গ্রামীণফোন দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর। রাজস্ব ও গ্রাহক বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ব্যবসার বর্তমান চিত্র আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমরা অর্থনৈতিক খাতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছি, যার প্রভাব টেলিকমসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও পড়েছে। দেশ একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা কৌশলগত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছি। ভালো সেবা দেয়ার কারণে আমাদের গ্রাহক সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৩ লাখে। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ কোটি ৩ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদিও চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। তবুও সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার কল্যাণে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় মোট কর-পরবর্তী মুনাফা ২ শতাংশ বেড়েছে। যদি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে গত বছরের তুলনায় ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী।
ফাইভজি, আইওটি, ক্লাউড ও ডিজিটাল সেবা—এসব খাতে গ্রামীণফোনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আপনি কেমন দেখছেন?
দেশের প্রথম অপারেটর হিসাবে আমরা এরই মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ফাইভজি সেবা চালু করেছি এবং আমাদের কৌশল হলো বাজারের চাহিদা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এর কাভারেজ বিস্তৃত করা। বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকদের মধ্যে ফাইভজি সক্ষম ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত। তাই আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সবার আগে গ্রাহকদের জন্য সর্বোত্তম ফোরজি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের নেটওয়ার্কে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহক রয়েছেন, যারা ফোরজি সক্ষম স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। কিন্তু তাদের সিম এখনো থ্রিজি। আমি আপনাদের মাধ্যমে এ বার্তা পৌঁছে দিতে চাই—ভালো ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে তারা যেন তাদের বর্তমান সিমটি পরিবর্তন করে ফোরজি সাপোর্টেড সিম ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে আমরা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে এমনভাবে প্রস্তুত করছি, যাতে সাধারণ গ্রাহক এবং শিল্প খাতের ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইভজি বিস্তৃতি সহজে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। আমরা বিশ্বাস করি, ফাইভজিতে রূপান্তর একটি ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া এবং এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত করতে হলে গ্রাহকের প্রস্তুতি, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং ব্যবহারিক প্রয়োগের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।
নিয়ন্ত্রক নীতি, প্রতিযোগিতা, নেটওয়ার্ক খরচ এবং গ্রাহকের চাহিদা পরিবর্তন—এসব চ্যালেঞ্জ গ্রামীণফোন কীভাবে সামলাচ্ছে?
আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রক নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনিশ্চয়তা। ঘন ঘন নীতিমালা ও দিকনির্দেশনার পরিবর্তন ব্যবসা ক্ষেত্রে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়। এর পরও পরিস্থিতি সামলে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি আমরা। তবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে রুদ্ধ করেছে এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) নীতিমালা। আমরা কিন্তু এসএমপির বিরুদ্ধে নই। সঠিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখে এমন সুপরিকল্পিত এসএমপি নীতিমালাকে সমর্থন করি আমরা। বর্তমান এসএমপি নীতিমালা পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে সবার জন্য সত্যিকারের ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত হয় এবং আমাদের অগ্রগতি ও উদ্ভাবন ব্যাহত না হয়। একই সঙ্গে এ নীতিমালার অধীনে, অ্যাসিমেট্রিক ইন্টারকানেকশন রেটে কার্যত দক্ষ অপারেটরদের অর্জিত অর্থ কম দক্ষ অপারেটরদের ভর্তুকি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিবর্তে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, যা প্রতিযোগিতামূলক বাজার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তাই আমাদের আহ্বান থাকবে, প্রতিযোগিতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি সুষ্ঠু বাজার বিশ্লেষণ না হওয়া পর্যন্ত ইন্টারকানেকশন চার্জে এ ধরনের বৈষম্য প্রত্যাহার করা।
এছাড়া অডিট আপত্তি নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আমাদের যে বিরোধ রয়েছে, তার দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধানের জন্য বিটিআরসিকে একটি চিঠি দিয়েছি। আশা করি, তারা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবেন।
নেটওয়ার্ক পরিচালন খাতে ব্যয় কমাতে আমরা একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছি, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করছি। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের প্রবণতা ও চাহিদার বিষয়টি জানতে পারছি আমরা। সে অনুযায়ী অফার তৈরি করছে গ্রামীণফোন।
আগামী ৫-১০ বছরে বাংলাদেশের টেলিকম খাতকে কোথায় দেখতে চান এবং সেখানে গ্রামীণফোনের ভিশন কী?
