কিন্তু আমি তাকে শুধু ভালোবাসি, বাবা আমার জন্য আশীর্বাদ। তাই মানুষ যখন জিজ্ঞেস করে, তার ছায়ার নিচে বসবাস করাটা কেমন, আমি বলি: ... এটা ছায়া নয়, শীতল আচ্ছাদন।
[বক্সিং রিংয়ে প্রজাপতির মতো উড়ে উড়ে মৌমাছির মতো হুল ফোটানো ছাড়াও কথার খই ফুটেছে তাঁর মুখে। কিন্তু হাতের গ্লাভস যখন খুলে ফেললেন, সন্তানদের বাবা হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন, তখন তিনি কেমন ছিলেন? মোহাম্মদ আলীর নয় সন্তানের সবচেয়ে বড় মেয়েটির নাম মারিয়াম আলী (র্যাপ মিউজিশিয়ান মে মে নামেই বেশি পরিচিত)।
মারিয়াম তার বিখ্যাত বাবাকে নিয়ে লিখেছিলেন। লেখাটি ডেইলি মেইলের ‘ফর ইউ ম্যাগাজিন’-এ ৯ নভেম্বর ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
বাবাকে নিয়ে মেয়ের লেখাটি যুগস্রষ্টা মোহাম্মদ আলীকে শ্রদ্ধা জানাতে অনূদিত হলো।
প্রাসঙ্গিক মনে করে মোহাম্মদ আলীর অন্য সন্তানদের নামও উদ্ধৃত করছি: হানা আলী, রাশেদা আলী, লায়লা আলী, খালিয়াহ আলী, জামিলাহ আলী, মিয়া আলী, আসাদ আলী ও মোহাম্মদ আলী জুনিয়র।]
যখন আমি হাঁটতে শিখি, কথা বলতে শিখি তখনই আমি জানি, আমার বাবা একজন বিখ্যাত মানুষ। কাছাকাছি সুবিধাজনক একটি দোকানে যাব, তাতেও দেখা যায় আমাদের গাড়ি ঘিরে আছে পঞ্চাশজন মানুষ, আর আমি জানি এটা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। আমার বাবা মানুষ ভালোবাসত, সেজন্য তাদের সঙ্গে কথা বলত, তাদের সঙ্গে মজা করত।
সারা দুনিয়াকে আমার বাবার ভাগ দেয়া খুব হতাশাব্যঞ্জক একটি কাজ। কিন্তু এটা তো বিশাল একটা ব্যাপারও। আমার কাছে একটা ছবি আছে, আমি যখন খুব ছোট স্যামি ডেভিস (মার্কিন গায়ক, অভিনেতা, ড্যান্সার) আমাকে একটা চুমো খাচ্ছেন। যেসব মানুষ আমার আইডল— আমার আদর্শ, বাবা তাদের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ভালোবাসত। আমি টেলিভিশনে টম জোন্সকে (সুবিখ্যাত ওয়েলস গায়ক) দেখে বলে উঠি, ‘বাবা, ওহ্ বাবা ওই সুন্দর লোকটাকে দেখো।’
তার চুলের আফ্রোস্টাইল দেখে আমি ভেবেছিলাম, তিনি ফর্সা ত্বকের আফ্রিকান আমেরিকান। আমার বয়স যখন চার বছর, বাবা আমাকে তার সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে গিয়েছিল। বাবা তাকে বলল, ‘আমার মেয়ে তোমাকে ভালোবাসে, সারা দিন সে টম জোন্স টম জোন্স করে।’
আমি খুব বিব্রত বোধ করি, কারণ আমি খুব লাজুক ছিলাম, কিন্তু টম যে কী চমত্কার ব্যবহার করল!
