&dquote;procope02&dquote;প্যারিসে আসা অবধি ক্যাফে প্রোকোপের বেহদ সুনাম শুনছি। আজ একটু উদযোগ করে চলে আসি এখানে। মেট্রোর ভূতল থেকে বেরিয়ে মাত্র একটি ব্লক হেঁটে পাড়ি দিয়ে ১৩ নম্বর রু ডেল আনসিয়েনে কমিডিয়েতে আসতে কোনো অসুবিধা হয় না। বেলা ১১টা বাজতে মিনিট দশেক বাকি আছে। আমার সুহূদ ম্যানুয়েল সান্তিয়াগো এখনো এসে পৌঁছেনি। তেমন তাড়া কিছু নেই। তাই ক্যাফেতে ঢোকার আগে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শত বছরের পুরনো দালানটিকে দেখি। ইমারতের বয়স হয়েছে বটে, তবে প্লাস্টার অব প্যারিসের লেপাপুছায় নোনা ধরেনি কোথাও। ঘরটির সর্বত্র— ছাদ থেকে দেয়াল, কার্নিশ ও জানালায় হরেক কিসিমের পুষ্প-পল্লব ও সবুজিম লতার সমারোহ। এনট্রেন্স পেরোতেই পিয়ানোর পেছনের দেয়ালে আমি দেখতে পাই ক্যাফেটির প্রতিষ্ঠাতা ফ্রানসেসকো প্রোকোপিওর পোর্ট্রেট। ইতালি থেকে প্যারিসে আসা এ অভিবাসী পুরুষ ক্যাফেটি প্রতিষ্ঠিত করেন ১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে। সতেরো শতকে যখন ক্যাফে প্রোকোপে চালু হয় তখন ফরাসি সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনা, নাগরিকদের সহবত ও প্রণয় নিবেদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে কফি হাউজগুলো। আমি মোমহীন ঝাড়ের তলায় দাঁড়িয়ে পিতলের ফলকে লেখা তথ্যের দিকে তাকাই। জানা যায় যে, ১৭২৩ সালে প্যারিস নগরীতে ক্যাফের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩২৩টি।

হলকক্ষের দেয়ালে সারি দিয়ে ঝুলছে নানা ধরনের প্রতিকৃতি, তৈলচিত্র ও ল্যান্ডস্কেপে নিসর্গের সাবুজিক রূপ। একটু সামনে যেতেই চোখে পড়ে করিডোরের দেয়ালে ঝোলানো বিখ্যাত সব কবি ও সাহিত্যিকদের চিত্র। ১৯৩৮ সালে আঁকা একটি ছবি থেকে যশস্বী কবি পল ভেরলেইন নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে থাকেন আমার দিকে। এক জামানায় এখানে হামেশা হাজিরা দিতেন ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার কিংবা রুশো। এ কামরার কোনো না কোনো টেবিলে বসে আড্ডাবাজিতে মাততেন সাহিত্যিক ভিক্টোর হুগো বা বালজাক। খোদ নেপোলিয়ান একসময় এ ক্যাফেতে আসতেন। সম্রাটের সম্ভ্রান্ত চাকরিটি তখনো জোটেনি তাঁর। রীতিমতো বেহদ্দ বেকার। হামেশা বাকিতে পান করতেন এক পেয়ালা ইথিওপিয়ান কফি। দেনা বেড়ে গেলে একপর্যায়ে তিনি তার বিখ্যাত হ্যাটটি বন্ধক দিতে বাধ্য হন।

নজর পড়ে দেয়ালে ঝোলানো সাদামাটা ফ্রেমের একটি চিত্রে। শোলার হ্যাট পরা সাহেব— জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে বিমর্ষভাবে তাকিয়ে আছেন। পাশে নীলাভ রঙের গাউন পরা বিবি, তার মুখে কোনো কিছুতে মনঃক্ষুণ্ন হওয়ার অভিব্যক্তি। টেবিলে জোড়া পানপাত্রে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের ওয়াইন ও আইস বাকেট। চিত্রে সাহেব-বিবির ব্যক্তিগত মুহূর্ত সংবেদনের ছোঁয়ায় এমনভাবে বাঙময় হয়ে উঠেছে যে, চোখ ফেরানো মুশকিল হয়। জিন বেরুড (১৮৪৯-১৯৩৫) নামে প্যারিস নগরীর এক ফরাসি চিত্রকরের আঁকা অরিজিন্যাল এ কাজটি শনাক্ত করতে পেরে আত্মতৃপ্তিতে ভরে ওঠে মন।

