বিশ্বজুড়ে বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে লাইভ স্ট্রিমিং। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে খেলা, গেমিং, শিক্ষা, অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। খবর ডিমান্ডসেইজ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ২৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি নিয়মিত লাইভ স্ট্রিম দেখে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের পূর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে খাতটির বাজারমূল্য ছাড়াবে ৩৪ হাজার কোটি ডলার, গত বছর যা ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে সহজলভ্য ইন্টারনেট ও স্মার্ট ডিভাইসের বিস্তার। পরিসংখ্যান আরো বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন শুধু তিন মাসে বিশ্বব্যাপী লাইভ স্ট্রিমিং দেখা হয়েছে ৮৫০ কোটি ঘণ্টা।

প্রতিবেদন বলছে, গতিশীল খাতটি গেমিং ও বিনোদন থেকে শুরু করে শিক্ষা ও ব্যবসায়িকসহ নানা কনটেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করছে। টুইচ, ইউটিউব ও ফেসবুক গেমিংয়ের মতো প্লাটফর্মগুলো এখন বাজারটির শীর্ষস্থানে রয়েছে। কারণ এখানে নির্মাতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে আয় ও দর্শকের সঙ্গে সংযোগের বড় সুযোগ। অনুদান, সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও স্ট্রিমাররা অর্থ উপার্জন করতে পারছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্টের মধ্যে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের অবস্থান তৃতীয়। এসব ভিডিওতে সাধারণত টিউটোরিয়াল বা পণ্যের রিভিউ বেশি দেখানো হয়।

লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জনপ্রিয়তা শুরু হয় কভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকে। ওই সময় ভার্চুয়াল ইভেন্ট, কনসার্ট ও কনফারেন্স জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় লাইভ কনটেন্টের চাহিদা আরো বেড়ে যায়। এর পরই বাজারটি দ্রুত এগিয়ে যাওয়া শুর করে। এর সঙ্গে বিশ্বজুড়ে দর্শকের জন্য অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটির (ভিআর) মতো নতুন প্রযুক্তি লাইভ স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতাকে আরো বাস্তবধর্মী করে তুলছে।

বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটস বলছে, বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর আগে যেভাবে বাজারটির চাহিদা অনুমান করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি দেখা গেছে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে। তবে একদিকে যেমন লকডাউনে অনলাইন কনটেন্টের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে এ খাতকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারীর সময় মঞ্চ অনুষ্ঠান, কনসার্ট, খেলাধুলা বা বড় কোনো জনসমাবেশের মতো সরাসরি ইভেন্টগুলো বাতিল করতে হয়। এ ধরনের আয়োজন থেকে সাধারণত লাইভ স্ট্রিমিংয়ে বিভিন্ন রকমের কনটেন্ট তৈরি হতো। ফলে কনটেন্টের বৈচিত্র্য কমে যেতে শুরু করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিজ্ঞাপনের বাজেট কমে যায়, যা কনটেন্ট নির্মাতা ও প্লাটফর্মগুলোর আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, তবু এ সংকট লাইভ স্ট্রিমিং খাতের টিকে থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে আকস্মিক এ বাজার প্রবৃদ্ধি এবং বেড়ে যাওয়া বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) এখন ধীরে হয়ে আসছে।

বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটসের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট অবকাঠামোর বিকাশ এবং উচ্চগতির সংযোগ সহজলভ্য হওয়ায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তৃতি যত বাড়ছে, তত বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুতগতির সংযোগ দর্শকদের জন্য আরো সহজ স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। বিশেষ করে হাই-ডেফিনিশন ভিডিও কিংবা ভার্চুয়াল ইভেন্টের মতো বেশি ডাটা খরচ হয়, এমন কনটেন্টে দর্শক ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

লাইভ স্ট্রিমিংয়ের একটি বড় জায়গাজুড়ে আছে ভিডিও গেমস লাইভ স্ট্রিমিং। কোটি কোটি মানুষ অন্যদের গেম খেলা সরাসরি দেখে উপভোগ করছে। সাধারণ গেমপ্রেমী থেকে শুরু করে পেশাদার ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়রাও এ ধারা অনুসরণ করছে।