মেহের-উন-নিসা
কিংবা সম্রাজ্ঞী
নূরজাহানকে প্রণতি
জানাতে নজরুলের
গানের চেয়ে
উত্তম আর
কী হতে
পারে?
নূরজাহান! নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে
ভেসে,
এলে মেঘলামতীর
দেশে
ইরানী গুলিস্তান
\
নার্গিস লালা
গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিরি ফরহাদ
সিরাজের উপকথা।
এনেছিলে তুমি
তনুর পিয়ালা
ভরি
বুলবুলি দিলরুবা
রবাবের গান
\
তব প্রেমে
উন্মাদ ভুলিল
সেলিম,
সে যে
রাজাধিরাজ-
চন্দনসম মাখিল
অঙ্গে
কলঙ্ক লোকলাজ।
যে কলঙ্ক
লয়ে হাসে
চাঁদ
নীল আকাশে,
যাহা লেখা
থাকে শুধু
প্রেমিকের ইতিহাসে,
দিবে চিরদিন
নন্দন লোকচারী
তব সেই কলঙ্ক
সে প্রেমের
সম্মান \
নূরজাহান নিজেও
কবি ছিলেন,
শক্তিশালী কবি।
তার সমাধিতে
এপিটাফে উত্কীর্ণ
তারই পঙিক্তমালা
অনূদিত হয়েছে
কবি সত্যেন্দ্রনাথ
দত্তের হাতে:
গরীব গোরে
দীপ জ্বেলো
না
ফুল দিও
না কেউ
ভুলে—
শামা পোকার
না পোড়ে
পাখ,
দাগা না
পায় বুলবুলে।
নজরুলের গান
এবং নূরজাহানের
এই এপিটাফ
কখনো বলে
না যে
তা ষোড়শ
শতকের শেষাংশ
এবং সপ্তদশ
শতকের প্রথমাংশের
সবচেয়ে ক্ষমতাশালী
নারীকে নিয়ে
রচিত। নজরুলের
গানে তার
প্রেমের কলঙ্ক
নিয়ে চাঁদও
হাসে, আর
নিজের এপিটাফে
নিজেকে প্রতিষ্ঠা
করেছেন দীনের
চেয়ে দীনজন
হিসেবে।
ক্ষমতা ও
রাজনীতির সঙ্গে
এই কাব্য
মানায় না,
তবুও এটাই
সত্য, নূরজাহানই
ছিলেন মোগল
রাজপ্রাসাদের শ্রেষ্ঠ
কবি।
মার্গারেট ম্যাকনিকল
সম্পাদিত পোয়েমস বাই
ইন্ডিয়ান উইমেন থেকে
নূরজাহানের দুটো
কবিতা ভাষান্তর
করার তাগিদ
অনুভব করছি:
১. ভালোবাসা
গলে
গেছে
তনু
হয়ে
গেছে
জল
যদি
কোনো
সুরমা
থেকে
থাকে
তা
হয়ে
গেছে
বুদ্ধদের
সুরমা।
বাগানে
বয়ে
যাওয়া
সকালের
বাতাসে
কুড়িরা
দল
মেলে
আর
আমার
প্রিয়তমর
হাসি
চাবি
হয়ে
খুলে
দেয়
হূদয়ের
দরজা
আমার।
২. ঈদের
বাঁকা
চাঁদ
অবশেষে
আকাশে
দেখা
দিয়েছে
শুঁড়িখানার
হারানো
চাবি
শেষ
পর্যন্ত
খুঁজে
পেয়েছে
অশ্রুপাত
ছাড়া
আমার
দু’চোখের
কোনো
কাজ
নেই
হ্যাঁ,
যাদের
হাত
ও
পা
নেই
তারা
আর
কী
করতে
পারে?