নির্জন হলকক্ষের শিল্পশোভন পরিবেশে আমি মেনুর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দুনিয়ার নানা দেশ থেকে আমদানিকৃত কফির ছবি ও উত্পাদনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে দেয়া তথ্যগুলো খুঁটিয়ে দেখি। দেয়ালের ওপাশ থেকে ভেসে আসে চেনা গানের কলি, ‘আইল বি দেয়ার ফর ইউ।’ গানটি গেল শতকের নয়ের দশকে রেকর্ড করে আমেরিকার পপ রক ডুয়ো রেমব্রেন্ডস। লেমনট্রি নামে হালফিল ক্লাসিকসের মর্যাদাপ্রাপ্ত লোকপ্রিয় লিরিকটি গীত হচ্ছে আমার সুহূদ ম্যানুয়েল সান্তিয়াগোর গলায়। কিন্তু তাকে হলকক্ষের কোথাও দেখতে পাই না। ম্যানুয়েলের সঙ্গে আমার সখ্য গাঢ় হচ্ছে দিন-কে-দিন। কোনো কারণে প্রফুল্ল হলে কিংবা তার জুটে গেলে যথোপযুক্ত নারী ক্লায়েন্ট, সে রোমান্টিক গোছের লিরিক গুনগুনিয়ে গেয়ে ডান্স করতে ভালোবাসে। না, আমাকে বিশেষ একটা খোঁজাখুঁজি করতে হয় না। ম্যানুয়েল কাঠখোদাইয়ে করা প্রমাণ সাইজের মনুষ্যমূর্তির আড়াল থেকে আততায়ীর মতো বেরিয়ে এসে হালকা চালে নৃত্য করে। কামরায় কফি পান করনেওয়ালা অন্য কোনো খদ্দের নেই বলে তার গুনগুনানিতে সুর খেলে চমত্কার। সে সাবলীলভাবে গেয়ে যায়, ‘দিজ ফাইভ ওয়ার্ডস আই সোয়ার টু ইউ/হোয়েন ইউ ব্রিদ আই ওয়ান টু বি দ্য এয়ার ফর ইউ।’

উটের লোমে তৈরি ভেস্ট পরছে বলে তাকে একটু এক্সোটিক দেখায়। আজকের অভিসারের বিষয়টি ভেবে ম্যানুয়েল মরোক্কান এ ভেস্টটি আমার কাছ থেকে ধার নিয়েছে। সে জানতে চায়, ‘উড ইউ লাইক টু হিয়ার মাই প্লান উইথ মাই নিউ কনকোয়েস্ট? উজানে ভেসে এসেছে যে মাছ তাকে কীভাবে একটু খেলিয়ে বড়শিতে ধরতে চাচ্ছি তা শুনতে চাও না... মাই ডিয়ার বাডি?’ একটু চিন্তাভাবনা করে জবাব দিই, ‘কফিটা প্রথমে একটু চাখি, তার পর এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বাতচিত করা যাবে। তবে তারও আগে আরেকটা বিষয়ে একটু খোঁজখবর নিতে চাই। তুমি তো সাবমেরিনে গানার হিসেবে কাজ করতে ম্যানুয়েল। আই অ্যাম ডিপলি ইন্টারেস্টেড টু নো হাউ ওয়াজ ইট লাইক টু লিভ ইন অ্যা সাবমেরিন।’ উত্সাহিত হয়ে সে বলে, ‘আমার এক রিটায়ার্ড আংকেল পি ত্রি বলে সাব-হান্টারজাতীয় সাবমেরিনের ক্রু হিসেবে কাজ করতেন। তো আমি স্ট্রিটে ক্র্যাক কোকেন বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তার এপার্টমেন্টে শেল্টার নেই। উনি নেভির রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে আমার যোগাযোগ করিয়ে দেন। তারা আমাকে স্টাইপেন্ড দিয়ে প্রথমে একটি কমিউনিটি কলেজে কোর্স করতে পাঠায়। তার পর নিউক স্কুলে পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়। দেন অফ ইউ গো। একটি ডুবোজাহাজের খোলে পুরে ভাসিয়ে দেয় জলতলে।’

