বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টরের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইন্টেল। ২০৩০ সালের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক চিপ তৈরির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ খাতে ইন্টেল সরাসরি প্রতিযোগিতা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদক্ষেপটি ইন্টেলের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন। এতদিন ইন্টেল মূলত নিজেদের পণ্যের জন্যই চিপ তৈরি করত। কিন্তু এবার তারা অন্য কোম্পানির জন্যও চিপ তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে।

তবে বাস্তবিকভাবে ইন্টেল স্যামসাংকে পেছনে ফেলতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে চিপ তৈরির ফাউন্ড্রি ব্যবসায় (অন্য কোম্পানির ডিজাইন অনুযায়ী চিপ তৈরি করা) স্যামসাং বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর এ তালিকায় প্রথমে আছে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা টিএসএমসি।

ইন্টেল দীর্ঘদিন ধরে নিজের ডিজাইন করা চিপ তৈরি এবং ডিজাইনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কোম্পানিটি পিসি ও ডাটা সেন্টারের প্রসেসর বাজারেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে অন্য কোম্পানির জন্য চিপ তৈরির চুক্তিভিত্তিক ব্যবসায় ইন্টেল অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে টিএসএমসি ও স্যামসাং বেশ এগিয়ে।

গত বছরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ইন্টেলের ফাউন্ড্রি বিভাগ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট। চুক্তিভিত্তিক চিপ তৈরির বাজারে কোম্পানির হিস্যা ৮ শতাংশ, যেখানে স্যামসাংয়ের শেয়ার ১৮ শতাংশ এবং শীর্ষে থাকা টিএসএমসির দখলে রয়েছে ৫৩ শতাংশ বাজার।

কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, নতুন ১৮এ প্রযুক্তি, উন্নত চিপ প্যাকেজিং ও এআই চিপ তৈরিতে জোর দিয়ে ইন্টেল এবার ফাউন্ড্রি ব্যবসা আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারে ২০ শতাংশ হিস্যা অর্জন করা। এ লক্ষ্য পূরণ হলে ইন্টেল স্যামসাংকে হটিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসবে।

ইন্টেলের আগ্রাসী ফাউন্ড্রি পরিকল্পনা শুধু স্যামসাংকে টপকানো নয়, বরং এটি পুরো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাউন্ড্রির বিকল্প বাড়লে চিপ ডিজাইন কোম্পানিগুলোর সুবিধা বাড়বে। যারা এতদিন শুধু টিএসএমসি বা স্যামসাংয়ের ওপর নির্ভর করত, তারা এখন ইন্টেলকেও একটি বড় বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় নিতে পারবে। এছাড়া ইন্টেল চিপ উৎপাদন বাড়ালে, চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর চাহিদাও বাড়বে।