আমি আমার বাবার মেয়ে— ড্যাডি’স গার্ল। আমার বাবা যখনই একটা লড়াই করতে যাবে আমি বলতাম, ‘আমি তোমার সঙ্গে যেতে চাই।’ একবার না, বহুবার আমি সঙ্গে গিয়েছি, কারণ আমি এমনভাবে কাঁদতে শুরু করতাম যে, বাবাকে হার মানতেই হতো। আমার বাবা সত্যিই একজন ভালো বাবা। পেনসিলভানিয়ার ডিয়ার লেকে বক্সিং ট্রেনিং ক্যাম্পে যেতে আমাদের ভালো লাগত। বাবা ট্রেনিং শেষ করার পর আমি তোয়ালে দিয়ে বাবার ঘাম শুকাচ্ছি, এমন একটা ছবি আমার কাছে আছে। বাবা সবসময় আমাদের সঙ্গে ডিনার করত। বাবার আন্ট কোরেটা ছিল তার রাঁধুনে, বাসায় রান্না খাবারই তার পছন্দ।
আমার বাবা ছিল একজন কবি। বাবাই প্রথম র্যাপার (র্যাপ সংগীতশিল্পী)! এ রকম কথাই বলত, ‘প্রজাপতির মতো ভেসে মৌমাছির মতো হুল ফোটাই। আর সবসময়ই কবিতামুগ্ধ একজন মানুষ। সনি লিস্টনকে নিয়ে বাবা এ কথা বলেছে (১৯৬৪ সালে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট টাইটেল জিততে গিয়ে মোহাম্মদ আলী তাকে হারিয়েছিলেন): ‘আমিই যে গ্রেট এটা প্রমাণ করার জন্য অষ্টম রাউন্ডে সে ভূপতিত হবে। আর সে যদি স্বর্গে যেতে চায়, তাহলে আমি তাকে সপ্তম রাউন্ডেই শুইয়ে দেব— তুমি যদি হারতে চাও সনিকে নিয়ে গান ধরো: ইফ ইউ ওয়ান্ট টু লুজ ইয়োর মানি বেট অন সনি। বাবা এ রকম ছন্দ মিলিয়ে মজার কথা বলত: ডন্ট বি এ ফুল, স্টে ইন স্কুল, ইফ ইউ ওয়ান্ট টু বি কুল।
আমার বাবার সামনে এমন কোনো আয়না পড়েনি, যার দিকে একবার তাকায়নি। আমার পাশে দাঁড়িয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে বলত, ‘আমি এখনো হ্যান্ডসাম, তোর চাহনি আমার মতো, এটা আমার কাছ থেকে পেয়েছো।’
প্রায়ই বলত, আই অ্যাম দ্য গ্রেটেস্ট— আমিই সবার সেরা।
বাবা চায়নি আমরা আসলে ধনী সন্তান হই। কিন্তু অনেক টাকা কামাই করার জন্য আমাদের ঠেলেও দেয়নি, বলেনি তোদের আইনজীবী কিংবা কিছু একটা হতে হবে। তার বাবা-মা তাকে কেউ একজন হওয়ার জন্য উত্সাহ দিত, আর বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে: সবারই যদি কোনো উদ্দেশ্যে জন্ম হয়ে থাকে, তাহলে তোমার কেন জন্ম হয়েছে?
আমি বললাম, ‘মানুষকে ভালোলাগা দেয়ার জন্য। মানুষের সমস্যা দূর করার জন্য।’
আমি এখন একজন সমাজকর্মী। লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্যাং প্রতিরোধের কাজ করি। আমার বাবা সবসময় বলত তার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত, যখন আমার জন্ম হয় (১৯৬৮)। তার কারণ এই নয় যে, আমি তার সবচেয়ে প্রিয়, আমি তা নই। কারণ আমি তার প্রথম সন্তান, কারণ আমার জন্মের অলৌকিকতা ছিল তার জন্য এমনই আশীর্বাদ। যখন তার খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, যখন তাকে বক্সিং থেকে নির্বাসিত করা হলো, তখন ভিয়েতনামে যুদ্ধ করার জন্য আমেরিকান সেনাবাহিনীতে যোগদানে আদেশ ধর্মীয় কারণে প্রত্যাখ্যান করল। সৌভাগ্যবশত সুপ্রিম কোর্টে (তার সাজার বিরুদ্ধে) আপিল হয়েছিল। এবং ১৯৭১ এর জুনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা বাতিল করে দেন।
টিনএজার হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এত সাহস তোমাকে কে দিল?