এ পর্যন্ত বলে ম্যানুয়েল বিরতি নিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে তার গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ খুলতে গেলে আমি তাকে গল্পের খেই ধরিয়ে দিই। জিজ্ঞেস করি, ‘জলতলে তোমার প্রথম দিকে সপ্তাহ কয়েক কেমন কেটেছিল ম্যানুয়েল?’ মাথা ঝাঁকিয়ে সে জবাব দেয়, ‘গানারের চাকরিতে অ্যাডজাস্ট করতে খুব কষ্ট হয়েছে প্রথম দিকে। মাঝে মাঝে আমাকে জেগে থাকতে হতো ৩৬ ঘণ্টার মতো। যখন পেরিস্কোপের পাশে ওয়াচ ডিউটি থাকত, ৬ ঘণ্টা এক নাগাড়ে চেখের পলক না ফেলে সার্ভিল্যান্স স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। বাথরুমে পর্যন্ত যেতে পারতাম না। ফার্স্ট অ্যাটাক সাবমেরিনের আলোহীন বাতাবরণে বাস করছি এক নাগাড়ে ৫০ থেকে ৬০ দিন। অক্সিজেন লেভেল নামিয়ে রাখা হয়েছে বলে কেমন যেন ঘোরের মাঝে আছি, তার পর খাবার বলতে ফ্রোজেন ভেজিটেবলস আর পাউডারড এগস। হোয়াট আ লাইফ।’

দু’পেয়ালা কড়া ধাঁচের কাপাচিনোর সঙ্গে পরিবেশিত হয় মুচমুচে দুটি কোঁয়াসো। ম্যানুয়েল খুব আগ্রহ নিয়ে কোঁয়াসো কেটে তাতে ক্যামোন বেয়ার চিজের ছোট্ট চাকলা কাঁটা চামচ দিয়ে গেঁথে মুখে তোলে। আমি কস্টারিকান কফির সুরভিতে উদ্দীপ্ত হয়ে তাতে দুধের সর দিকে আঁকা পাতার নকশাটি দেখি। পেয়ালায় নিঃশব্দে চুমুক দিয়ে ম্যানুয়েল উদগ্রীব হয়ে জানতে চায়, ‘তুমি কি সাবমেরিনের জীবনযাপন সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাও?’ জবাবে আমি বলি, ‘ওহ্, ইয়েস ম্যানুয়েল, সাবমেরিনের সোস্যাল লাইফ কী রকম ছিল, আই অ্যাম ইন্টারেস্টেড টু লার্ন অ্যাবাউট দিস।’ কী যেন চিন্তা করে সে বলে, ‘দেয়ার ওয়াজ নো সোস্যাল লাইফ অ্যাট অল, নো গার্লস, নো পার্টি, নো ডান্সিং বাট প্লান্টি অব সেক্স, উই হ্যাভ সেক্স অল অ্যারাউন্ড আস।’ আমি এবার কৌতূহলী হয়ে জানতে চাই, ‘তুমি কি সমকামিতার কথা বলছ ম্যানুয়েল?’ সে জবাব দেয়, ‘নট রিয়েলি, সমকামিতা যে অল্প বিস্তর ছিল না তা নয়, ইট ওয়াজ ভেরি লিটিল অ্যান্ড ইনসিগনিফিকেন্ট, ইমাজিন আওয়ার লাইভস ট্রেপড ইন আ লং মেটেল টিউব। বেশির ভাগ সময় আমরা ভাসছি পেরিস্কোপ ডেপথে। সাবমেরিনের সর্বত্র ছড়ানো ভারী সব নিউক্লিয়ার অস্ত্রশস্ত্র। সামান্য যে স্পেস অবশিষ্ট আছে, তাতে শোয়ার জন্য বাংক-বেড পাতা। আমরা বিছানাগুলো শেয়ার করছি। ৬ ঘণ্টা ঘুমানোর পর অটোমেটিক অ্যালার্ম জাগিয়ে দিচ্ছে আমাদের। তার পর তাতে ঘুমাচ্ছে অন্য এক গানম্যান বা মিসাইল ছোড়া নাবিক।’

