শুরুতেই আমি স্মরণ করতে চাই, এক বছর আগের এই সময়ে দেশের তরুণ ছাত্ররা যেভাবে সাহস, দৃঢ়তা আর আত্মত্যাগ নিয়ে গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, তা ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা আজ যে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি, তার বীজ রোপণ হয়েছিল।
যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। আমরা পুরোপুরি সমর্থন করি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে চলমান সংস্কারমূলক উদ্যোগকে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে এক টেলিফোন আলাপেও এ সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ আমরা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও উদযাপন করছি। আমাদের মানুষে-মানুষে সম্পর্ক খুবই দৃঢ়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে তিন লক্ষাধিক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিক বসবাস করছেন, আর বাংলাদেশে রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মার্কিন নাগরিক।
আমাদের দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর প্রায় ১২০ জন বাংলাদেশী সামরিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, যেমন ওয়েস্ট পয়েন্ট ও নেভাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। এ নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই আরো শক্তিশালী ও নিরাপদ হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হিসেবে সহায়তা করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের জনগণ এ খাতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সম্মিলিত সহায়তার চেয়ে বেশি। শুধু এ বছরেই সহায়তা এসেছে ১৬০ মিলিয়ন ডলার।
আমাদের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে। এ দীর্ঘ যাত্রায় ইউএসএইড বাংলাদেশে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কও দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশই আসছে দুটি আমেরিকান কোম্পানি শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জি থেকে। শেভরন হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী। রেলপথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েবটেক ও প্রোগ্রেস রেইলের তৈরি ইঞ্জিন চলছে। আমেরিকান কোম্পানি এলিকট ও ডিসিসি ড্রেজিংয়ের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের নদীপথ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করছে। ওরাকল, মাইক্রোসফট, মেটা, গুগল, সিসকো, স্টারলিংক, মাস্টারকার্ড, ভিসা—এ প্রযুক্তি ও আর্থিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কৃষি ক্ষেত্রেও আমাদের অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা সরবরাহ করছেন উচ্চমানের তুলা, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
বর্তমানে আমাদের দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। আমি নিশ্চিত করতে পারি, এমনকি এ সপ্তাহেও উভয় দেশের সরকার একসঙ্গে কাজ করছে আমদানি-রফতানির ভারসাম্য আনার জন্য, শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা কমাতে এবং শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে, যাতে প্রতিযোগিতার একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি হয়।
ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন: চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
(যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের বক্তব্যের অংশবিশেষ)





