বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই আরো জমে উঠেছে। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করায় ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৬। এতে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট পাওয়ার লড়াইকে হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে নিয়ে গেলেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের ১৭তম ও ১৮তম গোল করে মেসির ১৯ গোলের সর্বকালের রেকর্ড থেকেও মাত্র এক কদম পিছিয়ে আছেন।

সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স উপহার দেন এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রসিকতা করে বলেন, ‘আমি এখন সবচেয়ে বেশি মুখিয়ে আছি ড্রেসিংরুম আর এয়ার কন্ডিশনারের জন্য।’

স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার ম্যাচে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সঙ্গে ছিল তীব্র আর্দ্রতা। গরমে প্রথমার্ধের পানি বিরতির সময় ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকা দিনিয়ে স্প্রিংকলারের পানিতে নিজেকে ভিজিয়ে নেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে দর্শকদের দারুণ এক গোল উপহার দেন। ৪৫তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলেন তিনি। এর পর সুইডিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর ইয়োকেরেসকে কাটিয়ে গোলরক্ষক ইয়াকব উইডেল জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন।

সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার বলেন, ‘বলাই বাহুল্য, এমবাপ্পে অসাধারণ মানের একজন খেলোয়াড়। তার গোলটি ছিল গতি, দিক পরিবর্তন এবং মুহূর্তের মধ্যে শট নেওয়ার দুর্দান্ত উদাহরণ। এটি অবিশ্বাস্য উচ্চমানের ফুটবল।’

এ গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলের তালিকায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদোকে ছাড়িয়ে যান এমবাপ্পে। এরপর ৭৪তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে নিজের ১০ম নকআউট গোল করে সেই রেকর্ড আরো বাড়ান।

প্রথম গোল করার পর এমবাপ্পে সরাসরি দৌড়ে যান কোচ দিদিয়ের দেশমের কাছে। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ইউরোপে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেঞ্চে থাকতে পারেননি দেশম। এটি ছিল তার ফিরে আসার প্রথম ম্যাচ।

এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানি, আমাদের প্রধান কোচ খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। এটি ফুটবলের চেয়েও বড় বিষয়। তিনি জানেন, আমরা সব সময় তার পাশে আছি এবং থাকব।’

বিশ্বকাপে মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মেসির ১৯ গোল এসেছে ২৯ ম্যাচে। অর্থাৎ গোল করার গড়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকার চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি এ ফরোয়ার্ড।

৮৫তম মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে নেয়ার সময় কোচ দেশম তাকে সম্মান জানিয়ে মাথা নত করেন। ফলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ আর পাননি। যদিও ৩২তম মিনিটেই গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত দুটি গোল করে সেই আক্ষেপ আর থাকেনি এমবাপ্পের। বিশ্বকাপ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের সেরা খেলাটাও খেলতে পারছেন বলে জানান তিনি।