ফোলারিন বালোগুনের গোল, পরে লাল কার্ড আর মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক। এর পরও ১০ জনের দল নিয়েই বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ প্রভাব বিস্তার করেন বালোগুন। একবার অফসাইডের কারণে তার গোল বাতিল হয়, আরো কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেন তিনি। অবশেষে ৪৫তম মিনিটে টিম রিম মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের গোলকিক কেটে দিলে মালিক টিলম্যানের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন বালোগুন।

এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে বালোগুনের তৃতীয় গোল, যা ১৯৩০ সালে বার্ট প্যাটেনাউডের গড়া এক বিশ্বকাপে কোনো মার্কিন ফুটবলারের সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে।

তবে ৬৪তম মিনিটে তারিক মুহারেমোভিচের বিরুদ্ধে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। একজন কম নিয়ে খেললেও যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

৮২তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেয়া টিলম্যানের ফ্রি-কিক বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়। তাতেই জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

এ জয়ে সম্প্রসারিত ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টি টু পেরিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সোমবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।

এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০২ সালে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোকে হারিয়েছিল তারা। এছাড়া ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল মার্কিনরা।

এ জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের দলের বিপক্ষে দীর্ঘ হতাশাও কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালে পর্তুগালকে হারানোর পর বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ১৩ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি তারা। সেই ধারার অবসান ঘটল বসনিয়াকে হারিয়ে।

অন্যদিকে, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও তা ছিল স্মরণীয়। উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডার সঙ্গে ড্র এবং কাতারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি।