বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে দল বিদায় নেয়ার পর পদ ছাড়লেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচ হং মিয়াং-বো। এর মধ্য দিয়ে চলমান বিশ্বকাপে দলীয় ব্যর্থতার কারণে কোচ হারানো দেশের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। এর আগে কোচ বদলেছে তিউনিশিয়া ও স্কটল্যান্ড। খবর রয়টার্স।

দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হং মিয়াং-বো। ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার অধীনেই টানা ১১তম বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে এশিয়ার অন্যতম সফল দলটি।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যারা কোরিয়ার ফুটবল ভালোবাসেন এবং জাতীয় দলকে সমর্থন করেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ থেকে আমি সরে দাঁড়াচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ দায়িত্ব সহজ ছিল না। আমি নিজের এবং দলের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় আমার।’

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া শুরুটা করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারটি বড় অঘটন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমনকি দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়াং। তিনি দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই ফল আমাকে বিস্মিত করেছে। এটি আবারো প্রমাণ করল, ভুল সিদ্ধান্ত কতটা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে ফলও এমনই হবে।’

প্রেসিডেন্ট দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের জনগণের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এর আগে বিশ্বকাপ চলাকালীনই সাবরি লামুশিকে সরিয়ে দেয় তিউনিসিয়া। তবে কোচ পরিবর্তনেও ভাগ্য ফেরেনি দলটির, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডও বিদায়ের পর প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।