ম্যানুয়েলকে অস্থির দেখায়। সে গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগটি খুলতে গেলে আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, ‘ম্যানুয়েল, ব্যাগে করে যেসব হাতিয়ার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ তা দেখার কিউরিওসিটি আমার আছে, অ্যান্ড আই প্রমিজ, এগুলো আমি মনোযোগ দিয়ে দেখব। বাট বিফোর দ্যাট, প্লিজ ডু মি আ ফেভার। সাবমেরিনের সেক্স লাইফের বিষয়টা আরেকটু খুলে বলো। তুমি কী স্বমেহনের রেফারেন্স দিচ্ছ?’ সে যেন কোনো বিষয়ে ঘোরতর চিন্তায় পড়ে গিয়ে জবাব দিচ্ছে এভাবে কপাল কুঁচকে বলে, ‘স্বমেহনের এলিমেন্ট খানিকটা ছিল বটে, বাট দ্যাট ওয়াজ নট অল। ৩০-৪০ দিন ধরে এক নাগাড়ে ভাসছি জলতলে। দেয়ার ওয়াজ নাথিং টু লুক অ্যাট, ওয়ার্ক ওয়াজ সো ডিমান্ডিং, স্লিপ ওয়াজ সো শর্ট সাপ্লাই। আমি মিউজিক শুনতে চেষ্টা করছি, আই ওয়াচড অল দ্য পর্নোগ্রাফিক ডিভিডিজ আই ওয়াজ কেরিং উইথ মি। বাট, দেন হোয়াট?’

ম্যানুয়েল কথা বলা থামিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে জিন বেরুডের চিত্রের দিকে তাকালে আমি জানতে চাই, ‘ম্যানুয়েল, ডু ইউ নিড আ হার্ড ড্রিংক?’ ‘নো, নট রিয়েলি’, বলে সে মাথা ঝাঁকায়, ‘সাবমেরিনের বিষয়টা আমি এই প্রথম কাউকে বলতে যাচ্ছি, আমার নারী ক্লায়েন্টরা আমার শরীর সম্পর্কে আগ্রহী, দে আর নট অ্যাট অল ইন্টারেস্টেড ইন মাই লাইফ ইন আ সাবমেরিন। সো, মাই ডিয়ার বাডি, ইউ লিসেন, আই অ্যাম টেলিং ইউ দ্য ট্রুথ। আমার সেক্স লাইফ ছিল স্বমেহন ও পুতুল মানবীকে সম্ভোগের কম্বিনেশন। ইতালির এক বন্দর থেকে আমি ক্রয় করি খুব সংবেদনশীল সোনালি চুলের এক পুতুল মানবী। স্পর্শে সে উদ্দীপ্ত হতো, উষ্ণ হয়ে উঠত তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।’ প্রতিক্রিয়ায় আমি বলি, ‘ম্যানুয়েল, একটি কথা, তোমার এ আচরণ সম্পর্কে কখনো কোনো সাইক্রিয়াট্রিস্টের সঙ্গে আলোচনা করেছ?’ সে রেগে গিয়ে বলে, ‘লুক বাডি, ইয়োর কমেন্ট ইজ ইনসালটিং, আমি তোমাকে বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত বিষয়টা বলছি। বিলিভ মি, আমার হূদয়ে এখনো এ পুতুল মানবীর জন্য সফট কর্নার আছে। মেয়েটি এতই আডোরেবল ছিল... হাউ ডু আই এক্সপ্লেন টু ইউ বাডি, আডোরা বলে যখন ডাকতাম তার নীল চোখে যেন সাড়া জাগত। তাকে আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম কয়েকটি টোমাহাক মিসাইলের আড়ালে। প্রায় বছর দেড়েক আডোরার সঙ্গেই ছিল আমার সংসার। ...অ্যান্ড আই লাভড হার সো মাচ।’

