়োগকারীরও সুবিধা হবে এবং আমাদের অবকাঠামো চাপমুক্ত থাকবে।

উল্লেখ করার মতো একটি বিষয় হলো চীন, জাপানের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কর্মীর অভাব রয়েছে। আমরা যদি হাইএন্ড পণ্য এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন বড় বড় কোম্পানিকে অনুমতি দিই, আমাদের কর্মীরা যদি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে অভিজ্ঞতা নিতে পারে, তাহলে একসময় আমরা এ দেশগুলোয় উচ্চ দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে নতুন রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারব। এখন যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে মূলত অদক্ষ বা আধা–দক্ষ শ্রমিক যাচ্ছেন, সেখানে হাইস্কিল কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।

বেপজা পণ্যের বৈচিত্র্যায়ণের পাশাপাশি রফতানি বাজার বৈচিত্র্যায়ণেও বিশেষ নজর দিচ্ছে। রফতানি বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে আমাদের ওপর চাপ কমবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ শুধু আমেরিকার বাজারে। এ নির্ভরশীলতা থাকায় তারা পাল্টা শুল্ক বা চাপ প্রয়োগের সুযোগ পায়। যদি এটি ২০ শতাংশ না হয়ে ৫ শতাংশ হতো, তাহলে হয়তো আমরা সহজেই উপেক্ষা করা সম্ভব হতো।

বেপজা এখন এমন বিনিয়োগকারী খুঁজছে, যারা ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরেও জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার মতো বাজারে লক্ষ রাখছে। নির্ভরশীলতা কমাতে পারলে চাপও কমবে। এর সঙ্গে আসে কর্মী নিরাপত্তার বিষয়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করা যায়। তখন অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স, আরএসসি এসে কঠোর নজরদারি শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এটি আতঙ্কের ছিল, কিন্তু এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায় যে আমাদের বর্তমান কারখানাগুলো বিশ্বমানের। সেখানে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন করা হয়।

দেশের ইপিজেডগুলোয় ২৬টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা আছে, যার মধ্যে আটটি প্লাটিনাম সার্টিফায়েড। পরিবেশ সুরক্ষায় বেপজা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকা ইপিজেডে কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করেছে। যেখানে কেন্দ্রীয় ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বাণিজ্যিকভাবে সম্ভব নয়, সেখানে কারখানাগুলো নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করছে। কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। দুটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ ল্যাবরেটরি পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো কারখানা পরিবেশ মানদণ্ড ভঙ্গ করলে তার রফতানি অনুমতি সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়।

ইপিজেডগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০-৩৫ ভাগ সৌরশক্তির মাধ্যমে পূরণ সম্ভব। বেপজা এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, প্রত্যেকটা ইপিজেডে সোলার প্যানেল বসছে। এছাড়া কারখানাগুলোয় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ে কাজ চলছে। ‌কোনো ইপিজেডে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি উঠবে না। মোংলায় পাশের নদী থেকে নিতে হবে অথবা রিচার্জ করতে হবে, গোমতী নদী থেকেও পানি নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শ্রমিক কল্যাণেও বেপজার অঙ্গীকার রয়েছে। ইপিজেডের একজন কর্মী বাইরে থেকে গড়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি বেতন পান; কিছু ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের বেতন ১ লাখ টাকারও বেশি। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেলেও কখনো পাওনা বকেয়া থাকে না। বিনা প্রশ্নে কাউকে ছাঁটাই করার দৃষ্টান্ত ইপিজেডের ইতিহাসে নেই। এমনো না যে কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিক তাদের পাওনা পাননি। দেরি হলেও সব পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ ২৫-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন পেয়েছেন।

ইপিজেডের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আঘাতজনিত দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বা এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালুর জন্য আইএলওর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

তবে প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি ও বন্দর তিনটি বিষয় বিনিয়োগের বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা প্রাকৃতিক—প্রচুর কাঁচামাল নেই, জমি কম আর প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে বিশাল এলাকা বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়।

রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বন্দর সক্ষমতা ও জ্বালানি সরবরাহ। ‘এখনো মূলত একটি বন্দরের ওপর নির্ভর করছি, পায়রা ও মোংলার ব্যবহার সীমিত। মাতারবাড়ী চালু হলে সময় ও খরচ দুই-ই কমবে।

বিদ্যুতের জন্য গ্যাসই এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। এছাড়া কারখানার বয়লার চালাতেও গ্যাস লাগে। মিরসরাইয়ে পাইপলাইন তৈরি হলেও বিনিয়োগকারীদের এখনো গ্যাস সরবরাহের সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

৪৫ বছরে আমরা একটি ইপিজেড থেকে আজ আটটি ইপিজেড ও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে পৌঁছেছি। যশোর ও পটুয়াখালীতে দুটি নতুন জোনের কাজ চলছে। আশা করছি, ২০২৬ বা ২০২৭ সালের শুরুতে নতুন বিনিয়োগকারীদের জমি বরাদ্দ দিতে পারব। ‌২০২৯ সালের মধ্যে আরো দু-তিনটি নতুন ইপিজেড প্রকল্প শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

গাইবান্ধায় একটি ইপিজেড করার পরিকল্পনা আছে, যা হলে সেখানে বিশাল কর্মসংস্থান হবে। সিরাজগঞ্জে শহর রক্ষাবাঁধ এলাকায় প্রায় এক হাজার একর অলস জমি রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় আছে। এছাড়া হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের দিকে প্রাথমিক কাজ চলছে, ওদিকে একটা ইপিজেড করা যায় কিনা।

লেখক: নির্বাহী চেয়ারম্যান, বেপজা