বাবা বলেছে, ‘আল্লাহ তো আমাকে বক্সিং দিয়ে বিচার করবেন না। আমার ধর্ম ইসলাম বলে, যুদ্ধে যেয়ো না, যুদ্ধ কেবল যুদ্ধ নয়।’
বাবার কথা: আমি শান-শওকতের সঙ্গে বহু জমিতে বাড়ি করতে পারি, কিন্তু আমার সম্প্রদায়ের লোক যদি স্বাধীনতা ভোগ না করে এসব অর্থহীন। আমার টাকা-পয়সা নিয়ে যাও, আমি হেভিওয়েট টাইটেল চাই না। আমার মানুষগুলোর যদি ধর্মের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে এসবে কী লাভ?
বাবার সঙ্গে আমার একটা প্রিয় স্মৃতি— শিকাগো কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া। আমরা প্রার্থনা করতাম, ইসলামিক বিষয়ে পাঠ করতাম। বাবা আমাকে খুব আস্থার কথা বলত। প্রতিদিন ভোরে আমি যখন ঘুম থেকে উঠি, সেই সব মুহূর্তগুলো আমার কাছে ফিরে আসে। বাবা বলত, খাবার আগে প্রার্থনা সেরে নাও। প্রার্থনাই তোমার আত্মার ব্যায়াম, শরীরের জন্য যেমন, আত্মার জন্যও এটা দরকার।
আমি একদিন আমার দাদির রান্নাঘরে বাবাকে বললাম, বাবা তোমার বক্সিং করার বয়স পেরিয়ে গেছে, আর এটা করো না, বাবা। শিশুদের কথায় যন্ত্রণা পেলেও তাদের সততা আছে। আমি তাকে বললাম, বাবা তুমি আঘাত পাবে। [তখন তার বয়স ৩৭ বছর।] বাবা একটু হাসির ভাব করল। কিন্তু আমি জানি আমার কথায় বাবা মনে কষ্ট পেয়েছে। তার তখনকার স্ত্রীও ভেরোনিকা (পোরশে) চায়নি বাবা বক্সিং অব্যাহত রাখুক। আমরাই ঠিক বলেছি, বাবা আঘাত পেয়েছে। তার শরীর তার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে, কিন্তু এটা সে শুনতে চাচ্ছে না। ১৯৮০ সালে স্যাটেলাইট টেলিভিশনে আমরা দেখলাম ল্যারি হোমসের সঙ্গে বাবার লড়াই। আমার মনে আছে, সেটি ছিল আমাদের জন্য মুত্যুর শেষকৃত্যের রাত। স্কুলে সব নিস্তব্ধ। পিনপতনের শব্দও শোনা যায়— কারণ আমার বাবা হেরে গেছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বাবার জয়-পরাজয়ের কোনো ইগো নয়, আমি চাইনি আমার বাবার গায়ে আঘাত লাগুক।
যারা তাকে ভালোবাসত সবাই দেখেছে তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, শরীর শ্লথ হয়ে আসছে— এই হচ্ছে বক্সিংয়ের ধ্বংসাত্মক নিয়তি, তাকেও পেয়ে বসেছে। আমরাও এটা অনুভব করতাম। আমি মনে করি, জর্জ ফোরম্যানের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ের পর তার অবসর নেয়া উচিত ছিল; কিন্তু আর সব বক্সারের মতো বাবাও জানত না, কখন বক্সিং ছেড়ে দিতে হবে। আমার কোনো আক্ষেপ নেই, নেই তারও। নিজের ড্রাম পেটাতে বাবা সবসময়ই নেমেছে। যখন অবসর নেয়া দরকার বলে নিজে অনুভব করেছে, তখনই অবসর নিয়েছে। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি— মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছে।