* * *
ভাগ্য অন্বেষণে
দিল্লি আসছেন
মির্জা গিয়াস
বেগ। গর্ভবতী
স্ত্রী ও
দুই পুত্র
নিয়ে পারস্য
থেকে দিল্লি
আসার পথে
দস্যুর কবলে
পড়েন। কান্দাহারে
এই নিঃস্ব
পরিবারের একটি
কন্যাসন্তান—মেহের-উন-নিসা
৩১ মে
১৫৭৭ সালে
জন্মগ্রহণ করেন।
তারা এই
সদ্যোজাত কন্যাকে
আদৌ বাঁচাতে
পারবেন কিনা
সন্দিহান ছিলেন।
দারিদ্র্য থেকে
রক্ষা পেতে
তারা শাহ
ইসমাইলের রাজত্ব
থেকে পালিয়েছেন।
তাদের স্বজনদের
কেউ কেউ
দিল্লির সম্রাট
আকবরের অনুগ্রহে
ভালোই জীবনযাপন
করছেন—এ
সংবাদ তাদের
জানা ছিল।
মেহের-উন-নিসাকে
নিয়ে অনেক
কাহিনী প্রচলিত
আছে। সন্তান
বাঁচাতে পারবেন
না—এ
আশঙ্কায় সদ্যোজাত
শিশুকে ফেলে
তারা কাফেলায়
শরিক হয়ে
এগোতে থাকেন।
কিছুদূর এগিয়ে
অপত্যের টানে
তারা আবার
ফিরে আসেন
এবং বিস্মিত
হয়ে দেখেন
শিশুর পাশে
ফনা তুলে
বসে আছে
বিষধর এক
সাপ। এতটুকু
ক্ষতি করেনি
শিশুর—সাপ
কি তার
প্রহরায় ছিল!
একটি কাফেলা
দলনেতার অনুগ্রহে
তারা দিল্লি
পৌঁছেন। তিনিই
মির্জা গিয়াসকে
রাজদরবারে উপস্থাপন
করেন এবং
তার রুটি
উপার্জনের একটি
বন্দোবস্ত হয়ে
যায়—মির্জা
গিয়াস নিজগুণে
এতটাই গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে ওঠেন
যে দিল্লির
দরবারে সম্রাট
আকবর এবং
তারপর সম্রাট
জাহাঙ্গীরের জন্য
অপরিহার্য হয়ে
পড়েন।
খোদাই করা
পাথরের পর্দার
কিংবা হাওদার
অন্তরালে থাকলেও
মোগল যুগের
কীর্তিমান নারীদের
নাম ইতিহাসের
পাতায় উঠেছে।
তাদের কাহিনী
রচিত হয়েছে
ফারসি, সংস্কৃত
কিংবা কোনো
ইউরোপীয় ভাষায়।
হেরেমে আশ্রয়
লাভ করা
মির্জা গিয়াসের
কন্যা নিজের
বুদ্ধিমত্তা, সৌন্দর্য
ও কর্মদক্ষতা
দিয়ে কেবল
হেরেমই জয়
করেননি, জয়
করেছেন ভারতবর্ষ।
মেহের-উন-নিসা
সম্রাট জাহাঙ্গীরের
স্ত্রী হিসেবে
অভাবনীয় ক্ষমতার
অধিকারী হয়ে
ওঠন এবং
ফারসি, সংস্কৃত
ও ইউরোপীয়
একাধিক ভাষায়
তাকে নিয়ে
আখ্যান রচিত
হয়।
জাহাঙ্গীর লিখেছেন,
‘তার দক্ষতা
ও অভিজ্ঞতা
সেই সব
বিখ্যাত চিকিৎসকের
চেয়ে বেশি...সে
ধীরে ধীরে
আমার পানাভ্যাস
কমিয়ে এনেছে,
যেসব দ্রব্য
ও আহার
আমার উপযোগী
নয়, সে
সব থেকে
আমাকে সরিয়ে
নিয়েছে।’
ওলন্দাজ বণিক
ফ্রান্সেসকো পেলসার্ট
ডাচ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির
প্রতিনিধি হিসেবে
১৬২০ থেকে
১৬২৭ পর্যন্ত
ভারতে ছিলেন।
তিনি লিখেছেন,
সম্রাটের পোশাক
বদল থেকে
শুরু করে
শিশুর মতো
তার গা
হাতানো—নারী
দাসীদের নিয়ে
তিনিই করতেন।
নিকোলাও মানুচ্চি
সম্রাটের জন্য
নূরজাহানের সেবার
বিস্তারিত বিবরণ
লেখেন। সম্রাট
