গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ যতটুকু এগিয়েছে, তার পেছনে নারী নীরবে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রেখে চলেছেন। নারীরা পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এর পরও নারী ক্ষমতায়নের দিক থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি এখন শুধু আগের চেয়ে জোরালো হয়নি; বরং তা এসব ক্ষেত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। নারীর অগ্রগতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে কিছু বিষয়ে বাড়তি জোর দেয়া প্রয়োজন। প্রথমত, নারীর নিরাপত্তা। নিরাপদ পরিবেশই নারীর অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। এ নিরাপত্তা শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে নিশ্চিত করা যাবে না। সামাজিকভাবে নারীর নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সজাগ হতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হয়রানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন গৃহিণী, শিক্ষার্থী বা রাজনীতিবিদ কোনো নারীই অনলাইনে হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। যেহেতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বাদ দিয়ে এখন চলা সম্ভব নয়; তাই এ মাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। সেইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি ‘আমি এগিয়ে যাব’—এ দৃঢ়চেতা মনোভাব একজন নারীকে ধারণ করতে হবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের নারীদেরও এ আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে। পরিবার ও সমাজকে নারীদের নিয়ে ভাবনাগত জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া—দুটোই অপরিহার্য। একটি বিষয় উল্লেখ করতে হবে নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিএনপি শুরু থেকেই কাজ করে চলেছে। সিদ্ধান্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করতে পারলে নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না। এ ভাবনা থেকেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিন্তু দলের বিভিন্ন কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এমনকি গ্রাম সরকারেও নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সংরক্ষিত পদের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। নারীর কল্যাণ ও উন্নয়নে ‘মহিলাবিষয়ক’ একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় তার হাতেই প্রতিষ্ঠা হয়। পরে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষায় এক প্রকার বিপ্লব ঘটিয়ে দেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে গেছেন। উপবৃত্তিকে তৃতীয় বিশ্বের নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মডেল হিসেবে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত কন্যা সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষারও প্রবর্তন করেছিলেন তিনি।
শুধু সরকারে থাকাকালেই নয়; বিরোধী দল হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপি পুরোটা সময়জুড়ে নারীদের অগ্রগতির ব্যাপারে সচেতন ও সরব ছিল। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে সর্বশেষ ৩১ দফায়ও তা স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতাহারে তার পুরো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু করা। পরিবারের মা বা নারীপ্রধান এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। এটি একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবে। এর সুফল কিন্তু পুরো পরিবার পাবে। এছাড়া শিক্ষা ও অন্যান্য খাতেও নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অতীতের মতো এবারো বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর অগ্রগতিতে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।
আফরোজা খানম রিতা, এমপি: মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়