আমার বাবা-মায়ের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা ছিল। বাবা দাম্পত্য সম্পর্কে বিশ্বাস ভেঙেছে। বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ মানুষ ছিল না। কিন্তু ভালো মানুষ ছিল। ভুল করেনি এ কথা আমার বাবা কখনো বলেনি। আমি মনে করি, বাবা-মা যদি ভুলভ্রান্তি করে সততার সঙ্গে স্বীকার করে নেয়, সন্তানরা তাদের আরো বেশি পছন্দ করে।
যেদিন আমার মা-বাবার তালাক হলো, আমি সেদিনটির কথা কখনো ভুলব না। আমি তখন থার্ড গ্রেডে পড়ি। সব কাগজে, ম্যাগাজিনে বাবার তালাকের খবর। স্কুলে যাওয়ার পথে ভাবছি, বেশ তাহলে আমার ব্যাপারটা সবাই জানে, আমি নিজে শুনেছি আমার শিক্ষক মিসেসে হফম্যান ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের বলছেন, ‘মারিয়ামে বাবার ডিভোর্স নিয়ে কেউ কথা বলো না।’ আমি যখন ক্লাসে ঢুকি, বাচ্চারা সবাই আমার দিকে তাকিয়ে। আমি ভাবি, তোমরা তো অনেক বলেছ, আর কত! কিন্তু ব্যাপারটা খুব কষ্টের। আমার পরিবার মাইক্রোস্কোপের নিচে বাস করছে, তবে এটা আমকেও কঠিন মানুষে পরিণত করেছে।
অনেক ডিভোর্সের পরিণতিতে সন্তানরা মা-বাবাকে ঘৃণা করতে শুরু করে, কিন্তু কাউকে ঘৃণা করতে হবে, এমনভাবে বাবা আমাকে লালন করেনি। বাবা তার সব সন্তানের মধ্যে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বে উত্সাহ দিয়ে গেছে, কিন্তু তার সন্তানদের মায়েরাই তাদের মেয়েদের সতীনের সন্তানদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধা দিয়েছে, কারণ তারা নিজেদের ঘৃণিত মনে করেছে। কিন্তু পরিবারের ঐক্যের জন্য আমার বাবা সবসময় লড়াই করে গেছে।
মানুষ জিজ্ঞেস করেছে, তার ছায়ার নিচে বসবাস করাটা কেমন... এটা ছায়া নয়, শীতল আচ্ছাদন।
এমনকি তাদের তালাকের পরও বাবা ও আমি সবসময়ই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি যখন আমার মায়ের সঙ্গে শিকাগোয় থাকতাম, বাবা জিজ্ঞেস করত, কখন তোর ভলিবল খেলা, কখন বাস্কেটবল? সেসব খেলা সামনে রেখে বাবা তার ভ্রমণসূচি ঠিক করত— এটা ছিল আমার জন্য অবিশ্বাস্য।
আমারও বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু তিন বছর পর তালাক হয়ে গেছে। আমার আবার বিয়ে হতে পারে, যেসব নারী বিয়ে দিয়ে নিজেদের সঙ্গায়িত করে, আমি সে রকম কেউ নই; কিন্তু আমি সতর্ক, কারণ আমার পরিবারে আমি তালাক দেখেছি— আর আমি কোনো সন্তান চাই না। আমি ১১ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় (আমার মায়ের অন্য দুই সন্তানসহ), আমি আমার মায়ের... দুজন বোনকে লালন করেছি— সত্যিই যদি আমার সন্তান দরকার হয়, আমি পালক নেব।
