লিটন আকন্দ। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। স্নাতক শেষ করেন রংপুর কারমাইকেল কলেজ এবং স্নাতকোত্তর ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর চাকরি নেন বেসরকারি একটি কারখানায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ধীরে ধীরে নিজের চাকরি থেকে মন উঠতে শুরু করে তার। বন্ধুবান্ধব থেকে ধার নিয়ে ২০১১ সালে নিজেই খুলে বসেন একটি কারখানা। নাম দেন ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্ম বাংলাদেশ।

ব্যবসায়িক কাজের সুবিধার জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নিয়েছেন বেশ কয়েকটি ডিগ্রিও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমদিকে বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। তখন চিন্তা করেছি চাকরির পাশাপাশি কিছু করা যায় কিনা। আমি তখন আজি-নো-মতো বাংলাদেশে কাজ করি। সেখান থেকেই আমার ব্যবসা করার চিন্তা মাথায় আসে। ২০১১ সালে আমি ছোট পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করি। প্রথমদিকে ৫ লাখ টাকার মতো বিনিয়োগ করি। আশপাশের মানুষের কাছ থেকে ধার নিয়ে আমি এ ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তারপর আমার ব্যবসার যখন প্রসার ঘটল তখন আমি এ চাকরি ছেড়ে দিলাম। যখন আমি চাকরি ছাড়ি, তখন আমার অধীনে ১৭ জন কাজ করত। এখন আমার অধীনে ১৫০ জনের মতো কাজ করে।’

প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের কাঁচামাল বাইরে থেকে আমাদনি করে। যেমন চীন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে। এরপর তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্রারম্ভিক উপাদান তৈরি করে। তা দেশের প্রধান প্রধান খাবার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করে থাকে। যেমন স্কয়ার, অলিম্পিক, ডেকো ইত্যাদি। বর্তমানে তার কারখানাটি সাভারেরে বিরুলিয়ায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অফিস মিরপুরে অবস্থিত।

শুরুর দিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রারম্ভিক উপাদান সরবরাহ করে থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে নিজেরাই খাদ্যজাতীয় পণ্য তৈরি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। যেমন মসলা ও সস। স্বাদ ও সেভরি এ দুটি ব্র্যান্ডের নামে পণ্যগুলো বাজারজাত করা হয়। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে আমরা দেশের প্রদান খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফিনিশড ফুড তৈরির প্রারম্ভিক উপাদান সরবরাহ করতাম। সেই ধারণা থেকে মনে হলো তারা যেহেতু আমাদের থেকে নেয়া উপাদান থেকে বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না। সেই ভাবনা থেকে ২০১৩ সালে স্বাদ নামে আমরা বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি শুরু করি। আমাদের বর্তমানে দুটো ব্র্যান্ড—স্বাদ ও সেভরি। এ দুটো ব্র্যান্ডের অধীনে প্রায় ৩০টি পণ্য তৈরি করে থাকি। প্রথম দিকে আমাদের মূল প্রতিবন্ধকতা ছিল মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। সবাই নামিদামি ব্র্যান্ডের পেছনে ছোটে। সেজন্য এখনো আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০টি জেলায় আমাদের পণ্য সরবরাহ করা হয়। আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের নাম ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস বাংলাদেশ। সাতজন নিয়ে আমি কাজ শুরু করি। এখন ১৫০ জন রয়েছে। ২০১৩ সালে বার্ষিক টার্নওভার ছিল ১৫-২০ লাখ টাকা। এখন মাসিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার মতো। এছাড়া ওই কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আমি যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তা যেন আমার প্রতিষ্ঠানে না থাকে। আমি যখন নিজের ব্যবসা দিলাম তখন এ বিষয়গুলোকে মাথায় রাখার চেষ্টা করতাম। যার কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের এখন প্রভিডেন্ট ফান্ড রয়েছে। আমার এখানে যারা কাজ করে তাদের আমরা ভালো একটি পরিবেশ দেয়ার চেষ্টা করি।’