টাইব্রেকার যেন একই দিনে দু’বার দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এল ইউরোপের দুই পরাশক্তির জন্য। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকালে মরক্কোর কাছে একই পরিণতি হল নেদারল্যান্ডসের। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়েই ট্রাইব্রেকার ট্র্যাজেডিতে ছিটকে গেল দুই ইউরোপীয় দল।

জার্মানির বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছিল প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে মাতিয়াস গালারজার ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন হুলিয়ো এনসিসো। পিছিয়ে পড়া জার্মানি দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায়। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজের ক্রসে হেডে সমতা ফেরান কাই হাভার্ৎজ।

এরপর দুই দলই সুযোগ পেলেও নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর গোল হয়নি।

টাইব্রেকারে শুরুতেই কাই হাভার্ৎজের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। পরে নিক ওল্টেমেডের শটও রুখে দেন তিনি। যদিও প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও পরে ফাবিয়ান বালবুয়েনা সুযোগ নষ্ট করায় জার্মানি ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল। কিন্তু ষষ্ঠ শটে জোনাথান তাহ বল উড়িয়ে মারেন বারের ওপর দিয়ে। পরের শটে হোসে কানালে গোল করতেই ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

দিনের দ্বিতীয় নাটকটি হয় নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর ম্যাচে। গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা ডাচরা নকআউটে নেমে নেয় রক্ষণাত্মক কৌশল, যার খেসারত দিতে হয় শেষ পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকার। প্রথম শটে টিউন কুপমেইনার্স গোল করলেও মরক্কোর আল আয়নায়োই বারে মারেন। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টে মারেন, কুইন্টেন টিম্বারও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শটে ক্রাইসেনসিও সামারভিলের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বোনো। এরপর ইসমাইল সাইবারি জালে বল জড়াতেই ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো।

২০১৪ ও ২০২২ সালের পর টানা তৃতীয় বিশ্বকাপেও টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হল নেদারল্যান্ডসকে। আর জার্মানির জন্যও পুরোনো সমস্যাই আবার সামনে এল—ভালো খেলেও সুযোগ নষ্টের মাশুল। একই দিনে টাইব্রেকারের নিষ্ঠুরতায় বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল ইউরোপের দুই ফুটবল শক্তির।