বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। তবে প্রান্তিকভিত্তিক বিক্রিতে কিছুটা মন্দার ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) চলতি মাসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে ২০২৫ সালের মার্চে এককভাবে চিপ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এসআইএ। অর্থাৎ প্রায় সব মার্কিন চিপ কোম্পানি এ সংগঠনের সদস্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব আন্তর্জাতিক চিপ কোম্পানি আছে, তাদের মধ্যেও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৬৬ শতাংশ) কোম্পানি এসআইএর অন্তর্ভুক্ত বা এদের সঙ্গে যুক্ত।

সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নিউফার বলেন, ‘বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর চাহিদা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। টানা ১১ মাস ধরে বার্ষিক ভিত্তিতে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।’

মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে চিপ বিক্রি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক ও অন্যান্য অঞ্চল, চীন ও জাপানেও বিক্রি বেড়েছে ইতিবাচক হারে। কেবল ইউরোপে বিক্রি কমেছে ২ শতাংশ।

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (জেন এআই), ফাইভজি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও এজ কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিগুলো উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে। প্রায় ৬০ শতাংশ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি বলছে, এসব প্রযুক্তি তাদের মূল ব্যবসায়িক লক্ষ্যকে প্রভাবিত করছে। এদিকে চিপ ব্যবহারকারী ৫৪ শতাংশ কোম্পানি বলছে, তাদের কম্পিউটিং চাহিদা পূরণের জন্য জিপিইউর উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) পূর্বাভাস বলছে, ক্লাউড সেন্টার ও অন্যান্য বিশেষায়িত শিল্পের অগ্রগতির ফলে চলতি বছর সেমিকন্ডাক্টর খাতের আকার ১৫ শতাংশ বাড়বে।

সেমিকন্ডাক্টর ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনা করা যায় না। কম্পিউটার প্রসেসর, স্মার্টফোনের চিপ, ক্যামেরার সেন্সর—সবই সেমিকন্ডাক্টরের সাহায্যে চলে। এটি একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশের অর্থনীতি, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ইত্যাদির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে যে দেশ এগিয়ে থাকে, তারা সামরিক, মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাড়তি প্রভাব বিস্তার করতে পারে।