যোগ করা সময়ে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত গোলেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরের ওই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯২ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সের বাইরে বল পেয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করেন ইউস্তাকিও। অতিরিক্ত সময়ে করা এই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানাডার সমর্থকরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ম্যাচেই অতিরিক্ত সময় ও সম্ভাব্য টাইব্রেকারের লক্ষ্যেই খেলছিল বলে মনে হচ্ছিল। গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৪ জুলাই হিউস্টনে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার বিজয়ীর মুখোমুখি হবে কানাডা।

ম্যাচ শেষে ইউস্তাকিও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম, লড়াই চালিয়ে গেছি। শট নেয়ার সময় মনে হয়েছিল পুরো দেশ যেন আমার সঙ্গে শটটি নিয়েছে। তাই গোলটি করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।’

কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, তার দল ম্যাচজুড়েই সুযোগ তৈরি করেছে, তবে শেষ স্পর্শে যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বলটা স্টিফেনের কাছে এল, আর সে অসাধারণভাবে গোলটি করে দিল। এই খেলোয়াড়রা এখন কানাডার নায়ক।’

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ সতর্ক ও রক্ষণাত্মক। বিরতির আগে মইস বোম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন অব্রে মোদিবা। এরপর তাজন বুকানানের কাছ থেকে আসা শট বুক দিয়ে ঠেকান উইলিয়ামস। কিছুক্ষণ পর রিচি লারিয়া বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি জানায় কানাডা, কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বদলানো হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকার জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে থাকে কানাডা। তবে শেষ পর্যন্ত ইউস্তাকিওর দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

চোট কাটিয়ে শুরুর একাদশে ফেরা বোম্বিতো এবং বদলি হিসেবে নেমে অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিসের উপস্থিতি কানাডাকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছিল।

অন্যদিকে চারবারের চেষ্টায় প্রথমবার নকআউটে ওঠেও হতাশার বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা বলেন, ‘আর তিন কদম এগোতে পারলে হয়তো শটটি ঠেকাতে পারতাম।’

এ ম্যাচই ছিল ৭৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসের শেষ বিশ্বকাপ। ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’