সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। ৪২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ নগরের আয়তন ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাস্তাঘাট সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি নগর কর্তৃপক্ষ। এক বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেশির ভাগ সড়কে তৈরি হয়েছে গর্ত। উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিং। অধিকাংশ সড়ক এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাগরবাসী বলছেন, কয়েক বছর ধরে উন্নয়ন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর সবচেয়ে প্রাচীন পাইকারি বাজার কালীঘাট, মহাজনপট্টি ও লালদিঘীরপাড়। বর্তমানে এ তিন সড়কের অবস্থা বেহাল। সবচেয়ে বেশি বেহাল কালীঘাট সড়ক। ভাঙন আর গর্তের ফলে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া লালদিঘীরপাড় কিংবা মহাজনপট্টি সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের মতো অবস্থা নেই। কিচেন মার্কেটের আশপাশের সড়কেরও একই অবস্থা। একই রকম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আম্বরখানা থেকে টিলাগড় পর্যন্ত সড়কে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ বলেন ‘একদিকে ভাঙা সড়ক, অন্যদিকে বৃষ্টি। জনজীবন একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
পাঠানটুলার আরসিসি ঢালাইয়ের কিছু অংশ ছাড়া অধিকাংশ সড়কজুড়ে খানাখন্দ। উঠে গেছে কার্পেটিং। নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্দরবাজার। এ সড়কেরও বেহাল অবস্থা। বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ওসমানী শিশুপার্ক, সোবহানীঘাট সড়কেরও একই চিত্র। প্রতিদিন শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওসমানী হাসপাতাল, মদিনা মার্কেট, টুকেরবাজার যাতায়াত করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে চলাচল করার সময় যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয় প্রতিদিন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, করুণ অবস্থা লামাবাজার পয়েন্ট থেকে জিতু মিয়ার পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের। জেল রোড-নয়াসড়ক-শাহী ঈদগাহ সড়ক ও আম্বরখানা-শাহী ঈদগাহ সড়কের অবস্থাও বেহাল। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন পায়রা আবাসিক এলাকার অলিগলির সড়কের অবস্থায় করুণ। মাজার জিয়ারতে আসা ভক্ত-অনুরাগীসহ যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিলেটের বৃহৎ পাইকারি বাজার কালীঘাটের ব্যবসায়ী নিলাঞ্জন দাস টুকু বলেন, ‘কালীঘাটের সড়কের অবস্থা পুরো সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি পণ্য নিয়ে আসা-যাওয়া করে। সড়ক ভালো না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। একইভাবে সমস্যা হয় পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও।’
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘সড়কের গর্ত ভরাটের জন্য টেন্ডার হয়েছে। এখন বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে কাজ শুরু হবে।’
সিলেট সিটি করেপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকারে সিলেট অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি নেই। সিলেট বিদ্বেষী চক্র এ সুযোগ নিচ্ছে। ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না নগরীকে। একনেকে অনেক প্রকল্প পাস হচ্ছে সিলেট ছাড়া।’