তাকে নিয়ে
সত্যিই সুখী
ছিলেন।
খসরু কাহিনী
জাহাঙ্গীরের
জ্যেষ্ঠ পুত্র
খসরুকে নিয়ে
তিনি সমস্যায়
ছিলেন। আকবরের
শাসনের শেষ
দিকে ক্ষমতা
দখল করার
জন্য জাহাঙ্গীরও
(তখন রাজকুমার
সেলিম) অধৈর্য
হয়ে উঠেছিলেন।
তবে তাদের
মধ্যে সমঝোতা
হয় এবং
আকবরের মৃত্যুর
পরই ১৬০৫
সালে জাহাঙ্গীর
ক্ষমতাসীন হন।
কিন্তু খসরু
রাজসভার কিছু
ষড়যন্ত্রপ্রিয় সদস্যের
প্ররোচনায় এতটাই
বেপরোয়া ও
বিদ্রোহী হয়ে
ওঠেন যে
জাহাঙ্গীর ষড়যন্ত্রকারীদের
হত্যা করে
খসরুকে গৃহবন্দি
করে ফেলেন।
আরেক পুত্র
শাহজাহানের (তখন
রাজকুমার খুররম)
তত্ত্বাবধানে ১৬২১
সালে মৃত্যু
পর্যন্ত খসরু
দাক্ষিণাত্যে গৃহবন্দি
থাকেন।
এ নিয়ে
তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি-তে
সম্রাট লিখেছেন:
খসরুকে নিয়ে
দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা—আমি
আদেশ দিয়েছি
যাতে দুর্গে
তাকে বন্দির
মতো রাখা
না হয়—তাকে
স্বস্তিকর জীবনযাপনের
জন্য—খাওয়া,
পোশাক ইত্যাদিতে
যা কিছু
প্রয়োজন তা-ই
যেন সরবরাহ
করা হয়।
জাহাঙ্গীর তার
কাছে পুত্রের
যে আনুগত্য
চেয়েছিলেন, তা
না পেয়ে
বলেছেন, সে
যেন কখনো
আমাকে সালাম
জানাতে না
আসে।
জাহাঙ্গীরের গ্রন্থে
খসরুর মৃত্যুর
ছয় মাস
পর কেবল
একটি পঙিক্ত
লিখেছেন। অন্ত্রের
যন্ত্রণা রোগে
তার মৃত্যু
হয়েছে।
এ মৃত্যুকে
কেউ কেউ
হত্যাকাণ্ড মনে
করেছেন এবং
এর পেছনে
নূরজাহানের হাত
থাকার কথাও
বলেছেন। টমাস
রোর ভ্রমণবৃত্তান্তে
নূরজাহানকে ইঙ্গিত
করে বলা
হয়েছে, রাজা
নারীর ছলনাময়ী
অশ্রু ও
জাদুকরী তোষামোদে
ভুলে ছিলেন।
টমাস রো
১৬১৬ থেকে
১৬১৮ পর্যন্ত
রাজদরবারে হাজির
ছিলেন।
নূরজাহানই জাহাঙ্গীরকে
মন্ত্রণা দিয়েছিলেন
শাহজাহান যেন
খসরুকে দাক্ষিণাত্যে
নিয়ে যায়—আপাতদৃষ্টিতে
নিরাপত্তার জন্য
হলেও দরবারের
সজাগ চক্ষুর
আড়ালে তাকে
চিরদিনের মতো
স্তব্ধ করে
দিতেই এই
আয়োজন।
এলিসন ব্যাঙ্কস
ফিন্ডলে নূরজাহান: আ
উইমেন’স
পাওয়ার ইন
আ মোগল
কোর্ট-এ
লিখেছেন: নূরজাহানকে
যেভাবেই সন্দেহ
করা হোক
না কেন,
এটা মানতেই
হবে খসরুকে
জীবনের শেষাংশে
নির্যাতনের যে
স্বীকার হতে
হযেছে, তার
রূপকার নূরজাহান।
তিনি বিদ্বেষপ্রসূত
হয়ে এটা
করেছেন বলা
ঠিক হবে
না, বরং
নিজের এবং
নিজের পরিবারের
স্বার্থ রক্ষা
করতেই তা
করতে হয়েছে।
সে সময়কার
যে রাজনৈতিক
সংস্কৃতি, তাতে
বিজয়ী তার
বিপক্ষকে হত্যা,
নির্যাতন সবই
করতে পারে।
নূরজাহান তার
ও শের
আফগানের কন্যা
লাডলি বেগমকে
খসরুর সঙ্গে
বিয়ে দিতে
চেয়েছিলেন, খসরু
সম্মত হননি।
খসরু সম্মত