প্রতিক্রিয়ায় আমি কিছু বলতে গিয়ে তার ঠাণ্ডা দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেমে যাই। তার চাউনিতে এমন কিছু আছে যে, মনে হয় মুহূর্তে সে হয়ে উঠতে পারে নির্মম এক আততায়ী। আমার অন্তস্থলে ভীতি ছড়িয়ে পড়লে আমি পরিস্থিতি ম্যানেজ করার জন্য বলি, ‘ম্যানুয়েল, ইউ আর ফিলিং টেরিবেলি অ্যাংরি উইথ মাই কমেন্ট, আই আন্ডারস্ট্যান্ড দিস।’ সে হাত তুলে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, ‘জাস্ট আন্ডারস্ট্যান্ড ওয়ান প্লেইন অ্যান্ড সিম্পোল পয়েন্ট, আমার শারীরিক চাহিদা ছিল, এ ধরনের চাহিদা থাকাটা অ্যাবনরম্যাল কিছু না, আর পুতুল মানবীর সঙ্গে আমার দৈহিক মিথস্ক্রিয়ায় কোনো ক্রাইম ছিল না। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।’ তার কথা শুনে আমি নিশ্চুপ থাকলে শিশুরা যে রকম রেগে গেলে খেলনা ভেঙে ফেলে এ রকম ভঙ্গিতে কাঁপতে কাঁপতে সে বলে, ‘লিসেন এগেইন বাডি, লিসেন কেয়ারফুলি, আই ডিড নট ফাক আ গার্ল উইথআউট হার কনসেন্ট। আডোরা ওয়াজ আ মেয়ার ডল।’ আমি এবার তার হাত স্পর্শ করে বলি, ‘ম্যান, আই উড লাইক টু সে আই অ্যাম টেরিবেলি সরি ফর দ্য কমেন্ট আই মেইড। কাইন্ডলি শান্ত হও, উই মাস্ট বি ফ্রেন্ডস এগেইন।’

সে চোখ-মুখ কুঁচকে সিরিয়াসলি বলে, ‘যেসব নারী আমার কাছে আসে, আগ্রহ নিয়ে ক্রয় করে আমার সার্ভিস, দে আর ভেরি লোনলি, হাংরি ফর ফিজিক্যাল প্লেজার। মাই বডি ইজ মাই কমোডিটি, দিস ইজ মাইন, আই সেল ইট, অ্যান্ড আই ফিল ও-কে অ্যাবাউট ইট।’ আমি এবার প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলি, ‘ম্যানুয়েল, আজ যার সঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছ, টেল মি অ্যাবাউট হার।’ মৃদু হেসে সে জবাব দেয়, ‘হার নেম ইজ আগাথা জিওরজিরাদিস। গ্রিসের নারী আগাথা ফেঞ্চ রিভেরায় বেড়াতে এসেছে তার স্বামীর সঙ্গে ছোট্ট একটি ইয়াটে চড়ে। মন্টিকার্লোর কাছাকাছি এক সৈকতে ইয়াটের ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। পুরো সারাই করতে লাগবে তিন-চারদিন। তার হাজবেন্ড মি. জিওরজিরাদিস বোট মেকানিক নিয়ে মেরামতির কাজ তদারক করছেন। এ সুযোগে আগাথা প্যারিসে দিন-দু-তিনেক ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ ‘আগাথাকে নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা তোমার আছে কি ম্যানুয়েল?’ গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ খুলতে খুলতে সে ভাইভা পরীক্ষায় উত্তর জানা প্রশ্নের মতো সাবলীলভাবে জবাব দেয়, ‘দিস ইজ হোয়াট আই ওয়াজ ট্রায়িং টু টেল ইউ ম্যান। তুমি তো তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছ না।’ সে ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু একটা টেনে বের করলে আমি মন্তব্য করি, ‘নাউ আই অ্যাম টোটালি কিউরিয়াস।’ সে যেন ক্লাসে সায়েন্সের কোনো প্রজেক্ট ডেমো করছে এভাবে জিনিসটি তুলে ধরে। ফোমের প্যাড লাগানো মিনিয়েচার দুটি চিমটার সঙ্গে তার জুড়ে দিয়ে তা আটকানো ছোট্ট একটি পেন্সিল ব্যাটারির কৌটার সঙ্গে। ‘দিস ইজ আ ভেরি সফিসটিকেটেড পিনচার, ব্যবহূত হয় স্তনবৃন্তে। খুবই নিরাপদ সেক্স-টয়। সামান্য একটু বিদ্যুৎ নেয়া বা না নেয়া নির্ভর করবে যে রিসিভ করবে তার মর্জি মোতাবেক,’ বলে সে আত্মতৃপ্তির হাসি হেসে আমার দিকে তাকায়।