সারা বিশ্বেই মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের চিত্রটি বদলে যাচ্ছে। প্রথাগত মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ক্রমান্বয়ে পরিণত হচ্ছে টেলকো টেক কোম্পানিতে। বাংলাদেশেও চিত্রটা ব্যতিক্রম নয়। শুরুতেই বলেছি আমরা প্রথাগত মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে টেলকো টেক কোম্পানিতে রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় রয়েছি। আগামী ৫-১০ বছরে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। আইওটি সেবা আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, ক্লাউডভিত্তিক সেবার প্রসার ঘটবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকসেবা হবে আরো উন্নত। ফাইভজি প্রযুক্তির হাত ধরে বিকাশ লাভ করবে স্মার্ট ফ্যাক্টরি, স্মার্ট সিটি, রোবোটিক সার্জারি, ডিজিটাল শিক্ষা, স্মার্ট কৃষি সর্বোপরি স্মার্ট অর্থনীতি। আমাদের ভিশন হচ্ছে আমরা এ পরিবর্তনের পথে হতে চাই অগ্রগামী, পথপ্রদর্শক।
আমরা বিশ্বাস করি আগামী এক দশকে বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটালি সংযুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। টেলিকম খাত শুধু যোগাযোগ নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও আর্থিক সেবার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। তবে এর জন্য কিছু নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। প্রথমত, একটি ভবিষ্যৎমুখী ও স্বচ্ছ নীতিমালা কাঠামো প্রয়োজন, যাতে খাতটি খণ্ডিত নির্দেশনার বদলে স্থিতিশীল এবং নীতিভিত্তিক পরিবেশে পরিচালিত হয়। মাইক্রোম্যানেজমেন্টের পরিবর্তে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা দরকার, যা ব্যবসাকে উদ্ভাবন ও দ্রুত অভিযোজনের সুযোগ করে দেবে।
দ্বিতীয়ত, রেগুলেটরি সরলীকরণ ও আধুনিকায়ন অপরিহার্য। বর্তমানে জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। অথচ টেলিকম খাত একটি দীর্ঘমেয়াদি, মূলধননির্ভর খাত—যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি। এ খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করতে হলে নীতিনির্ধারকদের এখনই এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি।
তৃতীয়ত, করনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরো ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশের টেলিকম খাতে উচ্চমাত্রার ট্যাক্সেশন—বিশেষ করে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি এবং সিম ট্যাক্স—গ্রাহকসেবার খরচ বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত হচ্ছে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে ব্যাহত করছে। তাছাড়া ট্যাক্স কাঠামোয় ঘন ঘন ও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে নিরুৎসাহিত করে।
আমাদের প্রত্যাশা, আগামী ৫-১০ বছরে একটি স্থিতিশীল নীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে বাংলাদেশ টেলিকম খাত আরো প্রসারিত হবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে। গ্রামীণফোন তার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের দক্ষতা দিয়ে এ যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সংকল্পবদ্ধ।
অবকাঠামো উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক এক্সপানশন ও গ্রামীণ অঞ্চলে ডিজিটাল সেবা পৌঁছাতে গ্রামীণফোন কি নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে? এসব বিনিয়োগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?
গ্রামীণফোন সবসময়ই বিশ্বমানের নেটওয়ার্ক নির্মাণে সংকল্পবদ্ধ। বর্তমানে আমাদের রয়েছে ২৩ হাজার ৫০০-এরও বেশি টাওয়ার এবং প্রায় ১৯ হাজার কিলোমিটার ফাইবার নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে আমরা দেশের ৯৮ শতাংশের বেশি এলাকায় ফোরজি কাভারেজ নিশ্চিত করেছি।
আমাদের নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার মূল ফোকাস হলো অবকাঠামো উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে উচ্চমানের ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়া। ফলে গ্রাহকেরা পাবেন আরো উন্নত অভিজ্ঞতা, ব্যবসা ও শিল্প খাত পাবে নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি, আর সামগ্রিকভাবে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গ্রামীণফোনসহ বড় অপারেটররা স্থানীয় জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?
