নিজেদের মাটিতে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার নকআটে সেই ধারা অব্যহত রাখতে চায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক টিম রিম বলেছেন, ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ যাত্রা সৃষ্টির সুযোগ এখন তাদের সামনে। খবর এপি।

অরেঞ্জ কাউন্টির প্রশিক্ষণ শিবিরে গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। তিনি জানান, দল বাড়তি চাপ নয়, বরং এই সুযোগকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে।

রিম বলেন, সত্যি বলতে এই মুহূর্তে আমি খুব বেশি চাপ অনুভব করছি না। সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই চাপ বাইরের নয়, আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা থেকেই এসেছিল।

স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন বলেন, এখন আসল পরীক্ষার সময়। বড় খেলোয়াড়দের সামনে এসে দায়িত্ব নেওয়ার এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার এটাই মঞ্চ।

বর্তমান দলটির পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনো। তার কৌশলগত পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে মনে করছেন রিম। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচে মোট ছয়টি গোল করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে।

বিশ্বকাপে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন ফোলারিন বালোগুন। ব্রুকলিনে জন্ম হলেও লন্ডনে বেড়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানারও সুযোগ এনে দিয়েছে।

ডিফেন্ডার মার্ক ম্যাকেঞ্জি মজা করে বলেন, বালোগুন প্রায়ই বলে, আমেরিকা যেন একটা সিমুলেশন! রাস্তায় কিছু দেখলেই প্রশ্ন করে—এটা কী, ওটা কেন, এসব দেখে আমরা খুব হাসি।

এদিকে চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান রোলদান ও অস্টন ট্রাস্টি সীমিত পরিসরে অনুশীলন করেছেন। মার্ক ম্যাকেঞ্জিও পায়ের সমস্যার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে অংশ নেননি।

আজ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। পরিসংখ্যানের বিচারে ম্যাচটিতে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। যদিও বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের জয় মাত্র একটি—২০০২ সালে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়েছিল তারা।