আমি নিশ্চুপ থাকলে পিনচারটি ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে ম্যানুয়েল অস্থির হয়ে চারদিকে তাকায়। আমি মৃদুস্বরে তাকে বলি, ‘বাডি আর ইউ গোনা ইনট্রোডিউস মি টু আগাথা? গ্রিক নারীকে চাক্ষুষ দেখার একটু বাসনা হচ্ছে যে।’ ম্যানুয়েল মাথা ঝাঁকিয়ে এ প্রস্তাবে সায় দিয়ে বলে, ‘ইয়েস, বাট বিফোর দ্যাট, আই উড লাইক টু সে আ বিগ থ্যাংক ফর গিভিং মি দিস লাভলি গ্রিন স্টোন।’ সে গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ থেকে গ্লাস বাবোলে মোড়া মোলডাভাইট পাথরের চাকলাটি বের করে মাথা হেলিয়ে বলে, ‘ম্যান, আই অ্যাম সো গ্রেটফুল ফর দিস। আমাকে সবুজ পাথর সম্পর্কে কাইন্ডলি আরেকটু তথ্য দাও বাডি। ইট ইজ গোয়িং টু মেক মাই টাইম উইথ আগাথা সো মাচ ফান অ্যান্ড এক্সাইটিং।’ যেহেতু মোলডাভাইট পাথরের টুকরাটি আমি তাকে গেল রাতে দু-তিনদিনের জন্য ধার দিয়েছি, এবার এ সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড দিতে আমার কোনো আপত্তি থাকে না। তো সবুজ পাথরের মসৃণ সারফেসে হাত বুলাতে বুলাতে বলি, ‘মিস্টিরিয়াস এ সবুজ পাথরকে সম্মোহনের পুঁথি-পুস্তকে এঞ্জেল স্টোন বলা হয়। এর জাদুময় আভার জন্য জিপসিরা একে ইনার ভিসন ক্রিস্টালও বলে থাকে। চেক রিপাবলিকের ভলতাবা নদীর কাছাকাছি একটি খনিতে এ ধরনের পাথর পাওয়া যায়।’ ম্যানুয়েল অধৈর্য হয়ে বলে, ‘জাস্ট টেল মি অ্যাবাউট দ্য অ্যাফেক্ট অব দিস স্টোন।’ আমি জবাব দিই, ‘আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে— এর মসৃণ সারফেস বুকে হার্টের কাছাকাছি বা কপালে রাখলে প্রশমিত হয় অস্থিরতা। আর একাগ্রতা নিয়ে চোখের পলক না ফেলে সবুজ আভার দিকে তাকিয়ে থাকলে তাতে ভেসে ওঠে অনুপম দৃশ্যপট, এতে ঋদ্ধ হয় ইমাজিনেশন। মোলডাভাইট ব্যবহূত হয় ব্যাপকভাবে সম্মোহনের হাতিয়ার হিসেবে। এর অ্যাফেক্টিভনেস সম্পর্কে প্রচুর শুনেছি, তবে গ্রান্টি দিতে পারব না।’ ‘গ্রান্টি আমি চাই না বাডি, আই ক্যান্ট ওয়েট টু ট্রাই ইট অন টু আগাথা। লেটস গো।’&dquote;procope01&dquote;আজ অনেকক্ষণ বসা হলো প্রোকোপে ক্যাফেতে। এবার উঠে পড়তে হয়। তো আমি বিল মিটিয়ে ম্যানুয়েলের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ি তার নিউ কনকোয়েস্ট গ্রিক নারী আগাথার সঙ্গে দেখা করতে।