কোনো সরকারই আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে বর্তমান সরকার যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় আছেন তারাও কাজটা করতে পারলেন না। তারা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করলেন, কিন্তু সে কমিশনের রিপোর্ট ফেলে রাখলেন, এটা নিয়ে কোনো কাজ করলেন না। গণমাধ্যমে যে সংস্কার দরকার ছিল, গণমাধ্যম আজ যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, গণমাধ্যমের ওপর মানুষের যে আস্থা নেই, সেই কারণগুলো এ কমিশনের রিপোর্টে তুলে আনা হয়েছিল। সংঘবদ্ধ হওয়ার কথা এসেছে, সেখানে বড় বাধা হচ্ছে আমাদের নিজেদের মধ্যে পলিটিক্যাল অ্যাফিলিয়েশন থাকা। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা আমরা দূর করতে না পারব ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এক হতে পারব না। আমরা সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ বলে দাবি করি কিন্তু আমাদের ইউনিয়ন হচ্ছে পলিটিক্যালি ডিভাইডেড।

পলিটিক্যাল অ্যাফিলিয়েশনের জায়গা যদি সংশোধন করতে না পারি তাহলে সাময়িকভাবে ঐক্য হলেও সেটি টিকবে না। আমরা সবাই মিলে আমাদের কী করণীয় সে বিষয়ে একটা নীতিমালা করতে পারি। আমরা ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটা নীতিমালা তৈরি করেছি। সেখানে আমরা বলেছি যে আমাদের কীভাবে সাংবাদিকতা করা উচিত। কোনটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত না। আমি নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের কাছে এ অনুরোধ করব, সবাই মিলে যদি একটা কোড অব কনডাক্ট বা কোড অব এথিকস তৈরি করতে পারি তাহলে হয়তো আমাদের যে ভুলভ্রান্তি আছে সেগুলো শোধরাতে পারব।