মাইক্রোসফটে ২৫ বছর ধরে কাজ করেও কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে চাকরি হারিয়েছেন এক কর্মী। সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা করে কাজ করেও কর্মদক্ষতার অভাবে নয় বরং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নেয়া সিদ্ধান্তে চাকরি হারান বলে অভিযোগ তার। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং করপোরেট জগতে এআই-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা অমানবিক হতে পারে, তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

ঘটনাটি সামনে আসে যখন ওই কর্মীর স্ত্রী রেডিটে এ বিষয়ে পোস্ট করেন। তিনি জানান, তার স্বামী ২৫ বছর ধরে মাইক্রোসফটে কাজ করছিলেন। একদিন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের খবর পান। তার শেষ কর্মদিবস ছিল তার ৪৮তম জন্মদিন।

তিনি আরো জানান, কম্পিউটারের অ্যালগরিদম তাকে এলোমেলোভাবে বাছাই করেছে। তার স্বামী একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি। শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি খুব কমই ছুটি নিতেন। সপ্তাহে প্রায়ই ৬০ ঘণ্টা কাজ করতেন তিনি। এমনকি ছুটির দিনগুলোয়ও কাজ করেছেন। তবে কখনো বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতিও চাননি।

সম্প্রতি মাইক্রোসফট বিশ্বব্যাপী প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা কোম্পানির মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। কোম্পানিটি আগেই জানিয়েছে, এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও কার্যক্রম আরো দক্ষ করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ওয়াশিংটন রাজ্যেই প্রায় দুই হাজার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে কর্মী ছাঁটাইয়ে এআই টুলের ব্যবহার এবার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এ ঘটনায় আলোচিত মাইক্রোসফটের এআই ফর স্টার্টআপস বিভাগের পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা দে কুইরোজ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তিনি নিজেও ছাঁটাইয়ের স্বীকার হয়েছেন। এতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মন ভেঙে গেছে।’ ছাঁটাই হওয়ার পরও তিনি কিছুদিন মিটিংয়ে অংশ নেন এবং তার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন। কারণ এটিই তার কাছে সঠিক মনে হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাইক্রোসফট এআই দিয়ে ৫০ শতাংশ কোড উৎপাদন করতে চায় এবং এরই মধ্যে ৩০ শতাংশ কোড তৈরি করছে। তবে অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের কারণে প্রবীণ কর্মী বা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।