গ্রামীণফোনে আমরা বিশ্বাস করি—কানেক্টিভিটি মানে শুধু ইন্টারনেট অ্যাকসেস নয়; এটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, ডিজিটাল বিভাজন কমায় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির দ্বার উন্মোচন করে। এ বিশ্বাস থেকেই আমরা দুইটা মূল জায়গা নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং দ্বিতীয়ত তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। গত দুই বছরে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা প্রায় ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষকে ইন্টারনেট স্বাক্ষরতা ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং ৫০০ জন কমিউনিটি লিডারকে সম্পৃক্ত করেছি। শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল সেবা ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৭ লাখ শিশু ও ২৫ হাজার শিক্ষককে অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
ফিউচারনেশন প্লাটফর্মের মাধ্যমে, ইউএনডিপির সহযোগিতায় এরই মধ্যে এক লাখের বেশি তরুণকে আপস্কিলিং প্রোগ্রামে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ইন্টারনেটের দুনিয়া সবার’ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৪৩টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৭৩ হাজার গ্রামীণ নারীকে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ গ্রামীণফোন একাডেমি এরই মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে আপস্কিলিং প্লাটফর্মে যুক্ত করেছে। গ্রামীণফোন একাডেমি ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের মাধ্যমে তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা প্রায় ৩৫ হাজার ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া গ্রামীণফোন একাডেমি সম্প্রতি ‘এআই মিশন’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে, যার লক্ষ্য আগামী ছয় মাসে ১০ হাজার তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষ করে তোলা। এরই মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে জিপি এক্সিলারেটর প্রোগ্রাম এবং ‘জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা’ উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ হাজার ২৫০-এর বেশি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শুধু ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি করছি না, বরং কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, গ্রামীণফোনসহ বড় অপারেটরদের এ ধরনের টেকসই উদ্যোগই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করবে।
সম্প্রতি দেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের এআই-ভিত্তিক আইডিয়া প্রতিযোগিতা ফিউচারমেকারস আয়োজন করেছে গ্রামীণফোন। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পান।
বাংলাদেশে টেলিকম সেক্টরের উন্নয়নে গ্রামীণফোনের কৌশল কী? বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আপনারা কী করছেন?
দেশের টেলিকম খাতের অগ্রগতিতে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা। এ লক্ষ্যে গ্রামীণফোন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও টেলিনরের উদ্যোগে দেশব্যাপী চলছে ডিজিটাল ইনক্লুশন প্রকল্প। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে অনলাইন সেফটি, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সরকারি সেবা গ্রহণের ওপর প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক মাধ্যম কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করে আয় করা যায় সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি আমরা। দেশজুড়ে আটটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৩৩ লাখ মানুষ, বিশেষত নারীরা এ পদক্ষেপ থেকে উপকৃত হয়েছেন।
এছাড়া গ্রামীণ নারীদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে ‘ইন্টারনেটের দুনিয়া সবার’ নামে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশের ২ হাজার ৪৩টি ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের আয়োজন করেছে গ্রামীণফোন।
ডিজিটাল লাইফস্টাইল সেবা ও কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে গ্রামীণফোন কী নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বা নিতে যাচ্ছে?
ডিজিটাল লাইফস্টাইল সেবার প্রসারে আমরা গ্রাহকদের জন্য এনেছি আইওটি পণ্য। এছাড়া রয়েছে জিপিফাই, জিপি শিল্ড, ওয়ান গেমসহ নানা উদ্ভাবনী সেবা। টেলিকম খাতে ডিজিটাল প্লাটফর্ম হিসেবে একটি মানদণ্ড তৈরি করেছে মাইজিপি অ্যাপ। বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থানীয় সেলফ সার্ভিস অ্যাপে পরিণত হয়েছে এটি। প্রতি মাসে এ অ্যাপ ব্যবহার করেন ২ কোটি ২৫ লাখ গ্রাহক। টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি বিনোদন, খেলা, শিক্ষা এবং জিপি-স্টার ডিসকাউন্টের মতো বিভিন্ন সেবার সহযোগে একটি সমন্বিত অ্যাপ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মাইজিপি। এছাড়া ডিজিটাল বিনোদনের অন্যতম একটি প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে বায়োস্কোপ প্লাস।
গ্রাহকদের সুবিধার্থে এখন চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা প্রদান করছি আমরা। যাতে তারা দ্রুত ও যেকোনো সময় তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সেবা গ্রহণ করতে পারেন। বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০২০ সাল থেকে ‘সাইনলাইন’ সেবা প্রদান করে আসছে গ্রামীণফোন। এ সেবার মাধ্যমে ভিডিও কলে গ্রাহকসেবা গ্রহণ করতে পারেন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।