হলে জাহাঙ্গীরের
পর খসরুর
সিংহাসন লাভ
নিশ্চিত হতো—কারণ
তখন মূলত
রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল
নূরজাহানেরই হাতে।
ফিন্ডলে মনে
করেন, নূরজাহান
চেয়েছেন যিনিই
তার কন্যার
জামাতা হবেন,
সিংহাসন যেন
তারই হয়।
অন্তত আরকটি
প্রজন্ম যেন
তার পরিবারের
শাসনাধীনে থাকে।
শেষ পর্যন্ত
জাহাঙ্গীরের কনিষ্ঠ
পুত্র শাহরিয়ার
জামাতা হন।
কিন্তু জাহাঙ্গীরের
এক উপপত্নীর
গর্ভে ধারণ
করা অপরিণত
বয়সী এবং
তুলনামূলকভাবে খসরু
ও খুররমের
পাশাপাশি অপাঙেক্তয়
এ রাজকুমারকে
নিয়ে সিংহাসনের
লড়াই ব্যর্থ
হওয়ারই কথা—এটা
সম্ভবত নূরজাহান
বুঝতে পেরেছিলেন।
জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর
পর ক্ষমতার
লড়াইয়ে কণ্টক
অপসারণের যুদ্ধে
শাহরিয়ার নিহত
হন। খুররম
হন নতুন
সম্রাট।
সমরশক্তি
ফিল্ডলে
লিখেছেন, মোগল
নারীর পতিভক্তির
একটি চিত্র
হচ্ছে অসুস্থ
স্বামীর সেবা
করা। নূরজাহানের
এই অপরিহার্য
গুণটি তো
ছিলই, সঙ্গে
ছিল স্বামীকে
রক্ষা করার
মতো সামরিক
জ্ঞান ও
সমরশক্তি, লক্ষ্যভেদী
আক্রমণের দক্ষতা
এবং অসম
সাহসিকতা।
তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি-তে সম্রাট
উল্লেখ করেছেন,
নূরজাহান গুলি
করে একটি
বড় পাখি
বধ করেছেন।
এমন বর্ণ
ও আকৃতির
পাখি আগে
কখনো চোখে
পড়েনি। পরের
বছর তিনি
বললেন, সম্রাট
যদি আদেশ
দেন তাহলে
বাঘ মেরে
তিনি দেখিয়ে
দিতে পারেন।
সম্রাট তার
বইতে লিখেছেন:
নূরজাহান দুই
গুলিতে দুটি
বাঘ হত্যা
করেছে এবং
অন্য দুটি
হত্যা করেছে
চার গুলিতে।
নূরজাহান হাতির
পিঠে হাওদার
ভেতর থেকে
গুলি করেছেন।
হাতির দৃষ্টিতে
বাঘ এলে
হাতি অস্থির
হয়ে ওঠে।
এই কম্পমান
অবস্থায় নিশানা
ভেদ করা
কেবল অতিদক্ষ
শিকারি পক্ষেই
সম্ভব।
১৬১৯ সালের
একটি ঘটনা
প্রসঙ্গে সম্রাট
লিখেছেন, ‘আমি
নিজ হাতে
কোনো জীবন্ত
সত্তা বধ
না করার
ব্রত গ্রহণ
করেছি।’ একবার
যখন সম্রাটের
কাফেলা বাঘের
মুখোমুখি হয়,
নুরজাহান তার
কাছে গুলি
করার অনুমতি
প্রার্থনা করেন।
অনুমতি পেয়ে
তার নিজের
হাতিকে স্থির
রেখে এক
গুলিতে বাঘটিকে
বধ করেন।
অথচ জাহাঙ্গীরের
প্রধান তীরন্দাজ
মির্জা রুস্তমের
একটি বাঘ
শিকারে বেশ
কয়েকবার গুলি
করতে হয়েছে।
জাহাঙ্গীরের পুরনো
বন্ধু ও
রাজদরবারের সদস্য
মহব্বত খান
দীর্ঘদিন মনের
মধ্যে পুষে
রাখা ক্রোধ
মেটাতে যমুনা
নদীর তীরে
তাঁবুতে অবস্থান
করা সম্রাট
ও তার
দলবলকে অবরোধ
করে ফেলেন।
নূরজাহান মহব্বত
খানের সঙ্গে
সমঝোতা আলাপ
চালিয়ে যান।
যখন তা
ব্যর্থ হয়
এবং যুদ্ধ
আসন্ন হয়ে
