যশোরে গরুর ক্ষুরা রোগ বাড়ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে জেলায় ২১৬টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। গরুর ক্ষুরা রোগ বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন মিলছে না। আবার বেসরকারিভাবেও রয়েছে ভ্যাকসিনের সংকট। যে কারণে খামারিদের বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনে গরুর শরীরে দিতে হচ্ছে।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটটি উপজেলায় ২১৬টি গরু গত এক মাসের ব্যবধানে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি গরু মারা গেছে। ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ২০টি, মণিরামপুরে ২১টি, শার্শায় নয়টি, বাঘারপাড়ায় ১৮টি, ঝিকরগাছায় ১৫টি, কেশবপুরে ১৫টি, চৌগাছায় ১১টি এবং অভয়নগরে রয়েছে আটটি গরু। তবে বাস্তবে ক্ষুরা রোগে আক্রান্তের হার আরো বেশি। কেননা প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের গরু এ রোগে আক্রান্ত হলেও তারা গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন। যে কারণে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছে সঠিক চিত্র আসছে না।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুল হক বলেন, ‘জেলায় ২১৬টি গরুর ক্ষুরা রোগ হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২০টির মতো গরু মারা গেছে। এ রোগের ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে বছরে ৮০ হাজার। সেখানে সরকারি পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৭ হাজার ২০০ ডোজ। সরকারি ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজ ২৫ টাকা হলেও বাইরে বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকায়। গরুকে ক্ষুরা রোগ থেকে বাঁচাতে হলে আগে থেকেই ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর আক্রান্ত হয়ে পড়লে খামারে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’ তবে বেশি সমস্যা হলে সরকারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তিনি খামারিদের পরামর্শ দেন। তার মতে, জেলায় প্রায় আট লাখ গরু রয়েছে। এগুলোকে সময়মতো ভ্যাকসিন দিতে পারলে এ রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব। তবে এখন কমার দিকে রয়েছে রোগটি।

সদর উপজেলার কচুয়ায় একটি বাগান বাড়িতে সৌখিনভাবে সাতটি উন্নত জাতের দেশী গরু লালন পালন করছেন এজাজ উদ্দিন টিপু নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘তার খামারে তিনটি গরুর ক্ষুরা রোগ হয়েছে। সরকারি পশু চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে।’

মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম জানান, উপজেলায় ২১টি গরুর ক্ষুরা রোগ হয়েছে। গরুগুলোকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন কম বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। বাইরে থেকে কিনে অনেকে ভ্যাকসিন গরুকে দিচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তপু কুমার সাহা জানান, উপজেলায় প্রায় এক লাখ গরু রয়েছে। সেখানে ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৬০ ডোজ যা দিয়ে কিছুই হয় না। তার পরও তারা সবসময় খামারিদের বছরে তিনবার ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন দেয়ার পরামর্শ দেন। সাধারণত কোরবানি ঈদের পর গরুর ক্ষুরা রোগ বেশি হয়ে থাকে। হাট থেকে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার কর্মকর্তা পারভেজ হাসান বলেন, ‘বাজারে ইনসেপ্টা, বাংলা এফএমডি ও ওয়ান ফার্মা গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন বিক্রি করে। তবে বেসরকারি পর্যায়েও সংকট চলছে ভ্যাকসিনের।’