আমার বাবার স্ত্রী লুনি একজন চমত্কার ভালোবাসার মানুষ, কিন্তু তিনি তো আমার মা নন। বছরের পর বছর ধরে ‘সত্মা-র সংসার’ ব্যাপারটা তো চলেই আসছে, কখনো তা ঘটেও থাকে।
আমার বাবার স্বপ্ন ছিল— একই রাস্তায় সব সন্তান তাদের স্বামী, সব নাতি-নাতনি নিয়ে বসবাস করবে, কিন্তু তা হয়নি। অ্যারিজোনা, মিশিগান ও কেন্টাকিতে তার বাড়ি আছে। ক্রিসমাসে কিংবা অন্য কোনো ছুটির সময় বাবা যেখানে থাকে, আমরা গাড়ি চালিয়ে তার কাছে চলে যাই।
পারকিনসন্স একটি আক্রমণাত্মক রোগ। এই অসুখে শরীরের কার্যক্রম সংকুচিত হতে থাকে, মস্তিষ্কের মোটর ফাংশন লোপ পায়— তিরিশ বছর ধরে বাবা পারকিনসন্স নিয়ে বসবাস করছে। তার কোনো শারীরিক যন্ত্রণা নেই। বাবা শয্যাশায়ীও নয়। আধ্যাত্মিকভাবে ভালো জায়গায় আছে। বাবা চায় না, কেউ তার জন্য দুঃখবোধ করুক। বাবা শান্তিতে আছে, জীবনকে ভালোবাসে। আমি বিশ্বাস করি জীবন নিয়তিনির্ভর; বিশ্বাসের জন্য মাথা উঁচু করে লড়বার ঐতিহ্য তার রয়েছে।
বাবা আমাকে বলেছে, ‘তুমি যখন কফিনে শুয়ে, তোমার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি, তোমার ধনী বন্ধু-বান্ধব, তোমার বর্ণাঢ্য জীবন কিছুই নিয়ে যেতে পারছ না। আমি কী নিয়ে যাচ্ছি? আমার পরিবার, আমার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে নেয়া সিদ্ধান্ত, আমার ভুলভ্রান্তি থেকে যা শিখেছি, আমি পৃথিবীতে কী করেছি, আমার সেলিব্রেটি ইমেজকে কেমন করে কাজে লাগিয়েছি, এসবই।
আমি আমার বাবাকে দেখেছি ক্ষুরধার, যুবক, উজ্জ্বল এবং লড়াকু। আমি তাকে ক্রমবর্ধনশীল পারকিনসন্স রোগের মধ্য দিয়ে বাঁচতে দেখেছি।
মারিয়াম আলীর কথাগুলো সাজিয়ে লিখেছেন এলেইন লিপওয়ার্থ। মারিয়ামের মা বেলিন্দা বয়েড (ধর্মান্তরিত নাম খলিলাহ আলী)। তার গর্ভে মোহাম্মদ আলীর চার সন্তান: মারিয়াম আলী, জামিলাহ আলী, রাশেদা আলী ও মোহাম্মদ আলী জুনিয়র। বেলিন্দা কারাতে ব্ল্যাকবেল্টধারী। তিনি সাতবার এবোনি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হয়েছেন। মোহাম্মদ আলী যখন ঢাকায় এলেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃতীয় স্ত্রী ভেরোনিকা পোরশে আলী। তার গর্ভে মোহাম্মদ আলীর দুই কন্যা: বক্সার ও মডেল লায়লা আলী এবং ইয়াসমিন হানা আলী। ভেরোনিকার বর্তমান স্বামী জ্যাজ আর্টিস্ট ও অভিনেতা কার্ল এন্ডারসন।
তাঁর প্রথম স্ত্রী সোনজি রয় (১৯৬৪-১৯৬৬) এবং চতুর্থ স্ত্রী ইয়োলান্দা উইলিয়ামস (১৯৮৬-২০১৬)।
অনুবাদ: এম এ মোমেন