ওঠে, ক্রমাগত
তীরের মুখে
নূরজাহান তার
হাতিতে চরে
নদীতে নেমে
যান এবং
তার নির্দেশে
লড়াই চলতে
থাকে। তার
নেতৃত্বেই সম্রাটকে
অবরোধ থেকে
মুক্ত করা
হয়।
ইকবালনামাতে বলা
হয়েছে: দুঃসাহসী
নূরজাহান লড়াই
করে সম্রাট
এবং সবাইকে
অবরোধমুক্ত করেন।
শাহরিয়ার ও
লাডলি বেগমের
সন্তানের নার্স
তীরবিদ্ধ হলে
বেগম (নূরজাহান)
নিজ হাতে
তা টেনে
তোলেন এবং
ছেঁড়া কাপড়
দিয়ে হাত
বেঁধে দেন।
মহব্বত খান
ধীরে ধীরে
দরবারের অনুচরদের
তার পক্ষভুক্ত
করে ফেললে
নূরজাহান বুদ্ধিমত্তায়
তাকে দেশ
থেকে বহিষ্কার
করেন।
সে সময়
উপস্থিত ওলন্দাজ
ব্যবসায়ী ভ্যান
ডেন ব্রুকে
লিখেছেন: নারীর
সাহস কতটা
হতে পারে,
বেগম তার
পুরোটাই মহব্বত
খানকে দেখাতে
চেয়েছেন। খসরুর
সমর্থকদের একজন
নূরজাহানের ভাই
আসফ আলী
দ্রুত পালিয়ে
যান। একবার
মহব্বত খানের
বাহিনীর হাতে
বন্দি হয়ে
তাকে অনেক
ভুগতে হয়েছে।
ভ্যান ডেন
লিখেছেন: তিনি
সাধারণ মানুষের
কাছে ঈশ্বরীর
তুল্য ছিলেন।
অসাধারণ ধৈর্য
ও রণকৌশলে
তিনি সিংহাসন
পুনরুদ্ধার করে
জাহাঙ্গীরকে উপযুক্ত
মর্যাদায় সিংহাসনে
বসান। এই
ছিল তার
বিখ্যাত উইমেন
পাওয়ার।
বৈদেশিক বাণিজ্য
শুরুটা
পর্তুগিজ আগমনের
মধ্য দিয়ে।
ওলন্দাজ ও
ইংরেজ ব্যবসায়ীরা
ভারতকে তাদের
বাণিজ্যের জন্য
সুফল জমিন
মনে করতে
থাকেন। কিন্তু
সম্রাজ্ঞী নূরজাহান
অবাধে তাদের
বাণিজ্য চালিয়ে
যেতে দিতে
রাজি নন।
ইংরেজ ব্যবসায়ীর
তখনকার একটি
বর্ণনা: এখানে
আগ্রাতে নূরজাহান
বেগমের কর্মকর্তা
সরাই স্থাপন
করে যেসব
পণ্য জাহাজে
ওঠানো হচ্ছে,
তার শুল্ক
আদায় করছে।
জাহাঙ্গীরের নিজের
বর্ণনায় ব্যবসায়িক
দিকগুলো উপেক্ষিত
রয়ে গেছে।
তবে দিল্লির
দরবারে ব্রিটিশ
দূত টমাস
রো এ
নিয়ে বিস্তারিত
লিখেছেন। তিনি
ভারতে এসেই
সম্রাটের দরবারে
নারীর ক্ষমতা
দেখে ধাক্কা
খেয়েছিলেন। নূরজাহানের
প্রতি তার
অভক্তি অত্যন্ত
স্পষ্ট। তিনি
লিখেছেন: এই
নারী ভেতর
দেখে কেবল
দেখেনই না,
পৌরুষের অস্ত্র
নিয়ে সম্রাটকে
পাহারাও দেন।
বিদেশী ব্যবসায়ীদের
জন্য সম্রাটের
অনুমোদনই যথেষ্ট
নয়। বেগম
তা দেখে
অনুমোদন না
করা পর্যন্ত
এর কোনো
কার্যকারিতা নেই।
টমাস রো
কখনো নূরহাজানকে
দেখেননি। কারণ
পর্দা তাকে
বিদেশীদের দৃষ্টি
থেকে রক্ষা
করত। নূরজাহানের
নির্দেশে তার
ভৃত্য টমাস
রোর ব্যবসায়
বাধা সৃষ্টি
করেছে। তবে
পরে তাকে
ফরমানবলে ইংরেজের
স্বার্থ সংরক্ষক—প্রটেক্টরস
করা হয়।
রোর বর্ণনায়
দেখা যায়,
নূরজাহান রাষ্ট্রের
সব বিষয়ে
হস্তক্ষেপ করতেন।
এম এ মোমেন:
সাবেক
সরকারি কর্মকর্তা





